প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অবৈধ অস্ত্রের হাতবদল

সমকাল : বিভিন্ন নির্বাচনের আগে পেশাদার সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। হাতবদল হয় অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ম্ফোরকের। নাশকতায় এবং নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের বিপক্ষে ব্যবহার হয় এসব অস্ত্র-বিস্ম্ফোরক। গোয়েন্দা সূত্রগুলো বলছে, আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখেও পেশাদার সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়েছে। বিশেষ ধরনের কোড ও সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে হাতবদল হচ্ছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ম্ফোরকের। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি গ্রুপকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্র-বিস্ম্ফোরকের চালান ঠেকাতে তৎপর রয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে যুক্ত পুলিশের সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডে ক্ষুদ্রাস্ত্রের চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি সীমান্তের ফাঁক গলে বিস্ম্ফোরকের চালানও ঢুকছে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে। সম্প্রতি অস্ত্রবাজ সন্ত্রাসীদের এ ধরনের গতিবিধি তাদের নজরে এসেছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরা বিস্ম্ফোরককে ‘মাটি’ বলে অভিহিত করে। বিস্ম্ফোরক বিক্রির দেনদরবারের সময়ে নিজেদের মধ্যে কথোপকথনে এ বিশেষ কোড ও সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে থাকে। পাশাপাশি রিভলবারকে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো ‘চাকতি’ এবং পিস্তলকে ‘সাতের মাল’ ও পাঁচের মাল’ বলে অভিহিত করছে। সেভেন পয়েন্ট সিক্স-ফাইভ পিস্তলের যেটিতে সাতটি গুলি লোড করা যায়, সেটিকে সাতের মাল এবং যেটিতে পাঁচটি গুলি লোড করা যায় সেটিকে পাঁচের মাল বলে নিজেদের মধ্যে দেনদরবার করছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, সম্প্রতি রাজধানীর ফকিরাপুলের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে পাঁচ কেজি গান পাউডারসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। ওই বিস্ম্ফোরক রাজনৈতিক নাশকতার কাজে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল। ঘটনাটির তদন্ত চলছে।

এদিকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের আর্মস এনফোর্সমেন্ট টিমের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের সময়ে তারা এ ধরনের বিশেষ কোড ও সাংকেতিক ভাষা ব্যবহারের সন্ধান পেয়েছিলেন। বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হওয়া সন্ত্রাসীদের জিজ্ঞাসাবাদেও আন্ডারওয়ার্ল্ডের অস্ত্র বাজারের এমন বিশেষ কোড ব্যবহারের তথ্য মিলেছে। এর আগে বড় অস্ত্রকে ‘হাতি’ পিস্তল বা রিভলবারকে ‘ঘোড়া’ এবং গুলিকে ‘কলাগাছ’ নামে বিশেষ কোড দিয়ে হাতবদল করার তথ্য রয়েছে। বোমাকে ‘সাউন্ডবক্স’ নামে হাতবদলেরও তথ্য রয়েছে।

আর্মস এনফোর্সমেন্ট টিম সূত্র জানায়, বিভিন্ন সময়েই আন্ডারওয়ার্ল্ডে অবৈধ অস্ত্রের চাহিদা ও দাম বেড়ে যায়। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে এ ধরনের কিছু তথ্য তাদের হাতে এসেছে। অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি অস্ত্রের জোগানদাতা হিসেবে একশ্রেণির বৈধ ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেট রয়েছে বলেও তথ্য রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা ঠেকাতে পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে আরও কঠোর হচ্ছে পুলিশ। প্রয়োজনে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানো হবে।

সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠক হয়েছে। এতে আসন্ন নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সে অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করার পাশাপাশি অস্ত্র মামলা ও বিভিন্ন নাশকতার মামলার আসামিদের দিকে কড়া নজরদারির বিষয়ও বৈঠকে উঠে আসে।

র‌্যাব জানায়, চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত গত ১০ মাসে সারাদেশে বিভিন্ন ধরনের ৮৫৭টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের ২০ হাজার ১৮৭টি গোলাবারুদ, ৪১০টি ককটেল, বোমা ও গ্রেনেড এবং ৩১৪ কেজি বিস্ম্ফোরক উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, অবৈধ অস্ত্র সব সময়ের জন্যই ভয়ঙ্কর। এজন্য র‌্যাব এসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রবাজদের গ্রেফতারে সবসময়ই অভিযান চালায়। জাতীয় নির্বাচনের আগে-পরেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ অভিযান জোরালোভাবেই অব্যাহত

থাকবে। অবৈধ অস্ত্রবাজদের দিকে কঠোর নজরদারি রয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, শুধু গত সেপ্টেম্বর মাসেই সারাদেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ৩১৪টি এবং বিস্ম্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় ৪২৬টি মামলা হয়েছে। পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের (এসএজি) অতিরিক্ত উপকমিশনার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বৈধ অস্ত্রের অবৈধ কারবারিদের দিকেও তাদের নজরদারি রয়েছে। শুধু নির্বাচন নয়, কোনো উৎসব বা কর্মসূচিতেই যাতে সন্ত্রাসীরা অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার করতে না পারে সেদিকে আর্মস এনফোর্সমেন্ট টিম সতর্ক রয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ