প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘মঞ্জুর হত্যা মামলার তারিখ দিলেই এরশাদ আবার ‘পোষ’ মেনে যান’

রবিন আকরাম : স্বৈরাচার এরশাদ আজ শেখ হাসিনার বিশেষ দূত। তার দল জাতীয় পার্টি সংসদে প্রধান বিরোধী দল। এরশাদ মাঝে মধ্যে মোচড় দেওয়ার চেষ্টা করলেও মঞ্জুর হত্যা মামলার তারিখ দিলেই এরশাদ আবার ‘পোষ’ মেনে যান বলে মন্তব্য করেছেন লেখক ও কলামিস্ট প্রভাষ আমিন।

শনিবার অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনে তিনি এসব কথা লিখেছেন।

প্রভাষ আমিনের ভাষায়, দুই প্রধান দলের অবিশ্বাস-অনাস্থার ফাঁক গলে গণতন্ত্রের লেবাস ধরে স্বৈরাচার এরশাদ মিশে গেছেন রাজনীতির মূলধারায়। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর কেউ কি ভেবেছিলেন এরশাদ এমপি হবেন, রাজনীতি করবেন, মন্ত্রীর পদমর্যাদা পাবে? পতনের পরের পাঁচ বছরই এরশাদ কারাগারে ছিলেন। এরপর আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে মুক্তি পান। মুক্তি পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে সময় নেননি। বিএনপির সঙ্গে মিলে চারদলীয় জোট করে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। এভাবে শোচনীয় পতনের বছর সাতেকের মধ্যে এরশাদ আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধে নিজেকে জায়েজ করে নিয়েছেন।

স্বৈরাচার এরশাদ আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত। তার দল জাতীয় পার্টি আজ সংসদে প্রধান বিরোধী দল। এরশাদ মাঝে মধ্যে মোচড় দেওয়ার চেষ্টা করলেও মঞ্জুর হত্যা মামলার তারিখ দিলেই এরশাদ আবার ‘পোষ’ মেনে যান। এরশাদ আর কখনও জেলে যেতে চান না, তাই থাকতে চান ক্ষমতার সঙ্গে। এরশাদকে সঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করতে, জোট করতে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ-বিএনপি নেতাদের কেমন লাগে জানি না; দেখতে আমাদের খুব লজ্জা লাগে।

ভোটের অঙ্কের হিসাবে স্বৈরাচার আজ আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী। যেমন রাজাকার জামায়াতে ইসলামী বিএনপির জোটসঙ্গী। খেটে খাওয়া যুবক নূর হোসেনের কাছে  মূখ্য ছিল স্বৈরাচারের নিপাত, গণতন্ত্রের মুক্তি। কিন্তু বিশ্ব বেহায়া এরশাদ যখন আজ ১০ নভেম্বর পালন করে ‘গণতন্ত্র দিবস’ হিসেবে, তখন বুঝি গণতন্ত্র আজও মুক্তির জন্য ডানা ঝাঁপটায়। নূর হোসেনের আত্মা কী একটু কষ্ট পায়?

নূর হোসেন দিবসে ভোটাধিকারের জন্য আমাদের আকাঙ্ক্ষা, গণতন্ত্রের জন্য আমাদের তৃষ্ণা আরো বাড়ে। আমরা চাই সংলাপের ধারাবাহিকতায় জটিলতা মিটে যাক, সব দল নির্বাচনে অংশ নিক। উন্নয়নের যে ধারা, তা আরো বেগবান হোক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়।

প্রসঙ্গত, ১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে এরশাদের নির্দেশে কতিপয় সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল মঞ্জুরকে পুলিশ হেফাজত থেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করেছেন। এ বিষয়ে এরশাদের বিরুদ্ধে বিমানবাহিনীর তৎকালীন প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল সদরউদ্দীনসহ সশস্ত্র বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ও ১৬৪ ধারায় তদন্ত কর্মকর্তা ও আদালতে জবানবন্দি দেন। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সেনা অভ্যুত্থানে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। তখন চট্টগ্রামে অবস্থিত সেনাবাহিনীর ২৪তম পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার স্টাফ (জিওসি) ছিলেন মোহাম্মদ আবুল মঞ্জুর। জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর আত্মগোপনে যাওয়ার পথে তাঁকে পুলিশ আটক করে। এরপর ২ জুন মেজর জেনারেল মঞ্জুরকে হাটহাজারী থানার পুলিশ হেফাজত থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালে ২৮ ফেব্রুয়ারি মঞ্জুরের ভাই আইনজীবী আবুল মনসুর আহমেদ চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন।

সর্বাধিক পঠিত