প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তফসিল ঘোষণা দেশবাসীর জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয় : চরমোনাই পীর

শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা : একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশের সর্বস্তরের মানুষের গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের যৌক্তিক দাবিকে উপেক্ষা করে এবং জাতীয় নির্বাচনের জন্য কোন রকম সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি না করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের তফসিল ঘোষণা দেশবাসীর জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়। এই তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে সরকার পাতানো নির্বাচনের চক্রান্তে মেতে উঠেছে।

শুক্রবার বিকালে খুলনার এক জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই এসব কথা বলেন। খুলনার নিউ মার্কেট সংলগ্ন বায়তুন নূর মসজিদ চত্বরে খুলনা মহানগর ও জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত এ জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।

সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বলেন, দেশবাসী চায় সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় না নিয়ে তফসিল ঘোষণা করায় জনগণ চরম হতাশ হয়েছে। আমরা আশা করবো ক্ষমতাসীন সরকার এবং নির্বাচন কমিশন সকল রাজনৈতিক দলের জন্য গ্রহণযোগ্য এবং নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরি একটি কাক্সিক্ষত নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি করবে।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গত ৫ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশের মাধ্যমে ১০ দফা দাবি পেশ করেছে। গত ১৬ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির নিকট ১০ দফা বাস্তবায়নে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। এই ১০ দফা মেনে নিলে রাজনৈতিক সঙ্কট নিরসনে আর সংলাপের প্রয়োজন হতো না।

তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে জনমনে যে ভয় ও শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে, সংলাপের মাধ্যমে তার অবসান ঘটিয়ে সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি এবং নির্বাচনের দিন সেনাবাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্তে আসতে হবে। সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য ইভিএম পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজ ও ভোট ডাকাতদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসলাম বিজয়ের জন্য নেতাকর্মীদের ত্যাগ ও কুরবানির নমুনা পেশ করতে হবে। চলমান দুঃশাসনে দেশের মানুষ ভয় ও আতঙ্কে দিশেহারা। মানুষের হাহাকারে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। মানুষ মুক্তির আশায় দিকবিদিক ছুটছে। এ অবস্থায় ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীদের আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে কাজ করতে হবে।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর ইসলামী আন্দোলন সভাপতি ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক। বক্তৃতা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর নায়েবে আমীর ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা আব্দুল আউয়াল, খুলনা জেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ ইমরান, মহানগর সহ-সভাপতি মাওলানা মুজাফফার হোসাইন, জেলা সহ-সভাপতি ও খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আবু সাঈদ, মহানগর সেক্রেটারি মুফতী আমানুল্লাহ, জেলা সেক্রেটারী শেখ হাসান ওবায়দুল করীম, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা মুজিবর রহমান, মুফতী রবিউল ইসলাম রাফে, অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, হাফেজ মুস্তাফিজুর রহমান, মাওলানা দ্বীন ইসলাম প্রমুখ।

জনসভায় চরমোনাই পীর সাহেব মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম খুলনার ৬টি আসনে দলীয় সংসদ সদস্য প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। জনসভা পরিচালনা করেন মহানগর সহ-সভাপতি শেখ মো. নাসির উদ্দীন, মহানগর জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা ইমরান হুসাইন ও জেলা জয়েন্ট সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার এজাজ মানসুর।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত