প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হোঁচট খাচ্ছে দেশের অর্থনীতি ও বৃহৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন

আমাদের সময় : সরকার ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সরকারি ও বেসরকারিভাবে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য চুক্তি করে যাচ্ছে ২০০৯ সাল থেকে। কিন্তু বেসরকারি মালিকানায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিশেষ করে কয়লানির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পগুলোর গতি খুবই ধীর। এর মধ্যে কিছু প্রকল্প আলোর মুখ দেখবে বলে মনেই করছেন না এ খাতের অনেকেই।

সরকারের গত ১০ বছরে তেলভিত্তিক শতাধিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে এলেও কয়লাভিত্তিক একটি কেন্দ্রও উৎপাদনে আসেনি। অথচ দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদন, যা বিবেচনায় রেখে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হাতে নেয়। বর্তমানে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর দীর্ঘদিনেও উৎপাদনে আসতে না পারার ব্যর্থতা।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি খাতে কয়লাভিত্তিক সাত বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। এগুলো থেকে চার হাজার ৭৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হওয়ার কথা। প্রায় আট বছর ধরে বিদ্যুৎ বিভাগ দফায় দফায় বৈঠক করলেও কার্যত অগ্রগতি নেই এসব প্রকল্পের। অতিসম্প্রতি

প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি ও বাস্তবায়ন বিষয়ে একটি বৈঠক হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগে। বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে এ বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজিবিষয়ক) আবুল কালাম আজাদও ছিলেন। বৈঠককালে আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিদ্যুৎ খাতের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকরি উভয় ক্ষেত্রের গুরুত্ব রয়েছে। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নির্ধারিত সময়ে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম না হলে বিদ্যুৎ খাতে কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কষ্টসাধ্য হবে। আর বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বৈঠকে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন যেন যত দ্রæত সম্ভব কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো উৎপাদনে আসে। ওই বৈঠকেই বলা হয়, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাগ্রিমেন্ট হবে না যে প্রকল্পের, সেই প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কোম্পানির সঙ্গে সরকারের করা চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে।

সাত প্রকল্পের মধ্যে এস আলম গ্রæপের ৬১২ মেগাওয়াট করে দুই ইউনিটের ১২২৪ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সঙ্গে সরকারের লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) স্বাক্ষরিত হয় ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর; বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) ও নির্মাণ চুক্তি (আইএ) স্বাক্ষরিত হয় ২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রæয়ারি। এ পর্যন্ত প্রকল্পটির ভ‚মি উন্নয়নের ৭৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। আর পুরো প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি হয়েছে ২১ শতাংশ। কোম্পানিটি আশা করছে চলতি মাসের মধ্যে তাদের ফ্যাসিলিটিস অ্যাগ্রিমেন্ট হবে।

এ ছাড়া ওরিয়ন গ্রæপের রয়েছে চার প্রকল্প। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জে ৫২২ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন। কেন্দ্রটি বাস্তবায়নে ২০১২ সালের ২৭ জুন চুক্তি স্বাক্ষর করে ওরিয়ন। এর পর প্রায় ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রটি বাস্তবায়নে তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

ওরিয়নের আরও তিনটি প্রকল্প হচ্ছেÑ ঢাকা (চরবলাকিয়া, মেঘনাঘাট) ৬৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র; ঢাকা (চরবলাকিয়া, মেঘনাঘাট) ২৮২ মেগাওয়াট আইপিপি প্রকল্প এবং চট্টগ্রামে (গহিরা, আনোয়ারা) ২৮২ মেগাওয়াট ক্ষমতার আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্র। এ তিনটি প্রকল্পেরও কার্যত কোনো অগ্রগতি নেই।

এ ছাড়া অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে আইএসও টেক এসইপিসি টেইলর পাওয়ার কনসোর্টিয়াম কোম্পানির উদ্যোগে বরিশালে ৩০৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এখনো জমি লিজ নেওয়া নিয়েই ক্ষেত্রে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে রয়ে গেছে জটিলতা। এ প্রকল্পটির কাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
এ ছাড়া সরকর উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের ঝাড়খ ৮০০ মেগাওয়াট করে দুই ইউনিটের মোট ১৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করে বিদ্যুৎ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। ভারতীয় কোম্পানি আদানি পাওয়ার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল প্রকল্প বাস্তবায়নে ইপিসি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তোড়জোড় শুরু করেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বেসরকারি মালিকানায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে কয়েকটি কোম্পানিকে অনুমোদন দেয়। কিন্তু কোম্পানিগুলো বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ পেয়েও যথাসময়ে প্রকল্পের অগ্রগতি করতে পারেনি। এমনকি কাজ পাওয়ার প্রায় ৫ বছর পরও অর্থসংস্থান পর্যন্ত করতে পারেনি কোনো কোনো কোম্পানি। তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনায় অনুমোদন দেওয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে বিদ্যুৎ প্রাপ্তির বিষয়টি ধরা হয়েছে। সেভাবেই এগিয়েছে সরকার। কিন্তু এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে হোঁচট খেতে হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ