প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

উনি প্রধানমন্ত্রী, আমি কেন আসামি?

বিভুরঞ্জন সরকার : গত কয়দিনে আকস্মিকভাবেই যেন রাজনীতিতে কিছুটা নাটকীয়তা তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা ‘না’ থেকে আলোচনা ‘হ্যাঁ’ হওয়ার পর থেকেই রাজনীতিতে উত্তেজনা প্রশমিত হতে শুরু করেছে। ঐক্যফ্রন্টের ব্যানারে হলেও বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগ মুখোমুখি আলোচনায় বসায় রাজনীততে যে সুবাতাস ছড়িয়ে পড়ছে, সেটা ধীরে ধীরে টের পাওয়া যাচ্ছে, আরো যাবে। বাইরে থেকে যারা যারা উত্তেজনা ছড়ান, গরম বাতাস দেন, তারা হয়তো এখনও বুঝতে পারছেন না পরিবর্তনটা কীভাবে ঘটছে। তারা এখনও পানির ওপরের ফেনা দেখছেন, ভেতরের শান্ত প্রবাহ দেখছেন না। বিএনপি নেতাদের বক্তৃতা সুক্ষভাবে খেয়াল করলেই বোঝা যাবে তারা কতোটা বাকসংযমী হয়ে উঠেছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বিএনপি নেতারা খুশি না হলেও বলেননি যে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা এতোদিন বলা হয়েছিলো, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বেগম জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গটি জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়নি। তবে বাইরে নানা গুজব ছড়িয়েছে। খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পাবেন, তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশ চলে যাবেন এমন রটনাও ছিলো। অথচ বাস্তবে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র। খালেদা জিয়া বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। গত ৮ নভেম্বর তাকে হাসপাতাল থেকে আবার জেলে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ‘মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে চিকিৎসা শেষে খালেদা জিয়াকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।। বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট ভালো।’

অন্যদিকে বিএনপি নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। তিনি হুইলচেয়ারেও ঠিকমতো বসতে পারছেন না।

বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়াকে গুরুতর অসুস্থ দেখিয়ে তার মুক্তির দাবি যৌক্তিক প্রমাণ করতে চাইছেন কয়েক মাস ধরেই। কিন্তু তাতে সফল হতে পারছেন না।

আলোচনায় বসার পর গুজব চাউর হয়েছিলো যে বেগম জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে। কিন্তু বিদেশের পরিবর্তে পুনরায় কারাগারে পাঠানোতে নতুন গুজব হচ্ছে, তিনি বিদেশ যেতে সম্মত হননি।

এদিকে গণমাধ্যমে খবর বের হয়েছে যে, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিএনপি মহাসচিব এই সহায়তা নেবেন কিনা তা তিনি বলেননি। তবে এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সরস আলোচনা আছে। এই অবস্থায় বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে বলেও খবর বের হয়েছে। বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুকূল সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে সেটা অপ্রত্যাশিত না হলেও গণমাধ্যমের জন্য হবে ‘জবর খবর’।

গত ৮ অক্টোবর নাইকো দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানির এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘নাইকো দুর্নীতি মামলায় আমি কেন আসামি হলাম, উনি ( শেখ হাসিনা) কেন আসামি হলেন না’? বেগম জিয়ার এই প্রশ্নের মধ্য দিয়ে তার ভেতরের আর্তি-হাহাকারই যেন প্রকাশিত হয়েছে। তিনি যেন বলতে চেয়েছেন, উনি প্রধানমন্ত্রী, আমি কেন আসামি বা জেলে?

রাজনীতির এই এক আজব খেলা। সকাল বেলা আমির রে ভাই, ফকির সন্ধ্যা বেলা। খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু পা ফসকে আলুর দমের মতো এখন তিনি দুর্নীতির মামলায় জেলে আছেন। এর আগে এক/ এগারোর সময় তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। শেখ হাসিনাও তখন কারাগারেই ছিলেন। অথচ এখন শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী আর বেগম জিয়াকে ব্যক্তিগত সহকারী ফাতেমাকে নিয়ে নির্জন কারাগারে সময় কাটাচ্ছেন। এই বিষয়টি সহজভাবে নিতে পারছেন না। পারার কথাও না। কিন্তু ভুল রাজনীতি বেগম জিয়াকে আজ অসহায় পরিণতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।

তবে আফসোস, অনুশোচনা বাদ দিয়ে বেগম জিয়ার উচিত হবে দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরামর্শ দিয়ে নিজে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ চলে যাওয়া। তিনি যদি নিজেকে আবার প্রধানমন্ত্রীর আসনে দেখতে চান তাহলে ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করার বিকল্প আছে বলে মনে হয় না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ