Skip to main content

দেবী : এখন ও তখন

প্রতীতি শিরিন : ১৩ বছর বয়সে আমি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের দেবী বইটি পড়ি। বইটি পড়ে আমি এতোটাই ভয়   পেয়ে যাই যে, প্রায় এক সপ্তাহ বাতি নিভিয়ে ঘুমাতে পারতাম না। প্রায় ২০ বছর পর, হলে বসে দেবী সিনেমাটি দেখার সময় আবারো আমার একই ধরনের অনুভূতি হলো। পরিচালক হিসেবে অনম বিশ্বাস একেবারেই নতুন। এছাড়া ছবিটি সরকারি অনুদানে তৈরি। এই সব কিছুকে ধরে নিয়ে এবং দু’একটা ভুলভ্রান্তি বাদ দিলে, ছবিটি হুমায়ূন আহমেদের ভক্তদের হতাশ করেনি। দেবী সিনেমায় উপন্যাসের কাহিনীটা যথাসম্ভব ঠিক রাখার  চেষ্টা করা হয়েছে। তারপরও মনে হয়েছে, সিনেমাটি আসলে ২০১৮ সালের প্রেক্ষাপটকে ধারণ করতে পারেনি।  চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু আসলে ২০০০ সালের প্রেক্ষাপটকে ২০১৮ সালে আনাটা কষ্টকরই। অসঙ্গতি এসেছে এই টাইম গ্যাপটাকে মিটমাট করতে গিয়ে। তবে ছবিটির সিনেমাটোগ্রাফি হয়েছে অসাধারণ। বিশেষ করে রানু আর আনিসের আউটডোরের দৃশ্যগুলো একেবারে বাস্তব মনে হয়েছে। মিসির আলীর ঘর ও তার চরিত্রের বিভিন্ন দিকগুলো যতটা সম্ভব উপন্যাসের আলোকেই তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে মিসির আলীর চরিত্রে চঞ্চল   চৌধুরীর অভিনয় মন্দ নয়। তবে আরও ভালো হতো যদি এই চরিত্রটির জন্য তিনি কিছুটা ওজন কমাতেন। কারণ বইটিতে বারবারই মিসির আলীকে শুকনা-পাতলা হিসাবে বর্ণনা করা হযেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশী অভিনেতা-অভিনেত্রীদের দুর্বলতা মনে হয় সবাই স্বীকার করবেন   যে, বেশিরভাগ সময়ই তারা তাদের চরিত্রের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের দিকে খুব একটা নজর দেন না। এছাড়া অনেক সময় মনে হয়েছে, জয়া আহসান তার চরিত্রকে অতিরঞ্জিত করেছেন। যেমন, মিসির আলীর সাথে তার একাকী দেখা করার দৃশ্যটি। ওই সময় তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছিলেন। কিন্তু তিনি বাজার করা বা বাড়ির মালিকের সাথে বন্ধুত্ব রক্ষা করার ক্ষেত্রে স্বাভাবিক আচরণই করছিলেন। দেবী ছবির বেশিরভাগ দর্শক বইটি আগেই পড়েছেন। কিন্তু যারা মূল বইটি পড়েননি তাদের ক্ষেত্রে ছবি দেখে বুঝে   নেয়াটা কষ্টকর ছিলো। যেমন, ইরেশ যাকেরের চরিত্রটি। তিনি কেন নীলুকে হুট করে মারতে গেছেন, তা ভালো বোঝা যায়নি। তিনি যে সাইকোপ্যাথ ছিলেন, সে সম্পর্কে দর্শকদের আরো স্পষ্ট ধারণা   দেয়া উচিত ছিলো। ইরেশ যাকেরের ভয়ের দৃশ্যগুলোকে হাস্যকর মনে হয়েছে। এছাড়া দৃশ্য বদলের ব্যাপারেও আরো মনোযোগ দেয়া যেতো। যেমন, একটা দৃশ্যের পরপরই মিলির আলীকে রানুর গ্রামে হাজির করাটা বিসদৃশ   লেগেছে। তবে এর শেষ দৃশ্যটা অসাধারণ ছিলো। এই এক দৃশ্যেই ছবির সারাংশটা ফুটে উঠে। এতে কিছুটা নারীবাদী চিত্রও ফুটে উঠেছে। পরিশেষে, এ কথা বলা যায়,   দেবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পরিচালক অনম বিশ্বাসের বাংলা সিনেমার দর্শকদের একটা ভালো ছবি উপহার দেয়ার চেষ্টা সফল হয়েছে। ছবিটা সপরিবারে দেখার মতো। লেখক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। মূল ইংরেজি লেখা থেকে অনুদিত ও সংক্ষেপিত। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব