প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গাজীপুরে ধানের শীষের কাণ্ডারী হতে চান ডা. বাচ্চু

সাব্বির আহমেদ : বিগত সময়ে এই আসনটিতে বিএনপি প্রার্থীরা কেউই সুবিধা করতে পারেননি। যাকেই মনোনয়ন দেয়া হয়েছে তিনিই আওয়ামী লীগ প্রার্থী এড. রহমত আলীর নিকট পরাজিত হয়েছেন। তাই এবার বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের চাওয়া যাতে নতুন কাউকে মনোনয়ন দেয়া হয়। বর্তমান ভোটারদের কাছে তরুন ও উদ্যামী প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা দিন দিন বাড়ছে। তাছাড়া বিগত নির্বাচনগুলোতে এই এলাকা থেকে বিএনপির স্থানীয় কোনো প্রার্থীও ছিল না।

সে হিসাবে বেশ আগে থেকেই সরকার বিরোধী আন্দোলন ও তৃণমূলকে চাঙ্গা রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন বিএনপি-র কেন্দ্রীয় সহ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও ড্যাবের যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক ডা: রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। দল ও জোটের বিভিন্ন কর্মসূচি এলাকায় থেকে নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বাস্তবায়ন করেছেন। এতে খুব অল্প সময়েই নেতাকর্মীদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তিনি। মুল দল, ছাত্রদল, যুবদল ও শ্রমিকদলসহ অঙ্গ সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ডা. বাচ্চুকে আস্থার প্রতীক হিসাবে মনে করেন। আগামী দিন গাজীপুর ৩ আসনের কান্ডারি হিসাবে তাকে মনোনয়ন দিলে দল ও জনগনের জন্য কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

ছাত্রজীবন থেকেই জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন তিনি। ১৯৮১ সালে ছাত্রদলে যোগদানের পর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ ও জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তিতে ড্যাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৯১ সাল থেকে শ্রীপুরে বিএনপির রাজনীতির সাথে ওতপ্রোত ভাবে জরিত হন। গ্রামের হত-দরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবা ও নানা সমস্যার সমাধানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এলাকায় ইতোমধ্যেই “গরীবের ডাক্তার” হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তাই বিএনপি থেকে অন্যন্য প্রার্থীর তুলনায় তিনি এগিয়ে আছেন বলে জানা গেছে।

বিগত সময়ে হরতাল- অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তার সাহসী নেতৃত্বে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ও চাঙ্গা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু আমাদের সময় ডটকমকে বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটু সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নেতাকর্মীদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। মানুষের সেবায়ও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। এ আসনে দলের সাংগঠনিক অবস্থা খুবই ভালো। দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে গাজীপুর ৩ আসনটি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দেব।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৩ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও দলীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ অধ্যাপক এম এ মান্নান। আগামী সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে তাকে গাজীপুরের অন্য একটি আসন থেকে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে দলের একটি সূত্র।

তাছাড়া এই এলাকায় স্থানীয় ইস্যুও বড় একটি ফ্যাক্টর। গাজীপুর-কালিয়াকৈর এক সঙ্গে থাকার সময়ও এই ইস্যুর কারণে তানবীর আহমেদ সিদ্দিকী বার বার পরাজিত হয়েছেন। কেননা শ্রীপুরের ভোটাররা চায়না বাইরের কেউ তাদের এমপি নির্বাচিত হোক। ফলে আসনটিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব এডভোকেট রহমত আলী একাধারে ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

অন্যদিকে, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন সবুজ ও ওলামা দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পীরজাদা এস এম রুহুল আমিন। তারা প্রত্যকেই সদস্য সংগ্রহ অভিযানের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

প্রসঙ্গত, এ আসনে একটি পৌরসভা ও আটটি ইউনিয়নে মোট ১৩৭টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। ১০ জুলাই ১৮ পর্যন্ত যেখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৪৬৩৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১৭১৯৯৫ এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ১৭৪৩৪৫ জন।

সর্বাধিক পঠিত