প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চরম ভোগান্তির শিকার বিকাশ গ্রাহকেরা

ডা. জাকির হোসেন : বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিং ফোন ভিত্তিক অর্থ আদান প্রদানের একটি সার্ভিস। মোবাইল ফোনে বিকাশ একাউন্ট খুলে একজন গ্রাহক বাংলাদেশের যেকোনো স্থান থেকে তার মোবাইলে অর্থ জমা, উত্তোলন এবং নিজের মোবাইল থেকেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে অর্থ স্থানান্তর করার সুযোগ পেয়ে থাকেন। ২০১১ সালের জুলাই মাস থেকে ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু বিকাশের। শুরুতে নানা সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহককে আকৃষ্ট করে এখন গ্রহাকদের সাথে গোপন প্রতারনার খেলায় মেতে উঠেছে বিকাশ।আর্থিক প্রতারনার এক মহা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকের এই সাবসিডিয়ারি এই প্রতিষ্ঠানঠির।

শুরুতে গ্রাহক কোন একাউন্ট খুলতে গেলে তাদের জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি দিয়েই একাউন্ট খুলে দেয় বিকাশ। এরপর একাউন্টে গ্রাহক অর্থ মজুত করার পর কিছুদিন পর মোবাইলে মেসেজের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকায় আপনার একাউন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।এই মেসেজ পাওয়ার পর গ্রাহকেরা কোনভাবেই একাউন্ট থেকে আর টাকা উত্তোলন করতে পারে না।এখন প্রশ্ন হলো প্রয়োজনীয় তথ্য না নিয়ে কিভাবে একজন গ্রাহকের একাউন্ট খুলে দেয় বিকাশ?প্রতারনার এখানেই শেষ নয়।

এই একাউন্ট এক সপ্তাহের ভিতর প্রয়োজনীয় তথ্য সহ নিয়ে গিয়ে আবার ভেরিফাই করে একাউন্ট পুনরায় একটিভ না করলে স্থায়ীভাবে একাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। যার ফলে গ্রাহকেরা তাদের নিজ একাউন্টের টাকা উত্তোলন করতে পারে না। বিকাশ গ্রাহকদের পদে পদে ভোগান্তির শেষ নেই। কোন গ্রাহক প্রয়োজনীয় তথ্য নিয়ে পুনরায় একাউন্ট একটিভ করার সুযোগ একেবারেই কম। সার্ভিস সেন্টারের নামে হাতে গোনা কয়েকটি সেন্টার আছে।যেগুলোতে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি সাহায্যের অপেক্ষায় গ্রাহকেরা র্দীঘ সারিতে লাইন ধরে দাড়িঁয়ে থাকতে দেখা যায়। র্দীঘক্ষন দাড়িঁয়ে থেকেও গ্রাহকেরা তাদের প্রয়োজনীয় সেবা পায় না।

কারণ সেখানে কোন গ্রাহকের মোবাইলের লেনদেনের মেসেজ মুছে গেলে ভোগান্তি আরো বহুগুনে বেড়ে যায়। র্দীঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার পর তাদের জানিয়ে দেওয়া হয় আপনার একাউন্টটি আর সচল করা সম্ভব নয়। যার ফলে বহু গাহকেরা তাদের আটকে থাকা টাকা আর উঠাতে পারেন না। আর এই সকল ভোগান্তির সুরাহা করতে তাদের দৌড়াতে হচ্ছে বিকাশ সেন্টারের দ্বারে দ্বারে। এই সকল ভোগান্তির পাশাপাশি প্রয়োজনের সময় এজেন্টের কাছে গিয়ে টাকা না পাওয়া ,অতিরিক্ত র্চাজ কর্তনের অভিযোগ বহুদিন ধরেই আছে। বিকাশ ব্যাংকিং নিয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনেক আশার সঞ্চার হয়েছিল।

কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রয়োজনীয় মনিটরিং এর অভাবে এই ম্বোাইল ব্যাংকিং এখন দরিদ্র জনগোষ্ঠীরই গলার কাটা হয়ে আবির্ভূত হয়েছে।এর আগে গত মার্চ মাসে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করায় প্রায় ৬ লাখ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়। সেগুলোরও অধিকাংশ ছিলো বিকাশ নাম্বার। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে মোবাইল ব্যাংকিং এর নামে প্রতারনার হাত থেকে বাচাঁতে বিকাশের উপর এখন নজরদারি বাড়ানো দরকার।নতুবা সবার অজান্তেই সমাজের একটি বৃহত্তর অংশ আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

পরিচিতি: চিকিৎসক ও কলামিস্ট/সম্পাদনা: ফাহিম আহমাদ বিজয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ