প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুদবিহীন ঋণে কেনা সচিবদের গাড়ি পাঠাও-উবারে

ডেস্ক রিপোর্ট : জনপ্রশাসনের গুরুত্বপূণর্ কমর্কতার্ যুগ্ম সচিব ও উপসচিব। তাদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য ২০১৭ সালে সাবর্ক্ষণিক গাড়ি সুবিধা দেয়া হয়। তাদের গাড়ি কেনার জন্য বিনা সুদে ৩০ লাখ টাকা করে দেয় সরকার। সেই সঙ্গে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাবদ প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সরকারের ভাবনা ছিল, কমর্কতাের্দর গাড়ি কেনার সুবিধা দেয়া হলে পুলের গাড়ি ও চালক সংকট দূর হবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে উল্টো। বেশিরভাগ কমর্কতার্ সুদবিহীন ঋণে গাড়ি কিনে পাঠাও-উবারের মতো অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারে ভাড়া খাটাচ্ছেন। আর তারা আগের মতোই পরিবহন পুলের গাড়ি ব্যবহার করছেন। এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টরা যেন পুলের গাড়ি আর ব্যবহার না করেন, সে জন্য দুনীির্ত দমন কমিশন (দুদক) থেকে মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

জানা যায়, গাড়ির ঋণ সুবিধাভোগী যুগ্ম সচিব ও উপসচিবদের পুলের গাড়ি ব্যবহার না করতে দুদক থেকে গত ১২ আগস্ট মন্ত্রিপরিষদে চিঠি পাঠানো হয়। মন্ত্রিপরিষদ সেই চিঠি পহেলা নভেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। জনপ্রশাসন আবার প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের কাছে ৯ নভেম্বর চিঠির অনুলিপি পাঠায়।

পরিবহন পুল সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রণালয়ে যুগ্ম ও উপসচিবদের মধ্যে অনেকেই সুদবিহীন ঋণের টাকায় গাড়ি কিনে উবার ও পাঠাওয়ে ভাড়া দিয়ে পরিবহন পুলের গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে মন্ত্রণালয়ের যেসব কমর্কতার্ এখনো সুদবিহীন ঋণের টাকায় গাড়ি কেনেননি, তাদের অনেকেই পুলের গাড়ির সেবা পাচ্ছেন না। পরিবহন পুলে এ নিয়ে বড় ধরনের একটা চক্র তৈরি হয়েছে।

সরকারি কমর্কতাের্দর মযার্দা অনুযায়ী, গাড়ির ঋণের সুবিধা নেননি ধমর্ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কমর্কতার্ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন। বতর্মানে তিনি মন্ত্রীর পিএসের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যারা ঋণের সুবিধা নিয়েছেন, তারাই আবার পুলের গাড়ির সুবিধা পাচ্ছেন। অথচ ধমর্ মন্ত্রণালয়ের যেসব কমর্কতার্ ঋণ সুবিধা নেননি, তারা পুলের গাড়ির সুবিধা পাচ্ছেন না। তবে ভিন্নতা দেখা যায় তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর জনসংযোগ কমর্কতার্ আকরামের বেলায়। তিনিও জনসংযোগ কমর্কতার্র পাশাপাশি পিএসের দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে অবশ্য পুলের গাড়ির সুবিধা দেয়া হয়েছে।

সুদবিহীন ঋণের টাকায় সরকারি কমর্কতার্রা গাড়ি কিনলে পরিবহন পুলের কিংবা মন্ত্রণালয়ের গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন না। কিন্তু শ্রম ও কমর্সংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব অমর চান বণিক ঋণের টাকায় গাড়ি কিনলেও মন্ত্রণালয়ের গাড়ি ব্যবহার করছেন এবং গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা সরকারের কাছ থেকে নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত গাড়ি বলতে কোনটা? ঋণের টাকায় গাড়ি কিনে সবাই তো মন্ত্রণালয়ের গাড়ি ব্যবহার করছেন, সেখানে আমি ব্যবহার করলে দোষের কি? তিনি আরও বলেন, মন্ত্রীর পিএস হিসেবে পুরনো ভাঙা গাড়ি ব্যবহার করছেন। কলকারখানা একটি ভাঙা গাড়ি মন্ত্রণালয়কে দিয়েছে, সেটি মন্ত্রণালয় তাকে দিয়েছে।

একই অবস্থ্য শ্রম ও কমর্সংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহজাহান মিয়ার। তিনিও ঋণের টাকায় গাড়ি কিনে মন্ত্রণালয়ের ঢাকা মেট্রো- চ ৫৬-১০৮০ নম্বর গাড়ি ব্যবহার করছেন।

বাদ যায়নি বাণিজ্যমন্ত্রীর সাবেক পিএস মুন্সী সফিউল হক। বতর্মানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি পিএস থাকাকালীন ঋণের টাকায় গাড়ি কিনে মন্ত্রণালয়ের গাড়ি চালাতেন। বিষয়টি বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের নজরে এলে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা সরকারি খাতে জমার নিদের্শ দেন। পরে অবশ্য সফিউল হক সরকারি খাতে টাকা জমা দেন। মন্ত্রীর সাবেক এই পিএস প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করলেও পরবতীর্তে বলেন, কত টাকা ফেরত দিয়েছেন, সেটি বলতে পারবেন না। তবে নিজে স্বচ্ছ থাকতে সরকারি খাতে টাকা ফেরত দিয়েছেন। বতর্মানে তিনি নিজস্ব গাড়ি ব্যবহার করছেন।

এদিকে কিছুদিন আগে পাবতর্্য চট্টগ্রাম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নাসিরুল আলম মন্ত্রণালয়ের গাড়ি ব্যবহার করতেন, ঋণের টাকায় কেনা গাড়ি উবারে ভাড়া দিতেন। এখন এই কমর্কতার্ চট্টগ্রামে শিপিং করপোরেশনে আছেন।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, জনপ্রশাসন থেকে তাদের মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বলা হয়েছে, অনেকে সুদবিহীন ঋণের টাকায় গাড়ি কিনে সেটা উবার ও পাঠাওয়ে ভাড়া দিয়ে পুলের গাড়ি ব্যবহার করছেন। এ ধরনের ঘটনা দুই-একজন যুগ্ম সচিব করলে, তা সব যুগ্ম সচিবের কঁাধে চাপানো হয়েছে। এটি তাদের জন্য বেশ লজ্জার।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন বিভাগে কাজ করেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, দুদক থেকে প্রথমে যুগ্ম সচিবদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছিল। গত বৃহস্পতিবার আবার উপসচিবদের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলে দুদক চিঠি পাঠিয়েছে।

এ বিষয়ে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের পরিচালক মো. শাহজাহান আলী (যুগ্ম সচিব) বলেন, সুদবিহীন ঋণ সুবিধা নেয়ার পর যুগ্ম ও উপসচিবরা পুলের গাড়ি ব্যবহার করছেন কিনা, তা তিনি সঠিকভাবে বলতে পারবেন না। কারণ, তিনি এখানে নতুন যোগদান করেছেন। এমনকি ঋণে গাড়ি কিনলে পুলের গাড়ি ব্যবহার করা যাবে না। এ ব্যাপারে দুদক থেকে তার কাছে কোনো চিঠি আসেনি।

সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সড়ক) আবুল খায়ের মল্লিক বলেন, যারা সুদবিহীন গাড়ির ঋণ নিয়ে পুলের গাড়ি ব্যবহার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। যায়যায়দিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত