প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুসলমানদের বিস্ময়কর কিছু আবিষ্কার

মোস্তফা কামাল গাজী : বিশ্বব্যাপী আধুনিক সভ্যতার যত আবিষ্কার আজ দৃশ্যমান, তার প্রায় সব বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের নেপথ্যে মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদান রয়েছে। বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব ধ্যান-ধারণা সভ্যতার বিকাশকে করেছে আরও গতিশীল ও বেগবান।

রসায়ন, পদার্থ, জীববিজ্ঞান, কৃষি, চিকিৎসা, জ্যোতির্বিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস- সর্বত্র ছিল তাঁদের অগ্রণী পদচারণা। যার ফলে পশ্চিম ইউরোপে রেনেসাঁর উন্মেষ ঘটে। মৌলিক গবেষণা এবং অনুবাদের মাধ্যমে বিশ্ব জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভান্ডার সংরক্ষণে তারা অসীম দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।’

জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মুসলিম বিজ্ঞানীদের মূল্যবান আবিষ্কারের ফলেই আজ বিশ্ববাসী আধুনিক ও উন্নত জীবন ধারণ করতে সমর্থ হয়েছে। নিম্নে মুসলিমদের এমনই কিছু বিস্ময়কর আবিষ্কার তুলে ধরা হলোঃ

কফি: কফির প্রথম আবিষ্কারক ইউরোপ বা আমেরিকার কেউ নন। নবম শতকের দিকে ইয়েমেনের মুসলিমরা প্রথম কফি চাষ ও উৎপাদন শুরু করে। আধ্যাত্মিক সাধনায় নিমগ্ন সুফিরা ইবাদত করার জন্য রাত জাগতেন। প্রথম প্রথম কফি পান করেই সুফিরা রাত জেগে থাকতেন। এরপর একদল শিক্ষার্থীর মাধ্যমে মিসরের রাজধানী কায়রোতে এসে সেই কফি পৌঁছায়। ক্রমেই সেখানেও কফি চাষ শুরু হয়। এরপর ধীরে ধীরে সমগ্র বিশ্বে কফি উৎপাদন ছড়িয়ে পড়ে।

হাসপাতাল: একসময় পৃথিবীর কোথাও এমন কোনো ব্যবস্থাপনা ছিলো না, যেখানে সাধারণ মানুষ সরাসরি গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারতো। মানুষের কল্যাণে হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা সর্বপ্রথম অনুভব করেছিলেন আহমদ ইবনে তুলুন। তিনি ছিলেন তুলুনিদ সাম্রাজ্যের একজন শাসক। তিনি ৮৭২ সালে মিসরের রাজধানী কায়রোতে সর্বপ্রথম ‘আহমদ ইবনে তুলুন হাসপাতাল’ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীকালে বাগদাদে আরও নতুনভাবে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হয়। এভাবে ধীরে ধীরে গোটা বিশ্বে হাসপাতাল ব্যবস্থা চালু হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়: পৃথিবীর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ এবং সনদ প্রদানের কার্যক্রম সূচিত হয়েছে মুসলিমদের হাত ধরেই। আফ্রিকা মহাদেশের মরক্কোয় ৮৫৯ সালে প্রিন্সেস ফাতেমা আল ফিরহি প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেন। ইতিহাস বলে, সর্বপ্রথম এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদ প্রদানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরবর্তীকালে প্রিন্সেস ফাতেমার বোন মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর পুরো কমপ্লেক্সটির নাম, ‘কারুইয়িন বিশ্ববিদ্যালয়’।

বীজগণিত: বিজ্ঞানের মূলকাঠি হলো গণিত। গণিতবিদ্যার ওপর ভিত্তি করে স্কলারগণ পৃথিবীময় গর্ব করে বেড়ান। কিন্তু অনেকেরই জানা নেই গণিতের জনক কে? সর্বপ্রথম গণিতের ধারণা দেন হজরত দাউদ (আ.)। এক দুইয়ের গণনা তারই চিন্তার ফসল। এমনিভবে বীজগণিতের প্রথম আবিষ্কারকও একজন মুসলিম।

চশমায় পরিবর্তন: চশমার ক্ষেত্রেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন মুসলমানরা। বসরা নগরীর বিখ্যাত মুসলিম পন্ডিত আল হাজেন সর্বপ্রথম বর্ণনা করেন, চোখের গঠন প্রণালি এবং চোখ কীভাবে কাজ করে। তিনিই প্রথম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রমাণ করেন, চোখের দৃষ্টি রশ্মির সঙ্গে পারিপার্শ্বিক অনুভূতি নেই। এ ছাড়া তিনিই প্রথম চশমার ধারণা দিয়ে বলেন, বাঁকানো কাচের পৃষ্ঠতল চোখের দৃষ্টি সহায়ক হিসেবে বিবর্ধনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে।