প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বেশি দামে ডলার বিক্রয় প্রমাণিত হওয়ায় ১০ ব্যাংককে রোববার শোকজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

আবু বকর : চট্রগ্রামে বেসরকারি খাতের ১০টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে নতুন করে ঘোষণার চেয়ে বেশি দামে ডলার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক অভিযোগের প্রমাণও পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে এসব ব্যাংকের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ পাঠাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত মাসে ২৮টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে একই অভিযোগ উঠেছিলো। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৯ ব্যাংককে শোকজ করা হয়।

শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ব্যাংকগুলো আমদানিকারকদের কাছ থেকে ঘোষিত ৮৩ টাকা ৮৫ পয়সার চেয়ে প্রতি ডলারে এক টাকারও বেশি দাম নিয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে আসায় ১০টি ব্যাংককে শোকজ করা হচ্ছে। তিনি জানান, গত মাসে একই অভিযোগে ডাচ-বাংলা, ঢাকা, ট্রাস্ট, বেসিক, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট, সিটি, প্রাইম, এনসিসি এবং এক্সিম ব্যাংককে শোকজ করা হয়েছিলো। ব্যাংক গুলোর জবাব বিশ্লেষন করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যাবস্থা নেয়া হচ্ছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে ৯টি ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আমদানিতে দর ৮৩ টাকা ৮৫ পয়সা দেখালেও নিয়েছে ৮৪ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত। অর্থাৎ আমদানিকারকদের থেকে এই ব্যাংকগুলো যে দাম নিয়েছে, তার চেয়ে কম হিসাব দেখিয়েছে। এভাবে প্রকৃত দর গোপন করে মিথ্যা তথ্য দেয়ায় কেন তাদের জরিমানা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পাঠানো নোটিশের জবাব দিতে ব্যাংকগুলোকে তিন দিন সময় দেয়া হয়েছিলো। নতুন করে অভিযুক্ত ১০ ব্যাংককে আগামী রবিবার শোকজ করা হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সরবরাহের তুলনায় বেশি চাহিদার কারণে বেশকিছু দিন ধরে ডলারের দাম বেড়েই চলেছে । গত একবছরে প্রতি ডলারে তিন টাকা বা ৩ দশমিক ৭১ শতাংশ দর বেড়েছে। তবে ডলারের দরের এই বৃদ্ধির প্রবণতা শুধু বাংলাদেশে নয়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, চীন, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিপরীতে ডলার শক্তিশালী হচ্ছে।

বাংলাদেশের রফতানির তুলনায় আমদানির পরিমাণ বেশি। তাই ডলারের দর নিয়ন্ত্রণে ব্যাংকগুলোকে নৈতিক চাপের মাধ্যমে আমদানিতে ডলারের দর ৮৩ টাকা ৮৫ পয়সা নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। শোকজ করা ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে এরকম দর দেখালেও প্রকৃতপক্ষে বেশি নিয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ৯৫৪ কোটি ডলারের আমদানি হয়। প্রথম তিন মাসে রফতানি হয় ৯৯৪ কোটি ডলার। আর প্রবাসী আয় এসেছে ৩৮৬ কোটি ডলার। বাজারের বাড়তি চাহিদা মেটাতে প্রচুর ডলার বিক্রি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সর্বশেষ চলতি (২০১৮-১৯) অর্থবছরের রোববার পর্যন্ত (২৮ অক্টোবর) ২৩১ কোটি ১০ লাখ ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ