প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধুলায় ধূসর মহাসড়ক

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর অংশে ধুলাবালিতে একাকার। উপজেলার গোড়াই ক্যাডেট কলেজ থেকে জামুর্কী পর্যন্ত চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ চলায় ধুলাবালির দুর্ভোগ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। এ ছাড়া মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও পাথরকুচি থাকায় প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

গত ২৪ আগস্ট ঢাকা থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি যাওয়ার পথে মহাসড়কের ধল্লা নামক স্থানে পাথরকুচিতে পিছলে রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ইউসুফপুর গ্রামের আকছাদ আলীর ছেলে পুলিশ কনস্টেবল মো. তুহিন (৩৩) মারা যান।

এদিকে মহাসড়কের আশপাশের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আর গাছপালাও এখন ধুলায় ছেয়ে গেছে। সড়কটি দিয়ে চলাচলের সময় ধুলার কারণে সামনের কিছুই দেখা যায় না। এতে বেশি দুর্ভোগ ও বিপাকে পড়তে হচ্ছে মোটরসাইকেলচালকদের। এমনকি অতিরিক্ত ধুলাবালির কারণে যানবাহনের চালক ও যাত্রীদের শ্বাসকষ্টও হচ্ছে। তা ছাড়া মহাসড়কসংলগ্ন স্কুলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করা ও মসজিদে নামাজ আদায় করাও কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সড়কের পাশে বসবাসকারীরা জানায়, এ সমস্যা আজকের নয়, টানা দুই বছর ধরে চলছে। মহাসড়কের উন্নয়নকাজ শুরু করা হলেও তা অনিয়মতান্ত্রিকভাবে চলছে। ফলে সড়কের পাশে থাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়ির মানুষদের অবস্থা খুবই খারাপ। সড়কের পাশের বেশির ভাগ পরিবারের সদস্যরা শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে পানি ছিটিয়ে সাময়িক সময়ের জন্য ধুলা নিবারণ করলেও সেটা দীর্ঘমেয়াদি কোনো কাজে আসছে না, বরং এতে সড়কে কাদাপানি জমে পিচ্ছিল হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

টাঙ্গাইল থেকে ছেড়ে আসা পিকআপ ভ্যানচালক আল আমিন, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বিনিময় পরিবহনের সুপারভাইজর জাকির হোসেন, ট্রাকচালক খুরশেদ আলম, উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা সবজিভর্তি ট্রাকচালক গোলাম মর্তুজা জানান, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ধুলা ও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে পাথরকুচি থাকায় গাড়ির চাকার টায়ারের ক্ষতি হচ্ছে। ধুলার কারণে সামনের কিছুই দেখা যায় না। ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

পথচারী ও যাত্রীরা জানায়, এ সড়ক দিয়ে রোগীরা চলাচল করলে আরো বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বে। সড়ক দিয়ে বড় ধরনের কোনো যানবাহন গেলে ধুলায় চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়। তা ছাড়া যানবাহন চলার সময় ছোট-বড় গর্তের ঝাঁকুনিতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ে।

ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলচালক রফিক মিয়া, আজিম হোসেন, রুবেল মিয়া, নেপাল, আশিক ও আলম জানান, তাঁদের প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে মহাসড়ক দিয়ে বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়। মহাসড়কের ওপর থাকা পাথরকুচি যানবাহনের চাকার ঘর্ষণে শরীরে এসে লাগে। এতে অনেকেই আহত হয়।

মির্জাপুর বাইপাস এলাকার পালবাড়ির গৃহিণী সুভা রানী পাল, অঞ্জলি পাল ও নিবারণ পাল জানান, প্রতিদিন কমপক্ষে ৮-১০ বার ঘরবাড়ি পরিষ্কার করতে হয়। ধুলায় ঘরবাড়িতে টিকে থাকাই দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চন্দ্রা পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা থেকে আসা সুলতান আহমেদ জানান, তিনি দাঁতের চিকিৎসা করাতে গত সোমবার সকালে মির্জাপুরে আসেন। মহাসড়কে ধুলার কারণে বাসের ভেতর থাকা সব যাত্রীই অস্বস্তি বোধ করেন।

দেওহাটা এ জে উচ্চ দ্যািলয়ের প্রধান শিক্ষক খুরশেদ আলম বলেন, ধুলার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ছাড়াও মহাসড়ক দিয়ে চলাচলরত মানুষের নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে।

মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ধুলাবালির কারণে ফুসফুসে বিভিন্ন ধরনের রোগ হতে পারে। এ ছাড়া অ্যালার্জিজনিত ঠাণ্ডা, কাশি, চোখের সমস্যাও হতে পারে। এ থেকে পরিত্রাণের উপায় হিসেবে মাস্ক ও সানগ্লাস ব্যবহার করা জরুরি।

মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাসেক প্রকল্পের (মির্জাপুর অংশের) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মাহবুব হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমরা খুব নজরে রেখেছি। সরেজমিন পরিদর্শন শেষে এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
সূত্র : কালের কন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ