প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তিন মাসেও বেসিক ব্যাংক নতুন এমডি খুঁজে পায়নি

রমজান আলী: বেসিক ব্যাংকের নতুন এমডি পদে যোগদানের জন্য আগ্রহী কাউকে খুঁজে পায়নি সরকার। রাষ্ট্রায়ত্ব বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের জন্য দেড় মাস আগে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো প্রার্থী এখনো এই পদের জন্য আবেদনই করেননি। তাই এখন আবার পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ব বেসিক ব্যাংকের সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগে বাধ্য হন আব্দুল হাই বাচ্চু। বাচ্চুকে ২০০৯ সালে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে ২০১৪ সালে চাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন। বাচ্চু চেয়ারম্যান থাকাকালেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংটির ঋণ বিতরণে অনিয়মের ঘটনাগুলো ঘটে, পরে দুদক ৫৬টি মামলা করে। তাই এই পরিস্থিতিতে কোনো পেশাজীবী ব্যাংকারই বেসিক ব্যাংকের দায়িত্ব নিতে চাচ্ছেন না।

এই ব্যাংকটির এমডি মুহাম্মদ আউয়াল খান গত ১৪ আগস্ট পদত্যাগপত্র জমা দেন। দায়িত্ব নেওয়ার ১০ মাসের মাথায় তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তার মেয়াদ ছিল। এরপর থেকে পদটি খালি রয়েছে। তার পদত্যাগপত্র গত ৩০ আগস্ট বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদে উত্থাপন করা হয়। কিন্তু পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ না করে বলা হয়, নতুন এমডি নিয়োগ দেওয়ার সাথে সাথে তার পদত্যাগপত্রটি গৃহীত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। ঋণ কেলেঙ্কারিসহ নানা সমস্যায় ডুবতে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকটিকে বাঁচাতে গত বছরের ১ নভেম্বর আউয়াল খানকে এমডি নিয়োগ করেছিল সরকার। বেসিক ব্যাংক পরিষদে ১১টি সভায় ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে ৩ হাজার ৪৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যার অধিকাংশ ঋণই গুরুতর অনিয়ম সংঘটনের মাধ্যমে করা হয়েছে। এই ঋণ পরিশোধ বা আদায় হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেও মত দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

এছাড়া নতুন এমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে অথবা লিয়েনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের জন্য বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা যাচ্ছে। এই পদে আবেদনকারীর ব্যাংকিং পেশায় সক্রিয় কর্মকর্তা হিসেবে কমপক্ষে ১৫ বছরের কর্ম অভিজ্ঞতা এবং ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক/প্রধান নির্বাহী অব্যবহিত পূর্ববর্তী পদে অথবা প্রধান নির্বাহী পদে অথবা উভয় পদে কমপক্ষে এক বছরের কর্ম অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে বেসিক ব্যাংকের ৫৯ দশমিক ২২ শতাংশ ঋণই খেলাপি। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ এখন ৮ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। আর ৬৮টি শাখার মধ্যে ২১টিই লোকসানে। পুনঃতফসিল করা অনেক ঋণও খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ব্যাংকটি বড় ধরনের লোকসানের মুখে রয়েছে। কেলেঙ্কারির পর এখন পর্যন্ত বেসিক ব্যাংককে বাজেট থেকে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার। তাতেও খুব একটা লাভ হয়নি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যাংকে এমডি নিয়োগ দেয়ার দায়িত্ব সরকারে। এছাড়া তিনি আরো বলেন, যতোদিন এমডি না পাওয়া যায়, ততোদিন পর্যন্ত এমডির দায়িত্ব পালন করবে ডিএমডি (ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচারক হিসাবে)। সেক্ষত্রে এমডি না পাওয়া গেলে কোন সমস্যা দেখছি না। সম্পাদনা : শাহীন চৌধুরী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ