প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইভিএম কেন্দ্রের ভেতরে থাকবে সেনাবাহিনী

সমকাল : নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোকে আর কোনো সভা-সমাবেশের অনুমতি না দিতে পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দু’জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর এমন নির্দেশনার কথা জানান ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। তবে মোহাম্মদপুরের ঘটনার বিষয়ে তখন পর্যন্ত তিনি অবহিত নন বলে জানান। এ সময় ভোটের দিন ইভিএম কেন্দ্রগুলোর ভেতরে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, মোহাম্মদপুরে দু’জন নিহত হওয়ার তথ্য ইসির কাছে নেই। এ সময় তিনি রাজনৈতিক দল ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের আচরণ বিধিমালা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো প্রচার চালানো যাবে না। তফসিল ঘোষণার পর থেকে মিছিল-মিটিং থেকে সব ধরনের প্রচার এমনিতেই নিষিদ্ধ। কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি প্রতীক বরাদ্দের আগে নির্বাচন ঘিরে প্রচার চালিয়ে থাকলে তা হবে আচরণ বিধিমালার লঙ্ঘন। এসব অনিয়ম রোধে সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারাই আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, পুলিশ কর্তৃপক্ষকেও কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক দলকে সভা-সমাবেশের অনুমতি দেওয়া না হয়।

মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ঘিরে মিছিল এবং রাজশাহীতে গত শুক্রবার ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ আচরণবিধি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে কি-না- এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, এ দেশে ভোট মানে একটা উৎসব। আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার করা যায় না। কিন্তু নমিনেশন পেপার নেওয়া ও জমা দেওয়া একটা নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে হচ্ছে। তাই ওইসব স্থানে আচরণবিধি ভঙ্গ হচ্ছে বলে ইসির কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে না। তফসিলের পর রাজশাহীতে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের আগেই কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দিয়ে রেখেছিল। জোটের নেতারাও আগে থেকেই রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন। তাই স্বাভাবিকভাবে ইসির পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়নি।

এদিকে ইসি সচিব জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে যেসব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে, সেই কেন্দ্রগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন রাখার পরিকল্পনা করছে ইসি। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, যেসব কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে, সেসব যন্ত্র পরিচালনার জন্য সেনাবাহিনী রাখা হবে। কারণ এটি একটি টেকনিক্যাল বিষয়। টেকনিক্যাল বিষয় এবং আস্থার কথা বিবেচনায় রেখেই এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। তারা কেন্দ্রে অবস্থান করবেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম. নুরুল হুদা জানান, শহরাঞ্চলে অল্প কিছু এলাকায় ভোটগ্রহণে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। তবে কতসংখ্যক কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি তিনি। জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সিইসি আরও জানিয়েছিলেন, সেনাবাহিনী নিয়মিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়ক শক্তি হিসেবে ভোটের মাঠে থাকবে।

ইসি সচিব গতকাল আরও জানান, আগামীকাল সোমবার রাজধানীতে ইভিএম মেলা হবে। ওই মেলায় নিবন্ধিত সব দলকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কোনো দল যদি কারিগরি টিম পাঠিয়ে ইভিএম দেখতে চায়, তাহলে ইসি তা দেখাতে প্রস্তুত রয়েছে।

আওয়ামী লীগের দাবি মানার সুযোগ আইনে নেই :গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) নিবন্ধিত দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে যে কোনো একটি দলের প্রতীক ব্যবহার করতে চাইলে তা তফসিল ঘোষণার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে ইসিকে জানানোর বিধান রয়েছে। আজ শেষ হচ্ছে সেই সময়সীমা। তবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এই সময় বৃদ্ধির জন্য ইসির প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, আইনে বাধ্যবাধকতা আছে, তফসিল ঘোষণার তিন দিনের মধ্যে রাজনৈতিক দল যারা জোটবদ্ধ আছে তারা কোন প্রতীকে নির্বাচন করবে, স্পষ্টভাবে তা নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করতে হবে। এটা না দিতে পারলে আইনের ব্যত্যয় হবে। তখন তাদের নিজস্ব প্রতীক নিয়েই নির্বাচন করতে হবে। আরপিও অনুযায়ী এটা বাধ্যবাধকতা। এর পরও যদি তারা সময় চান বা কমিশন মনে করে, এটা কমিশনের বিষয়। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ শনিবার পর্যন্ত আবেদন করেনি বলেও জানান তিনি। আবেদন করলে সে বিষয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে কমিশনের।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, এখনও পর্যন্ত তফসিল পেছানোর কোনো পরিকল্পনা নেই। সব দল একমত হলে তখন কমিশন বিষয়টি নিয়ে ভাববে।

ঋণ পরিশোধ দু’ধরনের সময় নির্ধারণ :আগের নির্বাচনগুলোতে সব ধরনের ঋণ ও বিল খেলাপির জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার সাত দিন আগে তা পরিশোধের বাধ্যবাধকতা ছিল। নতুন আইনে এ বিষয়ে দু’ধরনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বড় ঋণখেলাপিদের শর্ত সহজ করা হলেও সাধারণভাবে বাকিদের জন্য আগের আইনই বহাল থাকছে। একাদশ সংসদ নির্বাচন-সংক্রান্ত ইসির এক পরিপত্রে বলা হয়েছে, ব্যক্তি ঋণ ও সরকারি সেবা সংস্থার খেলাপি বিল পরিশোধ করতে হবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সাত দিন আগে। আর কোনো কোম্পানির পরিচালক বা ফার্মের অংশীদার কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ঋণখেলাপি হলে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগের দিন পর্যন্ত তা পরিশোধের সুযোগ পাবেন।

আরপিওর সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, কোম্পানির পরিচালক বা ফার্মের অংশীদার কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া কোনো ঋণ বা তার কোনো কিস্তি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে খেলাপি থাকেন, তাহলে তিনি প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন। কিন্তু খেলাপি ঋণ-সংক্রান্ত অন্য দুটি ধারার সংশোধন হয়নি। তাই এ দুটি ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সাত দিন আগে তাদের ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

ইসির ওই পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, কৃষিকাজের জন্য নেওয়া ক্ষুদ্র কৃষিঋণ ছাড়া অন্য ঋণ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখের সাত দিন আগে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণ বা তার কিস্তি পরিশোধে খেলাপি হলে তিনি প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন। একইভাবে সরকারি টেলিফোন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি বা অন্য কোনো সেবা প্রদানকারী সংস্থার বিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সাত দিন আগে পরিশোধ না করে থাকলে তিনিও অযোগ্য বিবেচিত হবেন।

সামান্য ভুলে মনোনয়নপত্র বাতিল না করতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ইসির নির্দেশ :একদিকে গতকাল এক পরিপত্রে সামান্য ভুলের জন্য মনোনয়নপত্র বাতিল না করতে নির্দেশ দিয়েছে ইসি। এতে বলা হয়েছে, ‘যদি বাছাইয়ের সময় এমন কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি নজরে আসে, যা তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধন করা সম্ভব, তাহলে মনোনয়নপত্র দাখিলকারীকে দিয়ে তা সংশোধন করিয়ে নিতে হবে।’

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থীর একটি মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার কারণে ওই প্রার্থীর অন্য কোনো বৈধ মনোনয়নপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে না। অর্থাৎ শুধু একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হলেই তার প্রার্থিতা অটুট থাকবে। যদি কোনো প্রার্থী একাধিক মনোনয়নপত্র দাখিল করেন, তাহলে বাছাইয়ের সময় একটি মনোনয়নপত্র বৈধ পাওয়া গেলেই অন্যগুলো বাছাইয়ের প্রয়োজন হবে না। মনোনয়নপত্র গ্রহণ অথবা বাতিল প্রসঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত মনোনয়নপত্রের নির্দিষ্ট স্থানে লিপিবদ্ধ করতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ