প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

স্বাস্থ্যরক্ষা ও পবিত্রতায় করণীয়

এসএম আরিফুল কাদের : ইসলাম পবিত্রতার ধর্ম। অপবিত্রতার কোনো স্থান নেই। ইসলাম বাহ্যিক পবিত্রতার পাশাপাশি আভ্যন্তরীণ পবিত্রতার প্রতিও গুরুত্ব দিয়েছে। মলমূত্র ত্যাগের পর পরিপূর্ণরুপে পবিত্র হওয়া ইসলামের অন্যতম বিধান। কেননা, তা থেকে পবিত্রতা অর্জন না করায় রয়েছে কবরের শাস্তি।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) মদিনার কিংবা মক্কার কোন গলি অতিক্রম করছিলেন, তখন মৃত দুই ব্যক্তির চিৎকার শুনতে পেলেন, যাদেরকে কবরে শাস্তি প্রদান করা হচ্ছিল। রাসূল (সা.) বললেন, তাদের দুজনকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। বড় কোন গুনাহের কারণে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। তারপর বললেন, হ্যাঁ এটা তোমাদের দৃষ্টিতে বড় নয় কিন্তু আল্লাহ তায়ালার দৃষ্টিতে তা বড় পাপ (কবিরা গুনাহ)। তাদের একজন ছিল এমন, সে প্রস্রাবের ফোঁটা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করত না। অপরজন চোগলখুরী করে বেড়াত। (সহিহ বুখারি ১ : ৩৫)

অন্য হাদিসে এসেছে রাসূল (সা.) বলেন, তোমরা প্রস্রাবের ফোঁটা থেকে সতর্কতা অবলম্বন কর, কেননা কবরের অধিকাংশ শাস্তি এ কারণেই হয়ে থাকে। (সুনানে দারেকুতনি ১ : ১৪)

রাসুল (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ইস্তিঞ্জার সময় কখনো শুধু পাথর বা ঢিলা ব্যবহার করতেন। শুধু পাথর বা কুলুখ ব্যবহার করে পবিত্রতা অর্জন করলে মূল ওয়াজিব আদায় হবে এবং কোনোরূপ গুনাহ হবে না। তবে পানি ব্যবহার করা সর্বাবস্থায় উত্তম। বিভিন্ন হাদিসে পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।

এখানে আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়। মলমূত্র পরিত্যাগের পরে পবিত্র হওয়ার দুটিপর্যায় রয়েছে। (ক) পবিত্রতা। অর্থাৎ মলমূত্র ত্যাগের পরে বসা অবস্থাতেই পানি বা পাথর দ্বারা ময়লা স্থানকে পরিষ্কার করা। (খ) সতর্কতা। এর অর্থ ইস্তিঞ্জার পরেও উঠে দাঁড়ালে বা হাঁটতে গেলে দু’এক ফোঁটা পেশাব বেরিয়ে আসতে পারে বলে ভয় পেলে গলা খাঁকারি দিয়ে বা কয়েক পা হাঁটাচলা করে সন্দেহ থেকে মুক্ত হওয়া। আরবিতে একে ‘ইস্তিবরা’ বলা হয়।

হাদিস শরিফে প্রথম পর্যায়ে ইস্তিঞ্জার জন্য পানি বা পাথর ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। একটি দুর্বল হাদিসে পেশাবের পরে বসা অবস্থাতেই তিনবার পুরুষাঙ্গ টান দেয়ার কথা বলা হয়েছে। (ইবনে মাজাহ, আস-সুনান ১ : ১১৮, আহমাদ, আল-মুসনাদ ৪ : ৩৪৭)

এ ছাড়া আর কোনো বিষয় হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়নি। রাসূল (সা.) বা তার সাহাবিগণ ইস্তিঞ্জার সময় পাথর বা ‘কুলুখ’ ব্যবহার করতে গিয়ে কখনো উঠে দাঁড়াননি, হাঁটাচলা, লাফালাফি, গলাখাঁকারি ইত্যাদি কিছুই করেন নি। পেশাব ও পায়খানা উভয় ক্ষেত্রেই তাঁরা স্বাভাবিকভাবে বসা অবস্থাতেই পাথর বা পানি ব্যবহার করে পরিচ্ছন্নতা অর্জন করেছেন।

পরবর্তী যুগের আলিমগণ সন্দেহের ক্ষেত্রে সতর্কতার জন্য এরূপ হাঁটা চলার বিধান দিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, মানুষের তবিয়ত বিভিন্ন প্রকারের। যদি কারো একান্ত প্রয়োজন হয় তাহলে উঠে দাঁড়িয়ে বা দুই এক পা হেঁটে, গলাখাকারি দিয়ে বা এধরনের কোনো কাজের মাধ্যমে তারা ‘পেশাব একদম শেষ হয়েছে’ -এ বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারে। আর যার মনে হবে যে, বসা অবস্থাতেই সে পরিপূর্ণ পাক হয়ে গিয়েছে তার জন্য সুন্নতের বাইরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। (আব্দুল হাই লাখনবী, মাজমূআতুল ফাতাওয়া, উর্দু ১ : ১৫৫)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত