প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এলিটরা মনে করেন শেখ হাসিনা সরকার স্ট্যাবিলিটি সহায়ক: সলিমুল্লাহ খান

মো: মারুফুল আলম: লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান বলেছেন, গণতন্ত্রে কতগুলো সংখ্যালঘু শাসন করে। এই সংখ্যালঘুরা হচ্ছে এলিট। নানারকম এলিট আছে। সরকারি এলিট, মিলিটারি এলিট, বিজনেস এলিট। এই ভদ্রলোকেরাই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কোন সরকার উৎপাদন করলে আমদের ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য ভাল হবে। যাকে ইংরেজীতে বলে স্ট্যাবিলিটি। তারা মোটামুটি বুঝতে পারছেন যে, শেখ হাসিনা সরকারই স্ট্যাবিলিটি সহায়ক। বৃহস্পতিবার ডিবিসি নিউজের টকশো’তে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই দুটি ব্লক (মুক্তিযুদ্ধের স¦পক্ষ আর বিপক্ষ) আছে। মাঝখানের কিছু লোক যাদেরকে সুইং ভোটার বলা হচ্ছে তারা আসলে কী দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাদের অনেকসময় একটা দলকে পছন্দ হয়, আবার সেই একই দল কখনও কখনও অপছন্দেরও কারণ হয়। এখানে আসলে নিয়ন্ত্রণ করে ভোটার রা নয়, যারা নিয়ন্ত্রণ করে তাদেরকে বললাম এলিট। তারা কারা আমরা সবাই জানি। সত্যি কথা বলতে গেলে বর্তমান এই অবস্থা গণতান্ত্রিক নয়। গণতন্ত্রের কথাটি আমরা মিথ্যাকারে বলি।

সলিমুল্লাহ খান বলেন, আমাদের এখানে নির্বাচন কোন প্রথায় হবে তা নিয়ে নানারকম ‘সুইং’ এ গেছি আমরা। একবার সংসদ ভেঙে না দিয়ে নির্বাচন হয়েছে, তারপর তত্ত্বাবধায়ক সরকার নির্বাচন হয়েছে এবং সর্বশেষ শেখ হাসিনা ২০০১ সালে একটি শিক্ষা লাভ করেছে যে, যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হিসেবে লতিফুর রহমান সাহেবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছিলো, তিনি (লতিফুর রহমান) এমন কৌশলী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন যে, শেখ হাসিনার পরাজয় ঐ দিনই হয়েছিলো।

তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট শেষ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জায়গায় একটি উপদেষ্টা পরিষদের প্রস্তাব দিলেন, যা প্রকৃত প্রস্তাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারেরই প্রস্তাব। তত্ত্বাবধায়ক সরকার যারা বাতিল করেছে সেটাই যখন প্রস্তাব করা হয়, বুঝা যায় যে, তারা হোমওয়ার্ক করে আসেননি। তাদের অদ্ভুত যুক্তি হলো, সংসদ রেখেও নির্বাচন করা যাবে কিন্তু দশ জায়গায় আছে সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন করার কথা। কিন্তু এ কথা তারা বলতে পারছেন না যে, সংসদ রেখে দিয়ে নির্বাচন করাটা অবৈধ বা অসাংবিধানিক। সংসদ রেখে নির্বাচন করা যায় এটা যদি এক জায়গায়ও থাকে। ওই এক জায়গার শক্তি দশ জায়গার চেয়ে বেশি হয়। কাজেই আইনের বুদ্ধি ও রাজনৈতিক বুদ্ধি দুটোই থাকতে হবে।

শেষ পর্যন্ত এটা হচ্ছে রাজনৈতিক বুদ্ধির ব্যাপার, মানে দরকষাকষির ব্যাপার। এখন সংসদ রেখে নির্বাচন করলে আওয়ামী লীগ বা আওয়ামী লীগভুক্ত জোটের লাভ হবে। এটার জন্য তারা এটা করছে। কিন্তু এটা ভাঙতে হলেতো প্রবল যুক্তি আনতে হবে। আওয়ামী লীগের বক্তব্যটা দাঁড়াচ্ছে, সংসদ ভেঙে দেবোনা তাত্ত্বিকভাবে, বাস্তবে কিন্তু এমপি মন্ত্রীরা নির্বাচনে সুবিধা পাবে না। রাজনৈতিক দরকষাকষির ব্যাপারে আইনের দিক থেকে আওয়ামী লীগ ঠিকভাবেই বলতে পেরেছেন। সেক্ষেত্রে ঐক্যফ্রন্ট তাড়াহুড়ার কারণে পারেনি।

সলিমুল্লাহ খান বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধিনে নির্বাচন অপেক্ষাকৃত ভাল, তা মানতে দ্বিধা নেই। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, এটাও শিক্ষা নেওয়া উচিত যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান কে হবেন যেজন্য ২০০৭ এ ওয়ান ইলেভেন হলো। তাছাড়া ২৮ জানুয়ারীর মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতাও আছে। এমন একজন উপদেষ্টা কিভাবে বের করা যাবে, যাকে সবাই মানবে, যিনি নির্বাচন করতে পারবেন না, যিনি নিরপেক্ষ এজন্যতো আবার কেঁচেগন্ডুস করতে হবে। তারা এমন একটি প্রস্তাব দিতে পারেন যে, শেখ হাসিনার অধিনে নির্বাচন মেনে নেবেন আর কিছু মন্ত্রণালয় চাইবেন।

যদি আপনি সমঝোতায় আসতে চান প্রস্তাবটাও সমাঝোতামূলক হতে পারে। কিন্তু আপনি যখন কেচেগন্ডুস করার জন্য প্রস্তাব দেন তখন মনে হয় যে, আপনারই সদিচ্ছা নেই। তাই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়, নির্বাচন পেছানোর জন্য এটা একটা বাহানা মাত্র।