প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জনসভার অনুমতি না দেয়ার নিদের্শ ইসির

যায়যায়দিন : একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনকে সামনে রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আর কোনো সভা-সমাবেশ বা জনসভা করার অনুমতি না দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিদের্শ দিয়েছে নিবার্চন কমিশন (ইসি)।

আগামী ২৩ ডিসেম্বর নিবার্চনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এতে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৯ নভেম্বর। ২২ নভেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই। প্রাথির্তা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ নভেম্বর। এরপর দিন থেকেই প্রচারণা করা যাবে।

নিবার্চন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ নিবার্চন ভবনে তার কাযার্লয়ে সাংবাদিকদের শনিবার বিকালে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের পক্ষে কাজ করে। সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষের অনুমতি নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জনসভা করেছে। কিন্তু ভবিষ্যতে যেন আর কেউ কোনো সভা-সমাবেশ বা জনসভা করতে না পারে, সে নিদের্শনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেয়া হয়েছে।

সচিব বলেন, ভোট তো দেশে উৎসব। তবে আচরণবিধি যেন ভঙ্গ না হয় সেজন্য পযার্প্ত সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে নামানোর জন্য নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। রিটানির্ং কমর্কতাের্দর বলেছেন, তারা ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করবেন এবং ব্যবস্থা নেবেন।

দলগুলো যাতে আচরণবিধি মেনে চলে এজন্য মনোনয়নপত্র কেনার সময় তারা আচরণবিধি তুলে দেবেন। বিভিন্ন দল ও জোট আচরণবিধি ভঙ্গ করে সমাবেশ-মিছিল করছে এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব এসব কথা বলেন।

ইভিএম পরিচালনায়

থাকবে সেনাবাহিনী

একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনে যেসব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে, সেসব কেন্দ্রে এসব পরিচালনা করবে সেনাবাহিনী।

শনিবার রাজধানীর আগারগঁাওয়ে নিবার্চন কমিশন ভবনের নিজ কাযার্লয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ।

ইভিএম কেন্দ্রগুলো সেনাবাহিনীর পরিচালনায় রাখার ব্যাপারে কমিশনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সচিব আরও বলেন, যেসব কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার হবে- সেসব কেন্দ্রে থাকবে সেনাবাহিনী।

ওইসব কেন্দ্রে অন্যান্য কেন্দ্রের মতো আলাদাভাবে স্ট্রাইকিং ফোসর্ হিসেবেও সেনাবাহিনী থাকবে বলে জানান তিনি।

ইচি সচিব বলেন, যেসব কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে সেসব যন্ত্র পরিচালনার জন্য সেনাবাহিনী রাখা হবে। কারণ এটি একটি টেকনিক্যাল বিষয়। টেকনিক্যাল বিষয় এবং আস্থার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিল না দিলে

মনোনয়নপত্র বাতিল

একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনে প্রাথীর্ হতে হলে ১২ নভেম্বরের মধ্যে সরকারি টেলিফোন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিসহ অন্যান্য পরিষেবা বিল পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় সম্ভাব্য প্রাথীর্র মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে।

শনিবার রিটানির্ং কমর্কতাের্দর কাছে এমন নিদের্শনা দিয়েছে নিবার্চন কমিশন (ইসি)।

প্রাথীর্ হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতা-সংক্রান্ত এক নিদের্শনায় বলা হয়েছে- মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সাত দিন আগে এসব বিল পরিশোধ করতে হবে। যেহেতু মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ১৯ নভেম্বর। সে হিসেবে প্রাথীর্ হতে হলে ১২ নভেম্বরের মধ্যে এসব বিল পরিশোধ করতে হবে।

নিদের্শনায় আরও বলা হয়েছে, পরিচালক বা ফামের্র অংশীদার কোনো ব্যাংক বা আথির্ক প্রতিষ্ঠান থেকে গৃহীত কোনো ঋণ বা তার কোনো কিস্তি তার মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় পরিশোধে খেলাপি হলে নিবার্চনে অযোগ্য হবেন।

এছাড়া কৃষি কাজের জন্য গৃহীত ক্ষুদ্র কৃষি ঋণ ব্যতীত, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার তারিখের সাত দিন আগে ব্যাংক বা আথির্ক প্রতিষ্ঠান থেকে গৃহীত কোনো ঋণ বা তার কোনো কিস্তি পরিশোধে খেলাপি হলে প্রাথীর্ হতে অযোগ্য হবেন।

নিদের্শনা অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র দাখিলের সাত দিন আগে সরকারি টেলিফোন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা অন্য কোনো সেবা প্রদানকারী সংস্থার বিল পরিশোধ করতে ব্যথর্ হলে নিবার্চনে প্রাথীর্ হতে অযোগ্য হবেন।

ছোট ভুলে মনোনয়নপত্র

বাতিল নয়

কোনো প্রাথীর্র মনোনয়নপত্রে ছোটখাটো ভুল থাকলে তা বাতিল না করার জন্য রিটানির্ং কমর্কতাের্দর নিদের্শনা দিয়েছে নিবার্চন কমিশন (ইসি)।

শনিবার এ সংক্রান্ত নিদের্শ দিয়ে পরিপত্র জারি করেছে সাংবিধানিক এ সংস্থাটি।

পরিপত্রে বলা হয়, ছোটখাটো ত্রæটির জন্য কোনো মনোনয়নপত্র বাতিল করা যাবে না। যদি বাছাইয়ের সময় এমন কোনো ত্রæটিবিচ্যুতি নজরে আসে যা তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন সম্ভব, তাহলে মনোনয়নপত্র দাখিলকারীকে দিয়ে তা সংশোধন করিয়ে নিতে হবে।

কোনো প্রাথীর্র একটি মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার কারণে ওই প্রাথীর্র অন্য কোনো বৈধ মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে না। অথার্ৎ শুধুমাত্র একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হলেই তার প্রাথীর্ পদ অটুট থাকবে।

এছাড়া যদি কোনো প্রাথীর্ একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করেন তবে বাছাইয়ের সময় একটি মনোনয়নপত্র বৈধ পাওয়া গেলে অন্যগুলো বাছাইয়েরও প্রয়োজন হবে না। মনোনয়নপত্র গ্রহণ অথবা বাতিল প্রসঙ্গে রিটানির্ং অফিসারের সিদ্ধান্ত মনোনয়নপত্রের নিদির্ষ্ট স্থানে লিখতে হবে।

পরিপত্রে আরও বলা হয়, আদেশের ১৪ অনুচ্ছেদের দফা (৩) এ বলা হয়েছে, শতর্ অনুসারে ভোটার তালিকার কোনো অন্তভুির্ক্তর শুদ্ধতা বা বৈধতার প্রশ্নে কোনো অনুসন্ধান চালানো যাবে না। একই সঙ্গে হলফনামায় উল্লেখিত কোনো তথ্য পরিবতর্ন বা সংশোধন করা যাবে না।

তথ্য জানানোর সময়

বাড়ছে না

আসন্ন জাতীয় সংসদ নিবার্চনে কোন দল কার সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নিবার্চন করবে তা জানানোর জন্য নিবার্চন কমিশন (ইসি) তিন দিনের সময় বেঁধে দিয়েছে। ওই সময় বাড়ানো হবে না। বিএনপিসহ অন্যান্য দলকে ১১ নভেম্বরের মধ্যেই তাদের সিদ্ধান্ত জানাতে হবে।

ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক যুগ্মসচিব এস এম আসাদুজ্জামান শনিবার এ কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি আইনগত। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ধারা-২০ এর (১) এর (এ) বিধান অনুসারে, নিবার্চনে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করতে ইচ্ছুক একাধিক নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল মিলে নিবার্চনী জোট গঠন করলে, এ জোটের যেকোনো একটি দলের প্রতীক জোটভুক্ত প্রাথীের্দর বরাদ্দ করা যাবে। এ ধরনের প্রতীক পেতে হলে জোটকে নিবার্চনী তফসিল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে নিবার্চন কমিশন বরাবর আবেদন করতে হবে। আরপিও-এর এ ধারার ফলে জোটবদ্ধ নিবার্চন করার তথ্য রাজনৈতিক দলগুলোকে রোববারের মধ্যেই জানাতে হবে। এর ব্যত্যয় করার কোনো সুযোগ নেই।

এর আগে শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক (যুগ্মসচিব) এস এম আসাদুজ্জামান জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নিবার্চনে জোটবদ্ধ হয়ে নিবার্চন করলে ১১ নভেম্বরের মধ্যে জানাতে হবে।

এর আগে দুপুরে নিবার্চন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, জোটগতভাবে নিবার্চন করতে হলে তিন দিনের মধ্যে ইসিকে জানাতে হবে। কোনো নিবন্ধিত দল মনোনয়ন দিলে অনিবন্ধিত রাজনৈতিক দলও জোটবদ্ধভাবে নিবার্চনে অংশ নিতে পারবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করেছে ইসি। এই দলের সদস্যরা স্বতন্ত্র বা অন্য দলের প্রাথীর্ হিসেবে নিবার্চনে অংশ নিতে পারবে কিনা কিংবা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে কিনা, তা জানতে চাইলে হেলালুদ্দীন বলেন, ‘তারা অন্য দলের প্রতীকে বা স্বতন্ত্র প্রাথীর্ হিসেবে নিবার্চন করতে চাইলে তাদের আটকানোর মতো আইন বাংলাদেশে নেই।’

সর্বাধিক পঠিত