প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাল সেই ভয়াল ১২ নভেম্বর

জয়নুল আবেদীন, আমতলী (বরগুনা) : ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে দেশের ওপর দিয়ে হ্যারিকেন রূপী ঘূর্ণিঝড় গোর্কী আঘাত হানে। ১২ নভেম্বর সেই ভয়ঙ্কর ঘুর্ণিঝড়ের ৪৮তম বার্ষিকী। ওই ঘূর্ণিঝড়ে আমতলী ও তালতলীর কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল কোটি কোটি টাকার সম্পদ।

সেই ঘুর্নিঝড় গোর্কির তান্ডবে উপকূলের জেলা বরগুনা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, ভোলা ও বরিশালের জনজীবন লন্ডভন্ড করে দিয়েছিল। এতে প্রাণহানি ঘটেছিল তিন লক্ষাধীক মানুষের। অসংখ্য গবাদিপশু মারা গিয়েছিল। হাজার হাজার গাছপালা উপড়ে পড়ে ছিল। হাজার হাজার হেক্টরের আমন ক্ষেতের ধান ধংস হয়েছিল। চার দশক পরও সেই রাতের বিভীষিকাময় স্মৃতি এ অঞ্চলের স্বজনহারা মানুষদের ব্যথিত করে। সে রাতে ঘুর্ণিঝড় গোর্কীর বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘন্টায় ১৭০ কিলোমিটার।

সমুদ্র উপকূলের চরাঞ্চল গুলো জন মানব শুন্য হয়ে পরেছিল। সমুদ্রের পানি ধীরগতিতে বেড়ে নিম্নাঞ্চল গুলো ১৫-২০ ফুট উচ্চে জলোচ্ছাসে প্লাবিত হয়েছিল। এ ঘুর্ণিঝড়টি মাঝ রাতে আকর্ষিক বন্ধ হয়ে যায়। ২ ঘন্টা পরে পুনরায় ঝড়ের তান্ডব শুরু হলে যারা আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বের হয়ে বাড়ী ফেরার চেষ্টা করে তারা আর বাচঁতে পারেনি। জলোচ্ছাস তাদের ভাসিয়ে নিয়ে যায়। এ কারনে প্রাণহানী সংখ্যা বেশী হয়েছিল। ৪৮ বছর পরেও এ ঘটনা স্বজনহারাদের মনে রেখাপাত করে। আজ দিনটি উপলক্ষে স্বজনহারা পরিবারগুলো মিলাদ-মাহফিল, দোয়া-মোনাজাত ও বিশেষ প্রার্থনা সভার আয়োজন করেছে।

তালতলীর লেমুয়া গ্রামের আশি বছর বয়সি ওয়ারেস কাজী বলেন “বইন্যায় এ দ্যাশের হাজার হাজার মানু মইর‌্যা গ্যাছে। মানুষ মরা গোন্ধে ঘরের মধ্যে টেকতে পারি নাই। যেহানে গ্যাছি হেইহানেই এ্যাকছের মরা মানু”। আমতলীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম পাশা তালুকদার বলেন ৭০ বন্যায় উপকূলীয় অঞ্চলের ব্যাপক প্রাণহানী ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছিল।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ