প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইসি কি সুষ্ঠু নির্বাচনের আশ্বাস বাস্তবায়ন করতে পারবে?

আশিক রহমান : জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ভাষণে সিইসি নুরুল হুদা সবার সহযোগিতা পেলে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে সফল হবেন বলে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। তার এই আশ্বাসে কী ভরসা রাখা যায়? সিইসি থাকতে পারবেন কী তার এই অনড় অবস্থানে? এ ব্যাপারে দুজন বিশ্লেষক দুইরকম মত প্রদান করেছেন।

সিপিবির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনজুরুল আহসান খান বলেন, সিইসি বা নির্বাচন কমিশনের ওপর আমরা ভরসা করবো কীভাবে? রাজনৈতিক দলগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলো, কিন্তু তিনি তা শুনেননি। সিইসি তো বিরোধীদলগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। সংলাপে চূড়ান্তভাবে কী হয় তা দেখা উচিত ছিলো। তাও দেখলেন না। ফলে এখন তো তার কাছে থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন আশা করার কিছু আছে বলে মনে হয় না।

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি স্বপ্রণোদিত হয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়, বিরোধী দলগুলোর দাবি মেনে নেয় তাহলে নির্বাচন কিছুটা সুষ্ঠু হতে পারে। নির্বাচনের ব্যাপারে তো এখন কোনো আগ্রহই সৃষ্টি হয়নি বিরোধীদলগুলোর মধ্যে। এক আওয়ামী লীগ অফিসেই হইহুল্লোড় চলছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার সুষ্ঠু নির্বাচন ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার যে আশ্বাস দিয়েছেন তার ওপর আমাদের ভরসা রাখা উচিত। কারণ বর্তমান কমিশনের সুষ্ঠু নির্বাচন করার সামর্থ্য রয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কমিশন সক্ষমতা দেখাবে বলেও মনে করি।

তবে নির্বাচন কমিশন সফল হতে হলে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা লাগবে। পাশে থাকতে হবে। নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতায় জনপ্রত্যাশার সুন্দর নির্বাচন আমরা পেতে পারি।

তিনি আরও বলেন, সরকারের হাতে এখন কোনো ক্ষমতা নেই। সব নির্বাচন কমিশনের। সরকার কমিশনকে সহযোগিতা দিয়ে যাবে। সিইসি যে ভরসা দিয়েছেন, সহযোগিতা করতে বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের কথা বলেছেন, আমরা মনে করি তিনি বিশ্বাসের জায়গা থেকেই তা বলেছেন। এই প্রতিশ্রুতি ও দৃঢ়তা নির্বাচন পর্যন্ত থাকবে বলেই আমার ধারণা। তাই কমিশনকে ব্লেম না দিয়ে সহযোগিতা করে যাওয়া উচিত রাজনৈতিক দলগুলোর।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ