প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সার্থক বাবা, গল্প নয় সত্যি!

লাইলাক শহীদ : গতকাল দুপুরে ঢাকায় উবারে যাচ্ছিলাম। বরাবরের মত চালকের সাথে দেশ, রাজনীতি, সামাজিক আর ব্যক্তিগত কথা হচ্ছে। বয়স্ক চালকের কাছে জানতে চাইলাম কতোদিন ধরে উবার চালান, পরিবারে সদস্য কয়জন এবং কে কি করে? আমাকে অবাক করে দিয়ে তিনি জানালেন দুই বছর ধরে উবার চালাচ্ছেন। বড় ছেলে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিভাগ (প্রাইভেসির কারণে লিখলাম না) থেকে অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়ে মাস্টার্স সম্পন্ন করছে। দ্বিতীয় ছেলে কুয়েট থেকে তৃতীয় বর্ষে ইঞ্জিনিয়ারিং করছে। তৃতীয় ছেলে অর্থাৎ ছোট ছেলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষে একাউন্টিং বিভাগে পড়ছে।

আমার ভেতরের প্রচ- আবেগ আর সম্মান গোপন করে তাঁর কাছে জানতে চাইলাম তাঁর অতীত এবং যা জানলামÑপ্রচ- ইচ্ছা শক্তি সম্পন্ন একজন অতি সাধারণ ক্ষেত খামারে কাজ করা মানুষের কাহিনী। প্রথম জীবনে কেবল বাংলা আর আরবী জানার কারণে মাদ্রাসায় শিক্ষকতার পাশে পাশে বিভিন্ন লোকের জমিতে কামলা হিসাবে কাজ করতেন। সেই সাথে সাথে স্ত্রীকে নিয়ে বিভিন্ন চারা উৎপন্ন করে হাটে বাজারে বিক্রি করতেন। তাঁর ভাষায় অনেকটা নার্সারি। কিছু টাকা হাতে আসার পর ষাট হাজার টাকায় একটি পাওয়ার টিলার কিনে স্বল্প বেতনের মাদ্রাসার শিক্ষকতা ছেড়ে দেন। শুরু করেন অন্যের জমি চাষ করার কাজ। এই পাওয়ার টিলার তাঁকে দেয় কিছুটা যান্ত্রিক জ্ঞান আর স্বপ্ন পূরণের চাবি। সন্তানদের ভবিষ্যত নির্মাণে ময়মনসিংহ ছেড়ে চলে আসেন রাজধানী ঢাকায়। শুরু করেন অন্যরকম জীবন যুদ্ধ।

জমানো টাকা, পাওয়ার টিলার বিক্রির টাকা, সাথে কিছু ধার করে তিন লাখ টাকায় কিনে ফেলেন একটা পুরোনো গাড়ি। নিজে গাড়ি চালিয়ে ভাড়া গাড়ির ব্যবসা করতে থাকেন। সাথে নিজে বাড়ি ভাড়া করে একটা রুম নিজেদের জন্য রেখে অন্য রুমগুলোকে সাবলেট দিয়ে ভাড়াহীনভাবে ঢাকায় বসবাস। পরিশ্রম আর বুদ্ধি দিয়ে সবকিছুই করতে থাকেন সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য। তিনি জানালেনÑতাঁর ছেলেরা খুব ভালো, তাদের পরিশ্রমের কারণে বরাবরই স্কলারশীপ পেয়েছে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েছে। না হলে তাদেরকে এই সব যায়গায় পৌঁছাতে পারতেন না। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে তো পড়ানোর প্রশ্নই আসে না। ছেলেদের সাথে তাঁর যোগাযোগ সার্বক্ষণিক। ভালো-মন্দ আলাপের সাথে সাথে তিনি খোঁজ নেন তাঁর সন্তানরা যেন বিপথে না যায়। এমন কি জঙ্গী সংশ্রবে যেন জড়িয়ে না পড়ে, সেটাও আলোচনা করেন ।  সার্থক বাবাÑজীবনের সবটুকু উজাড় করে দিয়ে গড় দিয়েছেন তিন সন্তানের ভবিষ্যত।  লেখক : সাংবাদিক, অস্ট্রেলিয়া প্রবাসি। ফেসবুক থেকে। সম্পাদনা : রেআ