প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ পুনর্বাসনে ভারতের ভূমিকা

নিয়ামত আলী ইনায়েত : রোহিঙ্গাদের বিশ্বের সবচে’ নিগৃহীত জাতি বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন-ইউএনএইচআর। বিশ্বের ইতিহাসে তারাই সবচে’ বৃহত্তম শরণার্থী যারা অতি কম সময়ে দেশ থেকে বিতাড়িত হতে বাধ্য হয়েছে। প্রায় তিন বছর আগে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে বাংলাদেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়েছে। বিপুল এই রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে দেশে ফিরতে পারে সেই চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আশা ছিলো বাংলাদেশে বন্ধু রাষ্ট্র হিসাবে ভারত এই সমস্যা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। কিন্তু ভারত এই ইস্যুতে খুবই নগন্য ভূমিকা রাখছে। অথচ এই অঞ্চলে ভারতের প্রভাব সবচে’ বেশি ও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের মত বিশ্ব সম্প্রদায়ও ভারতের কাছ থেকে আরো গুরুত্বপর্ণ ভূমিকা আশা করেছিলো। কিন্তু সেটা শুধু আশাই রয়ে গেছে।

মিয়ানমারের জাতীয়তা আইন -১৯৮২ অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানায় মিয়ানমার। আর এ কারণেই শুরু হয় অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। পরিকল্পিত ও সুনিয়ন্ত্রিতভাবেই তাদের ওপর নিয়মিত অত্যাচার ও নির্যাতন চালায় সেনাবাহিনী। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের ওপরে নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে। ফলে প্রায় ৮০ শতাংশ রোহিঙ্গা প্রতিবেশি ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ায় বিশেষ করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যা বাংলাদেশের জন্য অতিরিক্ত বোঝা। রোহিঙ্গাদের ওপর যে অত্যাচার, নির্যাতন ও হত্যা চালানো হয়েছে তাকে সুষ্পষ্ট গণহত্যা বলেছে বিশেষজ্ঞরা। আর এই গণহত্যার প্রমাণও পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ এনেছে। সেই সাথে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে।

কিন্তু বরাবরের মতো এখনও চুপ ভারত। চীনের মতো ভারতেরও মিয়ারমারের সাথে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান মিয়ানমারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দু’দেশই জাতিগত সংখ্যালঘু প্রশ্নে একই ধরনের নীতি অনুসরণ করে। দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত যোগাযোগও রয়েছে। তার ওপর মিয়ানমারের সাথে ভারতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্কটে তাই ভারত শুরু মানবিক সাহায্য দিয়েই দায়িত্ব শেষ করতে চাইছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ রোহিঙ্গাদের নিরাপদে রাখাইনে ফিরে যওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু সেই সাথে রাখাইনে আসলেই রোহিঙ্গাদের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ হয়েছে কিনা বা সেখানে তারা নিরাপদ কিনা সে প্রশ্নও তুলছেন। কিন্তু রোহিঙ্গা ইস্যুটি দক্ষিণ-এশিয়ার আর্থ-সামাজিক ও অর্থনীতির জন্য আসলেই হুমকি স্বরুপ। কারণ মিয়ানমারের মতো চীন ও ভারতেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। ফলে রোহিঙ্গা সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান না হলে দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি আসলেই বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা দেয়া দিয়েছে।

লেখক পরিচিতি : ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক।

সম্পাদনা : ইকবাল খান