প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীর্ঘ ৯ বছর পর
মংলায় নবনির্মিত মডেল থানার নতুন উদ্যেমে কার্যক্রম শুরু

এস.এম. সাইফুল ইসলাম কবির, বাগেরহাট: পুরোনো ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণার দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর পর নবনির্মিত ভবনে কার্যক্রম শুরু করল মংলা মডেল থানা পুলিশ। এর আগে থানার ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ডক শ্রমিক পরিচালনা বোর্ডের পরিত্যক্ত হাসাপাতাল ভবনটি ভাড়া নিয়ে মংলা থানা পুলিশের কার্যক্রম চলছিল।

অবশেষে দীর্ঘ বছর পর নিজস্ব ভবন পেয়ে মংলা পুলিশ নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছে। নতুন ভবন পেয়ে পুলিশের সকল সদস্য অনুপ্রাণিত। পুলিশ সদস্যদের বক্তব্য, আমরা এখন আরো পূর্নাঙ্গভাবে জনসাধারণকে সেবা দিতে পারব, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করতে পারব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক মংলায় নবনির্মিত থানা উদ্বোধন ঘোষনা করা হয়েছে। গত ১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নতুন এ থানা ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ শুক্রবার (৯ নভেম্বর ) সরেজমিনে নতুন থানা ভবনে গিয়ে দেখা যায়, নতুন থানা ভবনে আসার পর থেকে নতুন উদ্যমে পুলিশের কাজ চলছে। পুলিশের সকল সদস্য অনুপ্রাণিত। আধুনিক সুবিধা সংবলিত পাঁচতলা এ ভবনে কনফারেন্স কক্ষ, প্রার্থনা কক্ষ, খাবার কক্ষ, শিশু বান্ধব কক্ষসহ প্রত্যেক ষ্টাফের বসার পৃথক কক্ষ আছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীর জন্যে আলাদা হাজতখানা রয়েছে। বৃহৎ অস্ত্রাগার ও মালখানাও রয়েছে। মংলায় স্বাধীনতা পরবর্তী সর্বস্তরের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষে পুরো উপজেলায় পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয় একটি টিনের ছাউনী ফাড়ীঁ অফিস দিয়ে। এর কিছুদিন পর মংলা থানায় রুপান্তরিত হলেও বরাদ্দ মেলেনি উন্নত মানের থানা ভবনের। তাই ঝুকিপুর্ন অবস্থায় মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের একটি পুরাতন ভবনে দীর্ঘদিন চলছে মংলা থানা পুলিশের কার্যক্রম। এখানকার উপকুলীয় এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, বর্তমান সরকার ৯ কোটি টাকা ব্যায়ে নতুন এ থানা ভবন নির্মানের ফলে ঝুকিমুক্ত হবে দুর্যোগসহ নানা প্রতিকুলতার হাত থেকে। তবে এ নতুন ভবনটি নির্মিত হওয়ায় যতই সমস্যা থাকুক তার মধ্যেও নিরাপদ ও স্বাছন্দ থাকবে পুলিশের প্রতিটি সদস্য বলে মনে করেন এলাকবাসী।

এছাড়া ব্যাচেলর ষ্টাফদের জন্যে থাকার চমৎকার ব্যবস্থা রয়েছে। নারী কনষ্টেবলদের জন্যেও আলাদা ব্যারাক রয়েছে। পাঁচতলা ভবনের নীচতলা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র হিসাবেও ব্যবহার করা হবে। এই ভবনের সাথে মংলা থানা পুলিশ একটি নতুন গাড়ী ও ভবনের সব কক্ষের জন্যে ফার্নিচার (আসবাবপত্র)ও পেয়েছে। পুলিশ সদস্যরা জানায়, আমরা এখন আরো পূর্নাঙ্গভাবে জনসাধারণকে সেবা দিতে পারব, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করতে পারব।এ জন্য বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এখানকার বসবাসকারী বাসিন্দারা।

মংলা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধূরী বলেন, ২০১৪ সালে ৯ কোটি টাকা ব্যয় ধরে মোংলা নদীর পাশে পাঁচতলা একটি আধুনিক ভবনের কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের অক্টোবর মাসে এ ভবনের কাজ শেষ হয়। গত ১ নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর রোববার দুপুরে নতুন ভবনে পুলিশের সকল কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানান্তর উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মোংলা-রামপালের সাবেক সাংসদ তালুকদার আবদুল খালেক।

এ সময় তিনি বলেন, নতুন ভবনে মংলা থানা পুলিশের জন্যে সকল সুবিধা রাখা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে আমরা আশা করবো মাদকমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত মংলা গড়তে পুলিশ যেন যথাযথ ভূমিকা রাখে। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন মংলা-রামপালের সাংসদ হাবিবুন নাহার, বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার পংকজ কুমার রায়, উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, মংলা প্রেস কাবের সভাপতি আলহাজ্ব এইচ এম দুলাল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রবিউল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোহাম্মাদ আলী ছিদ্দিকী, মংলা প্রেস কাবের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব হাসান, সাবেক সাঃ সম্পাদক মোঃ হাসান গাজী, আমির হোসেন আমু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ সুনিল কুমার বিশ্বাস, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা শেখ আঃ রহমান, থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ফকির আবুল কালাম আজাদ, ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আকবার হোসেন, মোল্লা মোঃ তারিকুল ইসলাম, মোঃ ইস্রাফিল হাওলাদার, নিখিল চন্দ্র রায়, থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইকবাল হোসেন, পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আল মামুনসহ আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ, পুলিশের সকল কর্মকর্তা ও সদস্যরা এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় লোকজন এসময় উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ মোংলা থানা পুলিশের সকল সদস্য।