প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএসএমএমইউতে কিডনি গায়েবের ঘটনার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করবে চলচিত্র পরিবার

আবু বকর : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) এক রোগীর দুটি কিডনি গায়েবের ঘটনার বিচারের দাবি জোরদার হচ্ছে। চলচিত্রের সাথে সম্পৃক্ত ১৮টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত চলচিত্র পরিবার শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে প্রেসক্লাবের সামনে মানব বন্ধন করবে। বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক শিকদারের মা রওশন আরার অস্ত্রোপচারের পর দুটি কিডনি উধাওয়ের পর তিনি মারা গেছেন। ‘মা হত্যার বিচার চাই’ এই স্লোগানে শিল্পী সমাজ শনিবার মাঠে নামছে।

বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ বলেছে, ওই রোগীর জন্মগত কিডনি কমপ্লিকেশন (জটিলতা) ছিল। তাছাড়া অপারেশনে রক্তক্ষরণ ও ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ায় বাম কিডনি অপসারণ জরুরি হয়ে পড়েছিল। কিন্তু রোগীর কিডনি দুটি নিম্নমুখী ও সংযুক্ত বা জোড়া লাগানো ছিল। যাকে বলা হয় হর্ষ কিডনি, একটা ফেলতে গেলে আরেকটাও বেরিয়ে আসে। যেটা ডাক্তার দুর্ভাগ্যক্রমে ও অনিচ্ছাকৃতভাবে ফেলে দিয়েছিলেন। কারণ আলট্রাসনোগ্রাম ও সিটি স্ক্যানে বিষয়টি ধরা পড়েনি।

গত সোমবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের মিল্টন হলে ইউরোলজি বিভাগে রোগীর চিকিৎসা অস্ত্রোপচার সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. রফিকুল আলম।

অধ্যাপক রফিকুল আলম মতে, ‘চিকিৎসকরা শুধু এ বিষয়টি নয় কোনো বিষয়ে হেলাফেলা করে নি। এ ঘটনার পরপরই উচ্চমানের দু’টি তদন্ত কমিটি করা হয়।’

উল্লেখ্য, কিডনি জটিলতার কারণে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চলচ্চিত্র পরিচালক রফিক শিকদারের মা রওশন আরার অস্ত্রোপচার করেন কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিভাগের প্রধান হাবিবুর রহমান দুলাল।

রফিক শিকদারের অভিযোগ, হাসপাতালে অপারেশন সম্পন্ন হওয়ার পর রাত ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, তার মায়ের ডান পাশের কিডনিটি কাজ করছে না। রোগীকে দ্রুত আইসিইউতে নিতে হবে । কিন্তু বিএসএমএমইউতে আইসিইউ খালি নেই। ফলে তিনি ওই রাতে তার মাকে ইনসাফ আল-বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান। একদিন পর ইনসাফ আল-বারাকাহ কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তার হুমায়ুন রশিদ কবীর সেলিম তার মায়ের কিডনির অবস্থা পর্যালোচনার জন্য ল্যাবএইড হাসপাতাল থেকে সিটিস্ক্যান করতে বলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালে সিটিস্ক্যান করার পর রিপোর্ট পেয়ে তিনি জানতে পারেন তার মায়ের পেটে দুটি কিডনির অস্তিত্ব নেই। অবস্থা বেগতিক দেখে রফিক শিকদার বিআরবি হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের প্রধান ডাক্তার এমএ সামাদের দ্বারস্থ হন। মেডিকেল রিপোর্ট দেখার পর পর্যালোচনা করে এবং পুনরায় আলট্রাসনোগ্রাম করে কোনো কিডনির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অবশেষে ৩১ অক্টোবর রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রওশন আরা মারা যান।

রওশন আরার কিডনি উধাও হওয়ার বিষয়টি তদন্তে কিডনি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হারুন অর রশিদকে প্রধান করে সাত সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা ছিলেন- বিএসএমএমইউর ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম খুরশিদ আলম, নেফ্রোলজি বিভাগের অধ্যাপক অসীম কায়েস, রেডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান, সার্জারি বিভাগের ডিন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আমিনুর রসূল ও বিএসএমএমইউয়ের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আসাদুল ইসলাম।

কিডনী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমরা ফাইল জব্দ করে পুরো ইতিহাস জানতে চেষ্টা করি। আলট্রাসনোগ্রাম করা হয়। তার দু’টি কিডনিতেই সমস্যা। যে কিডনিটা ভালো ছিল আগে দুইবার অপারেশনের কারনে ইনফেকশন ছিল। রক্তক্ষরণ ও পুঁজ বেরিয়েছিল। রক্তক্ষরণ বন্ধ করার জন্য চেষ্টা করা হলেও কিডনি ফুলে গিয়েছিল। কিডনি হিস্টপ্যাথলজিতে দু’টি কিডনি থাকা শর্তেও আলট্রাসনোগ্রামে কেন সনাক্ত করা যায়নি সেটাই আমরা জানতে চেষ্টা করছি। দুটি কিডনি জোড়া লাগানো থাকায় ও ফুলে যাওয়ায় তা ধরা পড়েনি।’

তিনি বলেন, ‘রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় সংক্রমণও বেড়ে যায়। সারা শরীরে ছড়িয়ে যায়, ব্রেনে ছড়িয়ে যায়। এটা একটি অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনা, নিছক দুর্ঘটনা।