প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাঁড়াশি অভিযানেও বন্ধ নেই মাদকের সরবরাহ

আনিসুর রহমান তপন : সরকারের কঠোর অবস্থান ও নানা উদ্যোগেও বন্ধ হচ্ছে না মাদকের সরবরাহ। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযনের পাশাপাশি মাদকের প্রধান রুট কক্সবাজার ঘিরে নেয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। তাছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিশেষ পরিচালনা করছে বিশেষ অভিযান। তারপরও বন্ধ হচ্ছে না মাদকের সরবরাহ। প্রতিদিনই রাজধানীসহ সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করছে ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাদকের আগ্রাসন রোধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে রয়েছে একটি স্ট্র্যাটেজিক কমিটি। কমিটির সুপারিশে প্রস্তুত করা হয়েছে একশন প্ল্যান। কাজও চলছে সেই প্ল্যান অনুযায়ী।

এছাড়াও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি জেলায় ১০জন ও মেট্রো এলাকায় ২০জন করে অঙ্গিভূত আনসার সদস্য নিয়োগের প্রস্তাব বিবেচনাধীন অর্থ বিভাগে। নৌ ইউনিটসহ ৯৪ জনবল বিশিষ্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একটি বিশেষ টিম কক্সবাজার জেলায় স্থাপনের কাজ চলছে। একই সঙ্গে মিয়ানমারের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সীমান্তে অভিযান চালাতে বর্ডার লিয়াঁজো অফিস স্থাপনেরও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এদিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অভিযান চালিয়ে ২০১৭ সালে এক লাখ ৩২ হাজার ৮৯৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে। আটকের এসব ঘটনায় মামলা এক লাখ ছয় হাজার ৫৪৬টি। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬২ হাজার ৪৪৭টি মামলায় ৮৩ হাজার ৩২৩জন আসামিকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তাছাড়া মাদকের বিরুদ্ধে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের সাত হাজার ৭৭০টি অভিযানে মামলা হয় তিন হাজার ৮৬২টি।

চলতি বছর জানুয়ারী থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২৯ কেজি হেরোইন, ৮৫ লাখ দুই হাজার ১০৪ পিস ইয়াবা, এক লাখ ১৭ হাজার ৯৮৩ বোতল ফেন্সিডিল, ৪৪ লাখ ৮৯ হাজার ৩২৮ কেজি গাঁজা, বিদেশি মদ নয় হাজার এক বোতল, ১৭ লাখ ৫০ হাজার ৬৮ লিটার দেশি মদ, ৩৪ হাজার ৫৩২ ক্যান বিয়ার, ১৩ হাজার ২৩ পিস নেশা জাতীয় ইনজেকশন, আফিম সাত কেজি ও ১০ হাজার পিস যৌন উত্তেজক ভায়াগ্রা ট্যাবলেট উদ্ধার করে র‌্যাব।

আর জানুয়ারি থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগে সারাদেশে ৭৮ হাজার ৬৭৪টি মামলা করেছে পুলিশ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর করেছে পাঁচ হাজার ১৯টি মামলা। বিজিবি এক হাজার ২২টি ও কোস্টগার্ড ১৩টি মামলা দায়ের করেছে। পুলিশসহ সব সংস্থার হাতে আটক হয়েছে এক লাখ ১৭ হাজার ৬৪ জন। হেরোইন ৩২৩ কেজি, পুরিয়া এক লাখ ৮৫ হাজার ৬১০টি, দুই লাখ ৮৫ হাজার ৫৭ বোতল ফেনসিডিলসহ দুই কোটি ৮৫ লাখ ৮৯ হাজার ৬৬৭ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, মাদকের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি এটা যেমন সত্য, ঠিক তেমনি সরকারও মাদক পাচার প্রতিরোধে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে

মাদক তথা ইয়াবা পাচার প্রতিরোধে নানা উদ্যোগের পাশাপাশি কক্সবাজার জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বিশেষ জোন গঠনের কাজ চলছে জানিয়ে মাদক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আতিকুল হক বলেন, নৌ ইউনিটসহ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠন, আলোচনা সভা ও সেমিনার অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পোস্টার, লিফলেট, স্টিকার, স্যুভেনির প্রকাশ ও বিতরনের কাজ অব্যাহত রয়েছে।

আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদকের সরবরাহ বন্ধ না হওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, ব্যবসা ভালো, চাহিদা আছে। সেই কারনেই মাদক আসছে। সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের ফলে মাদকের সরবরাহ এখন অনেক কম। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত কিনা জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নয়, এই ব্যবসার সঙ্গে অনেকেই জড়িত। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ