প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফিচার
তুরস্কের কিবলা জামে মসজিদ

নূর নাহার আলো : পাহাড়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার মিটারেরও বেশি উচ্চতায় একটি মসজিদ। সবুজারণ্যে ঘেরা পাহাড়ের বুকে নান্দনিক মসজিদটি বিস্ময় ছড়ায় দর্শকের চোখে-মুখে। পাহাড় ও মসজিদ উভয়টির যৌথ নাম ‘কিবলা পাহাড়’ ও ‘কিবলা জামে মসজিদ’।

মসজিদের পুরো আঙিনা ঘিরে রয়েছে সবুজে ছাওয়া শ্যামলী নিসর্গ। মসজিদ প্রাঙ্গনে বসে বুনো প্রকৃতির সতেজ আমেজ পাওয়া যায় প্রতিনিয়ত। মাঝে মাঝে নেমে আসা মেঘের ভেলা আনন্দ ছড়িয়ে দেয়, ছোট-বড় সবার মন-মানসে।
সকালে পাখিদের বৈচিত্রময় কল্লোল ও সন্ধ্যায় ঝিঁ ঝিঁ পোকার হল্লা মুসল্লিদের কর্ণকুহরে মধুময় সুর ছড়ায়। অনেক দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন, সারি সারি সবুজের ঢেউয়ে জেগে ওঠেছে আধ্যাত্মিক ও পরলৌকিক স্থাপনা আল্লাহর পবিত্র ঘর মসজিদ।

পাহাড়ের বুকে এমন সুন্দর ও মুগ্ধকর দৃশ্যের মসজিদটি তুরস্কের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের রেজা প্রদেশের গনি সো জেলায় অবস্থিত। চোখ জুড়ানো ও মনোরম এ মসজিদ দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। পর্বতটি ‘কিবলা পাহাড়’ নামে প্রসিদ্ধ হওয়ার কারণ, এটি কিবলার দিকে হওয়ার পাশাপাশি প্রদেশের অনেক জেলা থেকে এটি দেখা যায়। ফলে কালের পরিক্রমায় এই নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।

আনাতোলিয়া সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, কেবলা পাহাড়ের এ মসজিদটি ৯ম শতাব্দীতে নির্মাণ করা হয়। তৎকালীন কাঠের তৈরি মসজিদটি দীর্ঘকাল এ অবকাঠামোয় টিকে ছিল। তবে ১৯৬০ সালে একবার আগুন লেগে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এরপর প্রায় দেড় বছর ধরে ২০০৯ সালে নতুন করে তুর্কি স্থাপত্য-রীতিতে মসজিদটির সংস্কার ও নির্মাণকাজ করা হয়। মসজিদের ভেতরে-বাইরে সৌন্দর্য্য বর্ধন করা হয়।

এছাড়াও পাহাড়ের গা বেয়ে মসজিদে পৌঁছানোর জন্য একটি রাস্তা, মসজিদের আঙিনা থেকে পাহাড়ে হেঁটে বেড়ানোর ছোট ছোট পথ এবং পর্যটক ও দর্শকদের জন্য বিশ্রাম নেয়ার স্থান ও ফুলের বাগান তৈরি করা হয়। ২০১০ সালে এ শহরে শৈশব কাটানো তুর্কি প্রধানমন্ত্রী রজব তাইয়েব এরদোয়ান মসজিদটি উদ্বোধন করেন।

এরপর ২০১৫ সালে এরদোয়ান পাহাড় ও শহরকেন্দ্রিক বনাঞ্চলে অবস্থিত মসজিদ কমপ্লেক্সগুলো নতুন করে সংস্কারের উদ্যোগ নেন। সে সংস্কার প্রকল্পে মসজিদগুলোকে আরো বেশি প্রকৃতি ও পরিবেশবান্ধব করে তোলা হয়।

মসজিদটি উদ্বোধনকালে তুর্কি প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমরা কিবলা পর্বতমালার শীর্ষে অবস্থিত মসজিদটিতে দাঁড়িয়ে আছি। যেটির বর্ণোজ্জ্বল দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে এবং অনেক কিংবদন্তীর জীবন-কাহিনী এটির সঙ্গে মিশে আছে। আর এ মসজিদটির কথা আমি শৈশব থেকেই শুনে আসছি। এটি আমাদের গর্ব ও কীর্তির অংশ। যারা গ্রীষ্মে এখানে ভ্রমণে আসেন, তাদের অনেক মোবারকবাদ।

কিবলা মসজিদের কর্তৃপক্ষও বিশ্বাস করেন, চমৎকার পরিবেশ-প্রকৃতির কারণে এটি পর্যটকদের বাড়তি মনোযোগ আকর্ষণ করবে এবং ভবিষ্যতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক ও আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ