প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কমলগঞ্জে এসএসসির ফরম পূরনে অতিরিক্ত টাকা অাদায়ের অভিযোগ

সাদিকুর রহমান সামু, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) : মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এসএসসির ফরম পূরনে বোর্ডের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত ফি আদায় নিয়ে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক মহলে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

২০১৯ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ফরম পূরণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী প্রতি সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬০০ টাকা। বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। আর মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফি আরো কম। তাদের ফি সর্বোচ্চ ১৪২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জানা যায়, শিক্ষা বোর্ডগুলো এসএসসির ফরম পূরণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী প্রতি ন্যুনতম ফি নির্ধারণ করলেও স্কুলগুলো ২৪০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করে থাকে। তবে বোর্ডের কড়াকড়ির কারণে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই এখন ভিন্ন পন্থায় অতিরিক্ত ফি আদায় করছে। যার ফলে গরীব ছাত্র-ছাত্রীরা অতিরিক্ত ফি দিতে হিমশীম খাচ্ছেন। আর অবিভাবকরা তাদের ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যত শিক্ষা জীবনের কথা চিন্তা করে দার-দেনা ও সুদী লগ্নি করে স্কুল কতৃপক্ষের চাহিদা মতে টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

এতে অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ছাত্র-ছাত্রীরা জানান,কোচিং, স্কাউট, বিদ্যুৎ বিল, দালান উন্নয়ন, পাঠাগার, রশিদ, ক্রীড়া, শিক্ষক কল্যাণ ফান্ডসহ বিভিন্ন কারন দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, শিক্ষকরা টাকা ছাড়া কিছুই বুঝেননা। গরীব মানুষ পরের ক্ষেতে কামলা খেটে/ ভ্যান-রিক্সাসা ঠেলে ছেলে-মেয়েকে লেখাপড়া করান। এসএসসি পরীক্ষার ফরম পুরণে অতিরিক্ত ফি আদায় করছে শিক্ষকরা।

তাদের চাহিদা মেটাতেই নিজেদের ঘাম ঝড়ানো রুজি করা টাকা তুলে দিতে হচ্ছে শিক্ষকদের হাতে। আলাপকালে কমলগঞ্জ মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রনেন্দ্র কুমার দেব বলেন,আমরা বোর্ড নির্ধারিত ফি নিচ্ছি। আর যদি কোন ছাত্র-ছাত্রী বিশেষ ক্লাস করতে চায় তাহলে তাদের ইচ্ছায় অতিরিক্ত ৫০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। কমলগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার শামছুন নাহার পারবিন বলেন, অতিরিক্ত ফি নেয়ার কোন সুযোগ নেই। এ ধরনের কোন অভিযোগ তাদের কাছে নেই। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিব।