প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় ইমারজেন্সি মাল্টি সেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসি রেসপন্স প্রকল্প

আনিসুর রহমান তপন : রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির মধ্যে অপরাধ প্রবণতা রোধ ও তাদের আইনী সহায়তাসহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন কুইক রেসপন্স টিম।

এছাড়াও মানব ও মাদক পাচার, জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে এদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন করে ‘ইমারজেন্সি মাল্টি সেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসি রেসপন্স’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে সরকার। ৩৩৭ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি শেষ হবে ২০২১ সালে। এই প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করবে ৩৩৪ কোটি টাকা। বাকি টাকা অর্থায়ন করবে সরকার । স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সুত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সুরক্ষা সেবা বিভাগের অধীনে কুইক রেসপন্স টিম কক্সবাজার জেলার কুতুপালং, থাইংখালী, নোয়াপাড়া, বালুখালী ও উনপিপ্রাং এলাকায় অপরাধ প্রবণতা রোধ, রোহিঙ্গাদের আইনী সহায়তাসহ সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে। এজন্য এই এলাকায় বিশেষ কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এই এলাকার ৭টি ক্যাম্পে ১১ লাখ ৫৮ হাজার ২৫৯ জন রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এরইমধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফের নয়াপাড়ায় এবং উখিয়ার কুতুপালংয়ে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। তারা যাতে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত চেকপোস্ট মোতায়েন করাসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল রুম। ক্যাম্পগুলোতে যেকোনও ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনি সহায়তায় কুইক রেসপন্স টিমের কার্যক্রম চলার পাশাপাি রোহিঙ্গাদের সচেতন করে তুলতে বিভিন্ন সভা-সেমিনারের আয়োজন করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয় দিতে গিয়ে প্রায় ১০ হাজার একর জায়গার মানব ও প্রকৃতিক সম্পদ হুমকির মুখে। এখানে ক্যাম্প স্থাপনে প্রায় ছয় হাজার একর এবং জ্বালানী কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে আরও চার হাজার একর বনভূমি ধ্বংস হয়েছে। তাছাড়া পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোর ওপর চাপ বেড়ে গেছে বহুগুন। ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ব্যাপক। এসব কারণেই মানবিক সহায়তা দেয়ার লক্ষ্যে ইমারজেন্সি মাল্টি সেক্টর রোহিঙ্গা ক্রাইসি রেসপন্স প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। মানবিক সহায়তার আওতায় প্রকল্পের মাধ্যমে ৬০ হাজার সহায় সম্বলহীন হতদরিদ্র, কর্মক্ষম বয়স্ক, কিশোর, কিশোরিদের বিভিন্ন কমিউনিটি সেবা দেওয়ার জন্য দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। এতে কর্ম সংস্থান সৃষ্টি করবে। ফলে ক্যাম্পের পরিবেশ ও তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করবে। প্রকল্পের মাধ্যমে ১৬ থেকে ২৯ বছর বয়সী ৪০ হাজার তরুন-তরুনীকে সমাজ উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা হবে। পারিবারিক আয়বৃদ্ধির মাধ্যমে ন্যুনতম ব্যয় নির্বাহে সক্ষমতা সৃষ্টি করা হবে। ক্ষতিকর কাজ থেকে সরিয়ে এনে অর্থনৈতিক কাজে নিয়োজিত করা হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিশন এবং অন্যান্য সরকারি সংস্থাগুলোর শরণার্থী ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়াতে মাঠ পর্যায়ে ক্যাম্প-ইন-চার্জ, শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিশনারেটের কর্মকর্তা, স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের স্থানীয় ও বৈদেশিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরনার্থী সেলের প্রধান যুগ্ম-সচিব শাহ্ রেজওয়ান হায়াত বলেন, গত সপ্তাহে এ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ