প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আজ বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের ১৮ বছর

স্পোর্টস ডেস্ক: টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ১৮ বছর পূর্ণ হলো। ২০০০ সালে আজকের এই দিনেই টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক বাংলাদেশের। ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ খেলতে নেমেছিল নিজেদের প্রথম টেস্ট।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে জাগরণের সূচনাটা ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয়ের মাধ্যমে। আইসিসি ট্রফি জিতেই ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে খেলতে যায় বাংলাদেশ। সেখানে পাকিস্তানকে হারিয়ে টেস্ট প্রাপ্তির দাবিটা জোরালো করে টাইগাররা। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০০ সালের জুনে আইসিসির পূর্ণ সদস্যপদ লাভ করে বাংলাদেশ।

এরপর ২০০০ সালের ১০ নভেম্বরের সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে বাংলাদেশের। ঢাকায় ঐতিহাসিক অভিষেক টেস্ট আয়োজন করা হয় ভারতের বিপক্ষে। সৌরভ গাঙ্গুগুলির সঙ্গে সেদিন টস করতে নেমেছিলেন বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়। অভিষেক ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৪০০ রান করেছিল বাংলাদেশ। অথচ অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো দল তাদের টেস্ট অভিষেকে ৩০০ রানই করতে পারেনি। ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড তো ২০০ রানই পেরোতে পারেনি। আর দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস গুটিয়ে গিয়েছিল মাত্র ৮৪ রানেই।

টেস্ট অভিষেকে দলীয় সর্বোচ্চ রানের স্কোরটা জিম্বাবুয়ের (৪৫৬) রান। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহটা বাংলাদেশের (৪০০)। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরও বাংলাদেশের দখলে। দেশের এবং নিজের অভিষেক টেস্টেই ১৪৫ রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস খেলেছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৯১ রানে অলআউট হওয়ায় ভারতের কাছে ম্যাচটি হেরে যায় লাল-সবুজরা।

প্রথম টেস্টে হারলেও প্রাপ্তি কম ছিল না বাংলাদেশের; আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সেঞ্চুরির আগে বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন হাবিবুল বাশার সুমন । দুর্জয় ৬টি ও মোহাম্মাদ রফিক নিয়েছিলেন ৩টি করে উইকেট।

১৮ বছর পূতির দিনে র‌্যাংকিংয়ে ৯ নম্বরে উঠে সেরা সাফল্যেই ভাসছে বাংলাদেশ। এর আগেও বাংলাদেশ টেস্টে র‌্যাকিংয়ে ৯ নম্বরে ছিল। কিন্তু সেটি নিজেদের যোগ্যতায় নয়। ২০০৬ সালে টেস্ট ক্রিকেট থেকে প্রায় ছয় বছরের জন্য নিজেদের সরিয়ে নেয় জিম্বাবুয়ে। এর ফলে টেস্ট খেলেছে নয়টি দেশ। স্বাভাবিকভাবেই ৯ নম্বরে থেকেছে বাংলাদেশ। এখন নিজেদের যোগ্যতায় নয়ে এসেছে বাংলাদেশ।

এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ১০৯টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছে। এর মধ্যে জয় এসেছে ১০ ম্যাচে। হেরেছে ৮৩টিতে। আর ড্র করেছে ১৬ ম্যাচ। দেশের মাটিতে ছয়টি ও দেশের বাইরে চারটি টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। প্রথম টেস্ট খেলার পাঁচ বছর পর ২০০৫ সালে চট্টগ্রামের মাটিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জিতে বাংলাদেশ। এরপর অপেক্ষা করতে হয় আরো চার বছর ।

বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট জিতেছে ২০০৫ সালে, চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। আর সবশেষ জয়টি গত বছর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। যেটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়। বাকি নয় জয়ের পাঁচটি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে, দুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে একটি করে।

টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর ৬৩৮, ২০১৩ সালে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ওই ইনিংসেই দেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিকুর রহিম। সাদা পোশাকে বাংলাদেশের সর্বনিম্ন স্কোর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই। চলতি বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছিল ৪৩ রানে।

দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট রান তামিম ইকবালের (৫৬ ম্যাচে ৪০৪৯ রান)। সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরিও তামিমের (৮টি)। সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস সাকিব আল হাসানের (২১৭, ২০১৭ সালে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে)।

সবচেয়ে বেশি উইকেট সাকিবের (৫৬ ম্যাচে ১৯৬ উইকেট)। দেশের হয়ে ১০০ বা এর বেশি উইকেট আছে আর মাত্র একজনের, মোহাম্মদ রফিক। ৩৩ টেস্টে রফিকের উইকেট ঠিক ১০০টি।

দেশকে সবচেয়ে বেশি টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন মুশফিকু রহিম (৩৪টি)। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করেছেন হাবিবুল বাশার। সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলেছেন মুশফিকুর রহিম (৬৩টি)।

পরিসংখ্যানে সাফল্যের থেকে ব্যর্থতার পাল্লাই বেশি ভারী বাংলাদেশের। তবে আশার কথা হচ্ছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট এখন এগিয়ে যাচ্ছে। সঠিক পথে হাঁটছেন টাইগাররা। মুশফিক, রিয়াদ, সাকিব, তামিম ও মুমিনুল বাংলাদেশকে নতুন সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ