Skip to main content

গণতন্ত্রের সাংবিধানিক রূপ

এমাজউদ্দিন আহমেদ : যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ এবং জুরী ১৯৫৯ সালে লিখেছিলেন, “আমাদের সংবিধানের আলোকে কোনো আইডিয়া বা মতকে একেবারে বাতিল করে দেয়াকে আমি সমর্থন করি না। তবে আমি এটা বিশ্বাস করি যে, কোনো স্বৈরাচারি সরকারই টিকে থাকতে পারবে না, যদি তারা বিরোধ মতকে তাদের আগ্রাসী আচরণ দিয়ে গলা টিপে ধরতে না পারে।” এরপর ১৯৬২ সালে তিনি আবার এক প্রসঙ্গে লিখেন যে, “জেফারসনের মতো আমিও বিশ্বাস করি যে, সরকারি নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নটি উঠবে তখনই যখন জনগণ কিছু করতে শুরু করবে, যখন তারা কিছু বলবে- তখন নয়।” একই ভাবে ১৯১৭ সালে এক রায় লিখতে যেয়ে বিচারপতি ব্র্যান্ডেইস লিখেন, “যদি আমরা গণতন্ত্রের প্রতি নিবেদিত হই, তাহলে আমাদের অবশ্যই টমাস জেফারসনের সেই মহৎ বক্তব্যটির প্রতি বিশ্বস্ত হতে হবে। যেখানে তিনি বলেছিলেন- মানুষের শুভ চিন্তা সবসময়ই সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী হিসাবে কাজ করে। সাময়িকভাবে সেসব দেখে হয়তো ছাই বলেও মনে হতে পারে। কিন্তু শীঘ্রই দেখা যাবে, সেটা একটা সুদৃঢ় কংক্রিটের রূপ লাভ করেছে। জনগণই হচ্ছে তাদের সরকারের কর্মকা-ের একমাত্র বিচারক।” এই সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামতকে একত্র করলে যে বিষয়টা দাঁড়ায়, তা হলো : নিরবতার মাধ্যমে যা কিছু পাওয়া যায়, সেটা অনেকসময় অর্থহীন প্রাপ্তি। স্বাধীনতাকে খর্ব করতে গেলে আমরা হয়তো এমন কিছুকে ধ্বংস করে ফেলবো, যা কিনা আমরা অনেক কিছুর বিনিময়ে অর্জন করেছিলাম। আর এ সমস্ত কারণেই পৃথিবীর সব দেশেই গণতন্ত্রে বিরোধীদের ভূমিকাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। অবশ্য বাংলাদেশের বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন। এখানে সরকার খোলামেলা নয়, সব কিছুই গোপন রাখতে চায়। এরা ক্ষমতার জন্য আগ্রাসী। সরকার এখানে বিরোধীদের দমিয়ে রাখতে চায়। নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে এরা নিয়ম-অনিয়ম সবই করতে পারে। ভালো অথবা মন্দ- যে কোন উপায়ে এরা বিরোধীদের কণ্ঠ দমিয়ে রাখার মধ্যে আনন্দ খুঁজে পায়। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

অন্যান্য সংবাদ