প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নৌকায় চড়ে সংসদে যেতে চায় ইসলামী দলগুলো

বাংলাদেশ প্রতিদিন : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত ১২ দলের মধ্যে মহাজোটের শরিক একমাত্র ইসলামী দল তরিকত ফেডারেশন নির্বাচনে অংশ নেয়। কয়েক মাস আগেও ইসলামী দলগুলো প্রধানমন্ত্রীর অধীনে নির্বাচনে যাবে কি না এ নিয়ে ছিল দোটানায়। কিন্তু অতিসম্প্রতি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ইসলামী দলগুলোর শীর্ষ নেতারা বলছেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই নির্বাচন হতে হবে।

সাংগঠনিক অবস্থা যেমনই হোক না কেন, দলগুলো আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট বাঁধার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে নৌকা উঠে যেতে চাইছেন সংসদে। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম জোটের বাইরে থাকা মুফতি সৈয়দ রেজাউল করীম চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। তারা ইতিমধ্যে এককভাবে নির্বাচনের জন্য ৩০০ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। জানা যায়, মঙ্গলবার আটটি রাজনৈতিক দলের ৪১ জন নেতা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে অংশ নেন। প্রতিটি দলই আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রতিটি দলই প্রধানমন্ত্রীর আস্থায় সংসদে যেতে চান। এ ছাড়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত জাতীয় জোটে ৩৫ দলের সমন্বয়ে ‘ইসলামী মহাজোট’ রয়েছে। তারা আশায় রয়েছেন, এইচ এম এরশাদ আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হলে তারাও নৌকায় চড়ে সংসদে যাবেন। এই জোটে আরও দুটি নিবন্ধিত ইসলামী দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট রয়েছে।

এ ছাড়া সম্প্রতি মিছবাহুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ইসলামী জোট ১৫-দলীয় ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স গঠন করেছে। সংগঠনের কো-চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল এমপি ঘোষণা দিয়েছেন, এই সংগঠন পরিচালিত হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য। দলের সবাই আশায় আছেন নৌকায় চড়ে সংসদে যাবেন। জামায়াতে ইসলামী নিবন্ধন হারানোর পর নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ইসলামপন্থি দলের সংখ্যা এখন ১২টি। এর মধ্যে ছয়টি দল শরিয়া আইন বাস্তবায়নের দাবিতে রাজনীতি করে। মুসলিম লীগের দুই অংশ বাদে বাকি চারটি দল মাজার ও সুফিপন্থি। জামায়াতসহ শরিয়া আইন প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজনীতি করা ইসলামপন্থি দলগুলোর নেতারা দাবি করেন, সারা দেশে তাদের ২০ শতাংশ ভোট আছে। তবে কোনো নির্বাচনেই দলগুলোর প্রাপ্ত সম্মিলিত ভোট ১৪ শতাংশের বেশি ছিল না। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তাদের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ বা প্রায় ৪৪ লাখ। বড় দুই জোটে থাকা দলগুলো আসন ভাগাভাগির হিসাব কষছে। এর বাইরে থাকা কয়েকটি ধর্মভিত্তিক দল পৃথক মোর্চা গঠনের চেষ্টা করছে। ক্ষমতাসীন জোটের সঙ্গে সমঝোতা করতে চায় মোর্চার উদ্যোক্তা ছাড়াও আরও অন্তত তিনটি দল। তাদের সবার লক্ষ্য, আগামী নির্বাচনে জোটের মনোনয়ন। অনিবন্ধিত জামায়াত ছাড়াও বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলে রয়েছে কওমি মাদ্রাসা ঘরানার জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও খেলাফত মজলিস। এ দুই দল হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। মুসলিম লীগের একাংশও রয়েছে ২০ দলে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটে রয়েছে সুফি ঘরানার তরিকত ফেডারেশন। জাপা জোটের শরিক ইসলামী ফ্রন্ট। জামায়াতের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মভিত্তিক দল হিসেবে পরিচিত চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন কোনো জোটে নেই। হেফাজত-সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও খেলাফত আন্দোলনও জোটবিহীন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ছাড়ার পর তাদের নিয়ে পৃথক মোর্চা গঠনের চেষ্টা করছে ইসলামী ঐক্যজোট। তারাও আওয়ামী লীগের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। আরও তিন ইসলামপন্থি দল জাকের পার্টি, ইসলামিক ফ্রন্ট ও মুসলিম লীগের অপরাংশও কোনো জোটে নেই। তারাও চায় ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগের পাশে থাকতে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে ৪৩ আসনে প্রার্থিতা চূড়ান্ত করেছিল জামায়াত। এবার তাদের চাওয়া অন্তত ৫০ আসন। এরই মধ্যে দলটি ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

২০১৩ সালে হাই কোর্টের রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে। আপিলে নিবন্ধন ফিরে না পেলে আগামী নির্বাচনে দলীয় পরিচয়ে অংশ নিতে পারবে না দলটি। উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জামায়াত মনোনীতরা। আগামী নির্বাচনে একই পথে হাঁটতে পারে দলটি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে না থাকলেও ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জন করে ইসলামী আন্দোলন। দলটি এবার এককভাবে ভোটে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সারা দেশে প্রায় ১ শতাংশ ভোট পাওয়া দলটির মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ জানিয়েছেন, তারা কোনো জোটে যাবেন না। সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এরশাদের জোট থেকে ভোট করবে। দলটির যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা করেছি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট হলে আমাদের সম্মানজনক আসন দেওয়া হবে বলে আমরা আশাবাদী।’ ইসলামী ঐক্যজোট আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রার্থী দেবে। প্রয়োজনে নৌকা প্রতীকেও ভোট করবে তারা। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে তরিকতকে দুটি আসন ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। দুটি আসনে জয়ী এ দলটির সাবেক মহাসচিব এম এ আউয়াল এমপি জানিয়েছেন, ১৬টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ইসলামিক ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স গঠন করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী যেভাবে চাইবেন সেভাবেই নির্বাচনে যাবেন তারা। মাওলানা মুহম্মদ ইসহাকের নেতৃত্বাধীন খেলাফত মজলিস বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট থেকেই অংশ নেবে।

খেলাফত মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের জানিয়েছেন, তারা তালিকা দেবেন বিএনপিকে। অন্তত পাঁচটি আসনে জয়ী হওয়া তাদের লক্ষ্য। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম সম্প্রতি ভেঙে গেছে। দুই অংশই বিএনপির শরিক। শায়খ আবদুল মোবিনের নেতৃত্বাধীন অংশ জোটের কাছে অন্তত পাঁচটি আসন চায়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত