প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সমঝোতার সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি

মেজর অব. মোহাম্মদ আলী সিকদার : প্রথম কথা হলো, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতার সময় এখনো ফুরিয়ে যায় নি। নির্বাচন কমিশন যে তফসিল ঘোষণা করেছেন, এটি কোন ভাবেই সমঝোতার পথকে বাধাগ্রস্থ করবে না। যদি স্বপক্ষ সমঝোতায় আন্তরিক হয়। দি¦তীয় কথা হলো, সমঝোতা মানে এটি নয় যে, একপক্ষ অপর পক্ষের কাছে যে দফা বা দাবির প্রস্তাব করবে এটি মেনে নেয়া। সমঝোতা মানে হলো, পরস্পরের উপর আস্থা, শ্রদ্ধা এবং বিশ^াস। ইতিমধ্যে আমরা দেখেছি যে, অতীতে আস্থার যে প্রবল সংকট ছিলো, সংলাপের মধ্য দিয়ে এটি বহুলাংশেই দূর হয়েছে।

সব পক্ষই সব পক্ষকে সম্মান দিয়ে কথা বলছেন, একে অপরকে সম্মান করছেন। সবার কথা বলার ধরণ এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে আমরা বুঝতে পারছি যে, অবশ্যই একটি আস্থা এবং বিশ^াসের জায়গা তৈরি হয়েছে। যতটুকু আস্থা এবং বিশ^াসের জায়গা তৈরি হয়েছে, এটি যদি কোন পক্ষ ভঙ্গ না করে তাহলে, একটি সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করা সম্ভব। সব দলই এখন বুঝতে পারছে যে, নির্বাচন ছাড়া কোন উপায়ে রাজনৈতিক দল তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে পারবে না। তাই আমার মনে হয়, দাবি- দাওয়া, অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত চলতেই থাকবে। তারপরেও যতটুকু বিশ^াস এবং আস্থার জায়গা তৈরি হয়েছে, এর উপর ভিত্তি করে আগামীতে একটি সুস্থ এবং সঠিক নির্বাচন করা সম্ভব। এটি হচ্ছে প্রত্যাশার জায়গা।

তবে একেরারেই যে, শঙ্কার কিছু নেই তা কিন্তু নয়। সবজায়গায় এমন কিছু পক্ষ থাকে, যাদের জনগণের উপর ভিত্তি করে যে রাজনৈতিক শক্তি থাকার কথা, এটি তাদের নেই। তারা জানে, তারা নির্বাচনে গেলে জয়ী হতে পারবে না। যারা নির্বাচনে জয়ী হতে পারবেন না তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ হয়তো, যারা নির্বাচনের দিকে যেতে চায়, তাদেরকে বাধা দিয়ে একটি অশুভ চক্রান্ত করতে পারে। সেই চেষ্টা করবে বলে আমাদের আশঙ্কা হয়। যদিও আশঙ্কা আছে, তবে তারা সেই চেষ্টা করেও সফল হতে পারবে না। কারণ, তফসিল ঘোষণা হয়ে গেছে এবং সবকিছু নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তাদের হাতে ব্যপক ক্ষমতা রয়েছে, এটি তারা সঠিকভাবে, আইনয়ানুগভাবে প্রয়োগ করতে পারবে। গত ৫ বছরে পুলিশের সক্ষমতা বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের জনবলের দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদেরকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে, কোন রকম ষড়ন্ত্রে কাজ হবে না।

পরিচিতি: নিরাপত্তা বিশ্লেষক/মতামত গ্রহণ: মুহাম্মদ নাঈম/সম্পাদনা: ফাহিম আহমাদ বিজয়।