প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মাগুরার মহম্মদপুরে দেশি-বিদেশি কবুতর পালনে তুরানের সাফল্য

রক্সী খান, মগুরা প্রতিনিধি: হাঁস- মুরগী ছাগল কিংবা গবাদি পশু পালন করে ব্যাপক সাফল্য অর্জনের কথা অনেক শুনেছি। আমাদের দেশে কবুতর পালন করে অর্থনৈতিক ভাবে সাফল্য অর্জন খুব একটা শোনা না গেলেও নিরবে নিভৃতে এই সাফল্য অর্জন করে চলেছে নাবিদ হাসান তুরান নামে এক যুবক। এলাকায় তিনি কবুতর প্রেমি নামেও বেশ পরিচিত। তুরানের এ কবুতর পালনের সাফল্য দেখে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আরোও বেশ কিছু কবুতরের খামার গড়ে উঠেছে।

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বাশোঁ গ্রামের মোঃ আজিজার মোল্যার ছেলে তুরান। বয়স প্রায় ২২ বছরের কাছাকাছি। তারুণ্যকে কাজে লাগিয়ে নিজ বাড়ির ছাদে খুব সুন্দর পরিবেশেয় গড়ে তুলেছেন কবুতর খামারটি। প্রচার বিমুখ হবার কারণে সাফল্যের খবরটি সংবাদ মাধ্যমে আসেনি। তাকে দেখে এ অঞ্চলের তরুণ প্রজন্ম ক্রমেই কবুতর পালনে ঝুঁকছে।

২০১৪ সালে মাত্র ৩ জোড়া কবুতর দিয়ে তুরান কবুতর পালনের এই যাত্রা শুরু করে। প্রথমে ইন্টারনেটে বিদেশি বিভিন্ন উন্নত জাতের কবুতরের ছবি দেখে কবুতর পালনে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। তবে প্রথমে শুধু মাত্র শখের বশেই কবুতর পালন শুরু করেছে বলে জানায় এই যুবক। কবুতর খামারটি স্থাপনে এখন প্রতি বছরে তিনি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা আয় করেন।

সরেজমিনে তুরানের সাফল্যগাঁথা কবুতর খামারটি ঘুরে দেখা গেছে, আলাদা আলাদা খাঁচায় পালনরত বিভিন্ন দেশি বিদেশি উন্নত জাতের রং বেরঙের কবুতর গুলোকে খাবার সরবরাহে ব্যস্ত রয়েছে খামারি তুরান। দেশি বিদেশী কবুতরের মধ্যে ফ্রিলবাক, সিরাজি, নরেশ, কোপার, পুটার, বসিয়ানি, ট্যামলার, হলুদ, শিখর ক্যারিয়ার, হোমা সাদা, সো কিং লাল, সো কিং সাদা, মুন্ডিয়ান চকলেট, টেইলমারক হলুদ, টেইলমারক কালো, বোখারা, সারটিন, কাগজি, গ্রিবাজ, টেগোরোলা হলুদ, মুক্ষি জ্যাকোবিন, ক্রীমবারসহ বিভিন্ন রংয়ের বিভিন্ন জাতের ৩৫ জোড়া কবুতর রয়েছে তুরানের এই খামারটিতে। এছাড়াও সময় প্রাপ্তি সাপেক্ষে উন্নত জাতের কবুতর সংগ্রহ করা হয়ে থাকে বলেও জানান খামার মালিক।

এই কবুতর পালনে তার মা- বাবা ভাই তাকে সহযোগিতা করেন। বিভিন্ন সময় রোগবালায় বেড়ে গেলে কবুতর পালন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। সে সময় খাবার ও ঔষুধের দিকে বেশ নজর রাখতে হয়। খাবারের মধ্যে, সূর্য্যমুখির ফল, গম, ভুট্টা, কলায়, বাজারী, মুসরি, মুগডাল, মাসকলায় প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তুরানের মতই অনেক খামারি রয়েছে। যে খামার গুলো থেকে পছন্দ অনুযায়ী এ সব উন্নত জাতের কবুতর সংগ্রহ করা হয়।

নাবিদ হাসান তুরান জানান, তার খামারে ৩৫ প্রজাতির কবুতর রয়েছে। খাবার ঔষুধ এবং অন্য খরচসহ কবুতরের জন্য প্রতি মাসে ব্যয় হয় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। প্রতি মাসেয় দু’এক জোড়া করে নতুন বাচ্চা দেয়। আর প্রতি বছরে কবুতর বিক্রি হয় ৭০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকার মতো।

তার মতে কবুতরের খামার একটি লাভজনক ব্যবসা। তিনি বেকারত্ব দূর করার জন্য অনেক শিক্ষিত যুবককে কবুতরের খামার করতে উদ্বুদ্ধ করেন। পড়ালেখার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা শখ পূরণ ও আয়ের অন্যতম মাধ্যম হিসাবে এই কবুতর পালন শুরু করতে পারেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ