প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোটাধিকারই গণতন্ত্রের মুল ভিত্তি : অধ্যাপক এমাজউদ্দীন

ইসমাঈল হুসাইন ইমু : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের পরিমাপক হলো ভোট। ভোটাধিকারই গণতন্ত্রের মুল ভিত্তি।’

শ‌নিবার বিকালে জাতীয় জনতা-ফোরামের পক্ষ থেকে বর্তমান দেশের পরিস্থিতির আলোকে মতবিনিময়কা‌লে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জনগণের স্বাধীনমুক্ত ভোটাধিকার প্রয়োগ যদি বাঁধার সম্মুখীন হয় তাহলে- রাষ্ট্রের কাঠামোজনিত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন ও সংবিধানবিরোধী। কারো অমতে কাউকে শাসন করা অথবা কারো থেকেই মানুষ গণতন্ত্রের চর্চা করে আসছে। জনগণ নিজেরাই ঠিক করে কে তাদের শাসক হবেন।

অধ্যাপক এমাজউদ্দীন বলেন, সরকার’ সর্বশক্তি প্রয়োগ করে তফসিল ঘোষনা করেছে। আওয়ামী লীগের এই দখলদারিত্বের নির্বাচনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে আন্দোলন করে চালিয়ে যাচ্ছে বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক দলগুলো। সরকার একদিকে বলছে তারা সুষ্ঠু নির্বাচন দেবে অন্যদিকে তারা আগে থেকেই তাদের জয় ঘোষনা করার জন্য সর্বপ্রস্তুতি নিচ্ছে।

সরকার’ জানে যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে বিএনপি একক ভাবে ১৫১ আসনে বিজয়ী হবে। সেই ভয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে চাচ্ছেনা।

উক্ত আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন জনতা-ফোরামের উপদেষ্ঠা, সিলেট- ৬ আসনের বিএনপি মনোনয়ন প্রার্থী এডভোকেট মাওলানা রশীদ আহমদ, উপদেষ্টা ও চাঁদপুর ১ – আসন কচুয়া থেকে বিএনপি মনোনয়ন প্রার্থী আ হ ম মনিরুজ্জামান ( ইন্জিনিয়ার দেওয়ান মানিক ) ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দীকী তালুকদার,  সহ- সভাপতি লেখক ও কলামিস্ট এনামুল হক কাফি, সহ সভাপতি শাকের এম মুনিম, সহ সভাপতি ডাঃ তানভীরুল আমীন, সদস্য সচিব মাহি আল ফয়সাল খান, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আমির হোসেন সরকার’, প্রমুখ।

তিনি বলেন, সংলাপে কিছু সুরাহা সমাধান হবে দেশের মানুষ প্রত্যাশা করেছিল কিন্তুু সেটি হয়নি। আর সে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে, বিরোধী জোট রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে। সেক্ষেত্রে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা হতে পারে এতে পরিস্থিতি অন্যরকম হলে দেশে এক কঠিনতরই সংকট দেখা দিবে। সেই- জন্য সরকারকে আবারও নমনীয় হয়ে সবদলের অংশগ্রহণ মুলক একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ তৈরি করা দরকার।

এমাজউদ্দীন বলেন, সংঘাত নয় সংলাপই কাম্য। সরকার’ ও প্রধান বিরোধীদল বিএনপি তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে দুুই দফা সংলাপ হলেও সত্যিকার অর্থে অর্জন খুবই সীমিত। সংলাপ দৃশ্যত শেষ হতে না হতে তফসিল ঘোষণা করা হয়, এতে বুঝা যাচ্ছে সরকারের উদ্দেশ্য দৃষ্টিভঙ্গি ভাল নয়।

সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচনকালীন সরকার প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রাখেন ড. কামাল হোসেন। সেই- প্রস্তাবটি তা সরাসরি নাকচ করে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারপর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা আদলে একজন প্রধান উপদেষ্ঠাসহ ১০ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্ঠা কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেয় ঐক্যফ্রন্ট। সেই- প্রস্তাবটি সংবিধানসম্মত নয় বলে আপত্তি জানান প্রধানমন্ত্রী।

এতে একাদশ নির্বাচন অনুষ্ঠান একটি ঘুর অন্ধকারময়ের মধ্যে নিক্ষেপ করা হল। তফসিল ঘোষণার মধ্যে দিয়ে যে তারিখ নিধারিত হয়েছে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সেই বিষয়টি ফলশ্রুত কতটুকু হবে তার আলামত দেখা যাচ্ছেনা। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন কতটুকু সফল হবে তার আলামত এখনও সুস্পষ্টভাবে লক্ষণীয় দেখা যাচ্ছেনা। এই ঘোষিত তফসিল বিএনপি বা জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মেনে নিবেনা। একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন তফসিল দিয়েছে। এতে জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটেনি। এর মাধ্যমে আবারও একতরফা নির্বাচন- সরকারের ইচ্ছারই প্রতিফলন ঘটল।

তিনি আরও বলেন জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন না ঘটিয়ে কমিশন একতরফাভাবে আবারও একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তফসিল ঘোষণা করেছে। এ তফসিল ঘোষণার ব্যাপারে পরিস্কার হল নিজেদের আশার পরিপন্থী কোনো নির্বাচন- দেশের জনগণ গ্রহণ করবে না। আমি আশা করব সংঘাত এড়াতে সুষ্ঠু নির্বাচন- অনুষ্ঠানে দুুই পক্ষই সুমতির পরিচয়- দেবে এবং আলোচনার মাধ্যমে এই তফসিল বাতিল করে পুর্ণরায় সবদলের মতামতের ভিত্তিতে নতুন তফসিল ঘোষণা করার জন্য আহবান জানাই। সেই- বিষয়টি বর্তমান সময়েরই একমাত্র দাবি।

সর্বাধিক পঠিত