প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘শেখ হাসিনা এগুলোর সব ক’টাকে রগে রগে চেনেন’

রবিন আকরাম : জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এর সাথে প্রধানমন্ত্রীর সংলাপের সময় সেখানে চাটুকার আর স্বার্থলোভী নেতাদের সাথে শেখ হাসিনার যে কথপোকথন দৈনিক সমকালের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছিলো সেটি আমি আমার ফেসবুকে দিয়েছি।

ফেসবুকে দেবার পর একদল লোক আমাকে প্রশ্ন করেছে, প্রধানমন্ত্রী এমন ঔদ্ধত্য নিয়ে এমন “মানীগুনী” ব্যাক্তিদের সাথে কেন কথা বলবে? কিসের তাঁর এত অহংকার? আর কেনই বা এই ব্যাক্তিগত সংলাপ বা কথন প্রকাশ পাবে?

আমি এইসব প্রশ্ন শুনে হাসি। হাসি ছাড়া আর কি কিছু করবার রয়েছে?

বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের সাথে জিয়াউদ্দিনের ব্যাক্তিগত স্কাইপি কথপোকথন যখন প্রকাশিত হয়েছিলো তখন এই একই লোকগুলো সেই কথপোকথনকে স্বাগত জানিয়ে ফেসবুকে এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাকে নিয়ে কটুক্তি করেছিলো।

ব্যাক্তিগত কথপোকথনের এই যে প্রকাশের ধারা, সেটি তখন থেকেই প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা সাঈদী হুজুরের লইট্টা মাছের গল্প শুনেছি, আমরা এম কে আনোয়ারের গল্প শুনেছি, মির্জা আব্বাস, খোকা, জাফরুল্লাহ,মান্নার ভাইবারের গল্প শুনেছি। আমরা এমনকি শেখ হাসিনা ও খালেদার কথপকথনও শুনেছি। কিছু আর বাদ থাকেনি।

তো স্কাইপি কথপোকথন নিয়ে যারা করতালি বাজিয়ে স্বাগত জানিয়েছিলেন, “সত্য প্রকাশিত হোক”, এই বক্তব্য তুলে ধরে, তারা ঠিক কোন মুখে অন্য প্রকাশিত সংলাপ নিয়ে অসভ্যতার কিংবা অভব্যতার কথা বলে?

আমি জানতে চাই, ঠিক কোন মুখে?

এই যে আপনারা বেকায়দায় পড়লে হঠাৎ হঠাৎ সুশীল হয়ে ওঠেন, এই মানিকের চিপাতে পড়ে হঠাৎ হঠাৎ আপনারা ভদ্রলোক হয়ে ওঠেন, এটা আমাকে পৈশাচিক আনন্দ দেয়, একেই বলে পলিটিক্স অফ কনভেনিয়েন্ট। অর্থ্যাৎ নিজের সুবিধামত ভালো আর খারাপের ভেদাভেদ বা সংগা বের করা।

আরো পড়ুন কথপোকথন : ‘এইসব নেতা নাকি বাংলাদেশ চালাবে’

হাসিনা যাদের সেদিন ক্র্যাক করে চেপে ধরেছিলো এদের প্রত্যেকেই হচ্ছে পুরানা পাপী। শেখ হাসিনা এগুলোর সব ক’টাকে রগে রগে চেনেন। হাড়ে মজ্জায় চেনেন। এদের প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী ছিলো, এরা প্রত্যেকেই ছিলো আওয়ামী লীগের আদাবাটা খাওয়া বদমাশ। এখন দল থেকে বের হয়েই হাসিনাকে জাপটে ধরতে চায়। সুতরাং হাসিনা কেন এদের ছেড়ে কথা বলবেন?

কেন বলবেন? কিসের জন্য বলবেন?

হাসিনা এদের প্রত্যেকটাকে ধরে ধরে যে নাকানি চুবানি খাইয়েছেন, অত্যন্ত সঠিক কাজটা করেছেন। এই কাজের জন্য হাসিনা পুরষ্কার প্রাপ্যের কাজ করেছেন।

যেই মান্না একদিন দেশ নিয়ে ভাবতো, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ভাবতো। যে মান্না একদিন ছাত্র অবস্থায় সমাজতন্ত্রের বুলি কপচাতো, সেই মান্না এখন রাজাকারের জননী খালেদাকে জান দিয়ে মুক্ত করতে চায়?

আর সেটি জানতে পেরে হাসিনা মান্নাকে ধরেছে বলে আপনাদের গায়ে এসে লেগেছে এখন? আসলে লাগবেই তো। খালেদার ছাল লুকিয়ে আপনারা এখন ঐক্যফ্রন্টের ছাল গায়ে দিয়েছেন। আদর্শটা তো আপনাদের ঐ একটাই।

আমি ব্যাক্তিগতভাবে গত পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগের এই লুটপাট, বাক-স্বাধীনতাতে হস্তক্ষেপ আর গুম রাজনীতি দেখে বিষাদগ্রস্থ ছিলাম এবং আছিও।

আমার হৃদয়ের দল, আমার ভালোবাসার দল আওয়ামী লীগের এই পতন আমাকে প্রতি নিয়ত কষ্ট দেয়, ভেতরটা দগ্ধ করে। আমি অসংখ্যবার আমার কষ্টের কথা, আমার ক্রোধের কথা ফেসবুকে বলেছি, টিভিতে টকশোতে গিয়ে বলেছি, পত্রিকার কলামে বলেছি, রেডিওর অনুষ্ঠানে বলেছি।

আমি মনে প্রাণে চাই আওয়ামী লীগের এই রাজনীতির পাল্টা রাজনীতি দাঁড়াক আর সেটি হোক বঙ্গবন্ধুকে সূপ্রীম লিডার মেনে এবং তাঁকে সম্পূর্ণ স্বীকার করবার ও আয়ত্ব করবার মাধ্যমে।

আমি চাই মুক্তিযুদ্ধকে যারা ধারন করতে পারবে বুকের ভেতর তারাই এই বাংলাদেশে করতে পারবে রাজনীতি। আমি চাই বঙ্গবন্ধুর খুনীদের সহযোগী, বেনিফিশিয়ারী, স্তাবকদের কাছ থেকে দূরে থাকুক রাজনীতি।

শিক্ষিত তরুন, যুবা যারা এই দেশের মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োগ করবে, তারাই করুক রাজনীতি। আর আওয়ামীলীগের আদর্শের প্রতিপক্ষ হিসেবে তাঁরাই একমাত্র ফ্রন্ট করতে পারে, ঐক্য করতে পারে। পঁচে যাওয়া মান্না, জাফরুল্লাহ, রব কিংবা কাদের সিদ্দিকীরা নয়।

(লেখক ও কলামিস্ট নিঝুম মজুমদার)

সর্বাধিক পঠিত