প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রতিদিন ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন সম্ভব
গ্যাস সংকট সমাধানে ছাতক ফিল্ডের রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা

শাহীন চৌধুরী: দেশের গ্যাস সংকট মোকাবেলায় ছাতক গ্যাস ফিল্ডের রয়েছে ব্যাপক সম্ভাবনা। কিন্তু কানাডিয়ান কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেস লিমিটেডের সাথে মামলা জটিলতার কারনে দেশের সম্ভাবনাময় ছাতক গ্যাস ফিল্ড থেকে গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভবপর হচ্ছে না। অথচ এই গ্যাস ফিল্ড থেকে প্রতিদিন অন্তত ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করে জাতীয় গ্রীডে দেয়া সম্ভব। আর এই গ্যাস উত্তোলন করা গেলে দেশের গ্যাস সংকট সমাধানে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। সরকার ছাতক গ্যাস ফিল্ডের বিষয়টি বর্তমানে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। ফলে শিগগিরই এই গ্যাস ফিল্ড উন্নয়নের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। খবর জ্বালানি বিভাগ সূত্রের।

সূত্রমতে, ছাতক গ্যাস ফিল্ডের স্ট্রাকচারাল এরিয়া ৩৭৬ স্কয়ার কিলোমিটার। সুরমা বেচিনের এই গ্যাস ফিল্ডটি সিলেট শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে অবস্থিত। সুনামগঞ্জ জেলার দুয়ারাবাজার উপজেলায় অবস্থিত এই গ্যাস ফিল্ডে গ্যাস অবিস্তৃত হয় ১৯৫৯ সালে। ছাতক ইস্ট ও ছাতক ওয়েস্ট মিলিয়ে এই গ্যাস ফিল্ডে ৭৫ কিলোমিটার সাইসমিক সার্ভে করা হয়। এখানে প্রথম ২ হাজার ১৩৫ মিটার কুপ খনন করা হয়। ১ হাজার ৯০ মিটার থেকে ১ হাজার ৯৭৫ মিটারের মধ্যে গ্যাস পাওয়া যায়। ১৯৬০ সালে এই ফিল্ডে গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়।

ছাতক ওয়েস্ট গ্যাস ফিল্ড থেকে ২৫ বছরে জিএইচপি মাত্র ২৬ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করে। এখানে তারা গ্যাসের মজুত ধরেছিল ২৬৫ বিলিয়ন ঘনফুট। ছাতক ইস্ট গ্যাস ফিল্ডের ওই সময় মজুত ধরা হয়েছিল ৮৩১ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। সর্বশেষ এই গ্যাস ফিল্ডের পশ্চিমাংশে বাপেক্সের সাথে যৌথ উদ্যোগে গ্যাস উত্তোলনের জন্য নাইকো চুক্তি স্বাক্ষর করে ২০০৩ সালের ১৬ অক্টোবর। নাইকোর গ্যাস উত্তোলনের সময় এই ফিল্ডের ট্যাংরাটিলা অংশে গ্যাস দুর্ঘটনা ঘটে। ফলে গ্যাস ফিল্ডটি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ফলে এখান থেকে গ্যাস উত্তোলন বন্ধ হয়ে যায়। সরকার এই গ্যাস দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ চেয়ে নাইকোর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। বেশ কয়েক বছর মামলা চলার পর এক পর্যায়ে নাইকো এদেশ থেকে ব্যবসা গুটিয়ে চলে যায়।

কেয়ার্নের সর্বশেষ জরিপ মতে, এই গ্যাস ফিল্ডে ২ হাজার বিলিয়ন বা ২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ১ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন গ্যাস উত্তোলনযোগ্য। ওই জরিপে ৩-ডি সাইসমিক সার্ভে করার পাশাপাশি ছাতক ইস্ট অংশে ৪টি ডেভেলপমেন্ট ওয়েল এবং ছাতক ওয়েস্টে ২টি ডেভেলপমেন্ট ওয়েল করার সুপারিশ করা হয়। তাহলেই এই ফিল্ড থেকে দিনে অন্তত ১৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রীডে দেয়া সম্ভব হবে।

এই গ্যাস ফিল্ডের উন্নয়নের ব্যাপারে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ড: তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, গ্যাস ফিল্ডটি উন্নয়নের ব্যাপারে সরকার সক্রিয় ভাবে চিন্তা করছে। ইতিমধ্যেই রাশিয়ান কোম্পানি গ্যাজপ্রম ছাতক ফিল্ড নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, আইনগত ঝামেলা দূর হবার পরই আমরা এই গ্যাস ফিল্ড উন্নয়ন করবো।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দেশের মারাত্মক এই গ্যাস সংকটের সময়ে ছাতক গ্যাস ফিল্ডের ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ। তাদের মতে, এলএনজি দিয়ে সংকট মোকাবেলার চেয়ে নিজস্ব ফিল্ড থেকে গ্যাস উত্তোলন করা গেলে তা হবে আমাদের জাতীয় অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ