প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পরিবহন ও যানজট : সমাধান কোথায়?

রবিউল আলম : যাত্রি গন্তব্যে যাওয়ার গাড়ি নাই। যানজট থেকে মুক্তি নাই। পরিবহনের অব্যবস্থাপনার শেষ নাই। পরিবহন নেতা, মালিক, পুলিশ নিয়ে আলোচনার শেষ কোথায় জানা নাই। নাগরিকরা সচেতন কবে হবে, কিভাবে হবে তার কোন নির্দেশনা নাই। এতগুলো প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নাই। তবুও ভাবনার বিষয়। নিজের অজান্তে কিছু পুরনো স্মৃতি ভেসে উঠছে মনে, ১৯৬৩ সালে ঢাকায় আসি। আমার জন্মস্থান ভারতের আসাম রাজ্যে। নওগাঁ থেকে গোহাটি, গোহাটি থেকে ত্রিপুরা হয়ে আখাউরা, আখাউরা থেকে ঢাকার ফুলবাড়িয়া ট্রেন পথে তিনদিন। দুই একটি গাড়ি যে দেখি নাই তা নয়, কিন্তু মনে পড়ছে না।

ঢাকায় নেমে কাঁঠালবাগান মামার কাছে নানার কারখানায়। কোন যাত্রি পরিবহন চোখে পড়ে নাই, রিকসায় চড়ে আসতে হয়েছে। পরে মিরপুরের আলোকদি গ্রামে বসবাস। মিরপুর মাজারের বাজারে বাবার দোকানে আসা-যাওয়া করতে হয়। দু’টি যাত্রি পরিবহন চিড়িয়াখানা রোড হয়ে মাজার রোড হয়ে লালবাগ দিয়ে চকবাজার হলো ঢাকা। রাতে ফিরতি পথে টিন পিটিয়ে গাড়ি চলতে হতো বাঘের ভয়ে। পাঁচটি গাড়ি বাহাদুর শাহ পার্ক-নারায়ণগঞ্জ, তিনটি গাড়ি নয়ারহাট-চকবাজার। কিছু গাড়ি নরসিংদী-ঢাকা, জিনজিরা-রুহিতপুর মমিন কোম্পানির গাড়ি। ৫০টি গাড়ি নিয়ে পূর্ব পাকিস্তান। বর্তমানের বাংলাদেশের পরিবহন দেখে ভাবনার বিষয় মেলাতে পারছি না। দেশের উন্নয়নের গতির সাথে রাস্তা-ব্রিজ, পরিবহনের বিস্ময়।

শত শত যাত্রি দাঁড়িয়ে আছে পরিবহনের অপেক্ষায়। পরিবহন দাঁড়িয়ে আছে যানজটের কারণে। কত শত, হাজার গাড়ি নিয়ে বাংলাদেশকে জানে। একদিকে নিয়ম নাই, নাই কোন নিয়ন্ত্রণ। আইন আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন নাই। গাড়ি আছে, চালক নাই, চালক আছে, চাকরি নাই। যাত্রি আছে গাড়ি নাই, পুলিশ আছে নিয়ম নাই। গাড়ি উল্টে পড়ে আছে, পুলিশ নাই। ফুটপাত আছে, জনসাধারণ হাঁটে না। রাস্তায় অনিয়ম ছাড়া বোঝেন না। শ্রমিক নেতা আছে, গাড়ির চাঁদা নেওয়ার মানুষ আছে। শ্রমিকের রাস্তা নাই, সচেতন করার কোন সংস্থা নাই।

উপদেশের অভাব নাই। এই হযবরল পরিবহন ব্যবস্থা করে শৃঙ্খলায় আসবে কবে জানা নাই। তারপরেও পরিবহন ছাড়া উপায় নাই। দেশের অর্থনীতি আকাশ ছুঁয়েছে, পাবলিক পরিবহন না দেখলে বোঝার উপায় নেই। আশার আলো দেখাবে জনগণ সচেতন হয়ে। আশায় থাকলাম। আগে গ্রামের মানুষ ধর্মঘট করেছে গাড়িতে চড়বে না বলে, আর এখন পরিবহন মালিকরা ধর্মঘট করে যাত্রিদের জিম্মি করে দাবি আদায়ের, জনতার চাপে সরকারও কিছু আইন করে ফেলে। একসময় ফিরে আসতে হয় রাষ্ট্রীয় স্বার্থে, দেখার বিষয় কি হয় কে জানে।

সম্পাদনা: ফাহিম আহমাদ বিজয়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ