প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রতারক পরিবার

ডেস্ক রিপোর্ট : ফ্রাঙ্ক উইলিয়াম নামে স্কটিশ নাগরিক একজন নারী ব্যবসায়ীর ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান। সেই ব্যবসায়ী তার রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট করেন। পরবর্তীতে ব্যবসায়ীর সঙ্গে ফ্রাঙ্কের হোয়াটসঅ্যাপ, ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে ভালো বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। এক পর্যায়ে ফ্রাঙ্ক ব্যবসায়ীকে ইস্টার সানডে উপলক্ষে একটি গিফট পাঠানোর কথা বলেন। এর কিছুদিন পর ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশি মেয়ে রোজিনা মোবাইল ফোনে সেই গিফটের কথা বলেন। তিনি ব্যবসায়ীকে বলেন, গিফট ছাড়ার জন্য ট্যাক্স বাবদ ৫০ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। ব্যবসায়ী ডাচ্-বাংলা ব্যাংক মহাখালী শাখায় সেই টাকা জমা দেন। কিছুদিন পর ফাতেমা নামে আরেকজন মেয়ে একইভাবে টাকার কথা বলেন। ব্যবসায়ী ওয়ান ব্যাংক গুলশান শাখায় ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জমা দেন। এর কিছুদিন পর রোজিনা নামে আরেকজন মেয়ে ব্যবসায়ীকে ফোন দিয়ে কোটি টাকার গিফটের কথা বলে আরও ৫ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দিতে বলেন। টাকাটা যেন তিনি অবশ্যই সাউথইস্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেন সেই মহিলা তা মনে করিয়ে দেন।

এবার ব্যবসায়ী বুঝতে পারেন তিনি প্রতারিত হচ্ছেন। ব্যবসায়ী তাদের বিরুদ্ধে বনানী থানায় একটি মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে গোয়েন্দা বিভাগে মামলাটি স্থানান্তর করা হয়। গোয়েন্দারা এই রহস্যজনক ঘটনার তদন্ত শুরু করেন। বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশ্বস্ত গুপ্তচর নিয়োগ করে গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের বিমানবন্দর জোনাল টিম। প্রতারকদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গত ৫ নভেম্বর খিলক্ষেত এলাকার নামাপাড়া কামাল দর্জির বাসায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে গোয়েন্দারা প্রথমে রুমা আক্তার ও তার স্বামী শুক্কুর আলীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারা এই মামলার বাকি পলাতক আসামিদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে গোয়েন্দা পুলিশকে তথ্য দেয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যান্য প্রতারকদের খিলক্ষেতের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন— নাইজেরিয়ার নাগরিক ইমানুয়েল ইকেনেদিলিচুকও আসুজু (২৭), নাইজেরিয়ার নাগরিকের স্ত্রী লতা বেগম (২৩), লতার বোন পাপিয়া বেগম (২২), লতার বোনের স্বামী হাবিব (২৫), হাবিবের বাবা মো. জয়নাল আবেদীন (৪৫), হাবিবের মা মোছা. হামিদা আক্তার (৩০), লতার আত্মীয় মোছা. রুমা আক্তার (১৯), রুমার স্বামী মো. শুক্কুর আলী (২৫)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দারা জানতে পারেন, লতার স্বামী নাইজেরিয়ার নাগরিক ইমানুয়েল ইকেনেদিলিচুকও।

যিনি নিজেকে স্কটিশ নাগরিক ফ্রাঙ্ক উইলিয়াম নাম ধারণ করে প্রতারণা করে আসছেন। তিনি মোবাইলে ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন মহিলাদের কাছে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে বন্ধুত্ব করেন। এক পর্যায়ে সরলতার সুযোগে উপহার পাঠানোর কথা বলেন। সেই নারী তাতে ভীষণ খুশি হন। স্ত্রীর বোনের স্বামী হাবিবের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকে অসংখ্য অ্যাকাউন্ট খোলেন। ওই অ্যাকাউন্টে ট্যাক্সের টাকা পাঠানোর জন্য বলা হয়। ওই টাকা নাইজেরিয়ার নাগরিক ইমানুয়েলের হাতে ব্যাংক থেকে তুলে দেওয়া হয়। আর এই কাজের বিনিময়ে নাইজেরিয়ান নাগরিক পরিবারের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে বেতন দিতেন। এই নাইজেরিয়ান নাগরিক বাংলাদেশে বিয়ে করে প্রতারক পরিবার গঠন করেছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ