প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিলেটে শরিক নিয়ে বেকায়দায় দুই জোট

ডেস্ক রিপোর্ট : আসন ভাগাভাগিতে সিলেটে শরিক নিয়ে বেকায়দায় দুই জোট। আওয়ামী লীগের কাছে শরিক জাতীয় পার্টি চায় চারটি আসন। আর বিএনপি’র কাছে শরিক খেলাফত মজলিস ও জামায়াত চায় তিনটি আসন। শরিকরা বলছে তারা আগে থেকেই মাঠে রয়েছেন। এ কারণে তাদের পিছু হটার সুযোগ নেই। অন্যদিকে, শরিকদের কথামতো আসন ছেড়ে দিলে নিজ দলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের তোপের মুখে পড়বে হাইকমান্ড।

সিলেটের ছয়টি আসনের মধ্যে শাসক দল আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে চারটি। বাকি দুটি আসন ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে তারা মহাজোটের শরিকদের দিয়েছিল। এ দুটি আসন হচ্ছে সিলেট-২ ও সিলেট-৫।

সিলেট-২ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির ইয়াহহিয়া চৌধুরী এহিয়া ও সিলেট-৫ আসনে হুইপ সেলিম উদ্দিন। জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ইয়াহহিয়া চৌধুরী এহিয়া মানবজমিনকে জানিয়েছেন, জোটবদ্ধ নির্বাচন হলে এবার তারা চারটি আসন চাইবেন। সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর), সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা-ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ), সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ) ও সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আসন। এ চারটি আসনের মধ্যে তাদের দুইজন এমপি রয়েছেন। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি কোনো ছাড় নয় বরং অর্জন করে জোটের সঙ্গে থাকবে। এই আঙ্গিকে দলের নেতারা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। আর জোটবদ্ধ না হলেও সিলেট-২ আসনে জাতীয় পার্টি এবার নির্বাচন করবেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাতীয় পার্টি সূত্র জানিয়েছে, সিলেট-২ আসনে তাদের শক্তিশালী প্রার্থী হচ্ছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ইয়াহহিয়া চৌধুরী এহিয়া। এ আসনটি তারা কোনোভাবেই ছাড় দেবে না। আর সিলেট-৩ আসনে প্রার্থী রয়েছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য আতিকুর রহমান আতিক, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক উসমান আলী, সিলেট-৪ আসনে রয়েছেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য তাজ রহমান ও সাবেক ছাত্র সমাজ নেতা মুজিবুর রহমান ডালিম, ইসমাইল আলী আশিক, সিলেট-৫ আসনে তাদের প্রার্থী তালিকায় রয়েছেন বর্তমান হুইপ সেলিম উদ্দিন, ছাত্র সমাজের সাবেক সভাপতি ও শিল্পপতি জাকির হোসেন, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সদস্য খালেদ সাইফুদ্দিন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাব্বির আহমদ।

সিলেটে যে দুটি আসন জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ সে দুটি আসন এবার আর শরিকদের দিতে রাজি নয় আওয়ামী লীগের নেতারা। এর কারণ, টানা দশবছর এ দুটি আসন শরিকদের ছেড়ে দিলে দল এখানে বিপর্যস্ত হবে। নতুন নেতৃত্বও গড়ে উঠবে না। তারা বলেন, এ দুটি আসনে এবার আওয়ামী লীগের নেতারা তাদের দলীয় নেতাকে প্রার্থী চান। গত পাঁচবছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেও দলের উন্নয়নের ভাগিদার হতে পারেননি নেতারা। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান মানবজমিনকে জানিয়েছেন, আমরা এবার এ দুটি আসন শরিকদের দিতে চাই না। বিশেষ করে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরে তাদের যোগ্য প্রার্থী রয়েছেন। আর শরিকদের হাতে তুলে দেয়ার কারণে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটে কোনো যোগ্য প্রার্থী গড়ে উঠছে না। এতে করে তৃণমূলে ক্ষোভ রয়েছে। তিনি বলেন, মাঠের পরিস্থিতি তিনি ইতিমধ্যে দলীয় সভানেত্রীকে জানিয়ে দিয়েছেন। এখন কেন্দ্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, ২০দলীয় জোটে সিলেটে তিনটি আসন চায় শরিকরা। এর মধ্যে দুটি আসন খেলাফত মজলিস ও একটি জামায়াতে ইসলামী। সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনটি ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াতকে ছাড় দিয়েছিল বিএনপি। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নির্বাচনেও তারা এই আসন ছাড় দেয়। এ আসনে জামায়াতের এমপি ছিলেন মাওলানা ফরিদ উদ্দিন। এ আসনে এখনো বিএনপির শক্তিশালী কোনো প্রার্থী নেই। ফলে এবারো এ আসনটি জামায়াতকে ছাড় দিতে পারে বিএনপি। আর সিলেট-২ (বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর) ও সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা- ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ) আসনটি জোটের কাছে চায় খেলাফত মসলিস। এ দুটি আসনে তাদের দুই প্রার্থী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। এর মধ্যে সিলেট-২ আসনে রয়েছেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মো. মুনতাসির আলী ও সিলেট-৩ আসনে জেলার যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। গত তিনবছর ধরে এ দুটি আসনে দুই প্রার্থী নির্বাচনী প্রস্তুতি চালাচ্ছেন।

খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুনতাসির আলী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, খেলাফত মজলিস দুটি আসনেই তারা দুইজনকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে। ইতিমধ্যে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতারা এ দুটি আসনে সফর করে গেছেন। খেলাফত মজলিস যেকোনোভাবেই এ দুটি আসন ধরে রাখতে চাইবে। এর কারণ, এ দুটি আসনে খেলাফত মজলিসের বিপুল সংখ্যক ভোট রয়েছে। ফলে এ দুটি আসনে তারা অনেকখানি এগিয়ে রয়েছেন। জোটগত সিদ্ধান্ত না হলে হয়তো তারা এককভাবে এ দুটি আসনে নির্বাচনে নামবেন। সে প্রস্তুতি ইতিমধ্যে তারা গ্রহণ করে রেখেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক দিলদার হোসেন সেলিম জানিয়েছেন, জোটের খাতিরে বিজয় ছিনিয়ে আনতে যেখানে যেখানে ছাড় দেয়া প্রয়োজন কেন্দ্রীয় নেতারা আলোচনার ভিত্তিতে সে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে, এখনই সেটি আলোচনা হচ্ছে না। আমরা এখন সবাই আন্দোলনে রয়েছি। সিদ্ধান্ত পরে নেয়া হবে। আর যে সিদ্ধান্ত আসবে সেটি সবাই মেনেও নেবেন।
সুত্র : মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ