প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘চরিত্রহীন’ শব্দকে ইংরেজিতে ‘ডিবওচি’ লেখাটা কতটা অপরাধ?

মোহাম্মদ আলী বোখারী, টরন্টো থেকে: ইংরেজি অনলাইন বিডিনিউজ২৪ ডটকম গত ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৭ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডে সিনিয়র করেসপনডেন্ট রচিত যে সংবাদটি আপলোড করে রেখেছে, সেটির শিরোনাম- ডিমান্ডস ফর পাবলিক অ্যাপোলজি ফ্রম মইনুল হোসেন আফটার হি কলস মাসুদা ভাট্টি এ ‘ডিবওচি’। আর সেই ‘ডিবওচি’ শব্দের ব্যাখ্যায় সূচনাতেই লিখেছে-

MainulÕs remarks have triggered a firestorm of anger and criticism on the internet since Tuesday night when he called Masuda a ÔdebaucheeÕ in Ekattor Journal, a talk shwo aired live on Ekattor TV. There has been an outpouring of anger on the social media about Mainul, one of the sponsors of the Dr Kamal Hossain-led nwe alliance with the BNP.

Over 100 female journalists and rights activists have also demanded that Mainul apologise publicly. In the show, Masuda asked Mainul if claims made on the social media that he attends meetings of Dr KamalÕs Jati“a Oiïa Front alliance as a Jamaat-e-Islami representative were true. ÒI thank you for your audacity. I want to believe that you are a debauchee. I donÕt have aû Jamaat connections. This question of yours is very much embarrassing for me. Please ask another question,Ó Mainul replied. As host Mithila Faryana asked Mainul to refrain from personally attacking someone in the show, Mainul asked, ÒWhy no-one is saying aûthing when I am personally attacked, being called a Jamaat man?Ó Masuda argued that she raised the issue after seeing a video post, which went viral recently, of Mainul telling a programme of Islami Chhatra Shibir that he had Òclose connectionÓ with the JamaatÕs student front. ÒThatÕs why people want to knwo whether you are attending meetings as a Jamaat representative,Ó she added. Mainul then told her to pose questions related to the election. Masuda asked whether he had aû link to the filing of Zia Orphanage Trust graft case when he was an adviser to the 2007-08 caretaker government. BNP Chairperson Khaleda Zia has been in jail since February when she was sentenced to five years in prison in the case. Mainul replied: ÒThis is why I am saying that the journalists have become so partisan that they donÕt study before doing politics. I repeatedly said that in our time the Anti-Corruption Commission was totally independent. DonÕt you understand that the ACC had her tried?Ó

এখানে পরিবেশিত সংবাদের হুবহু অংশটি তুলে ধরার কারণ, বস্তুত মইনুল হোসেন বাংলায় বলেছিলেন, ‘চরিত্রহীন’; যে শব্দটির অর্থ ২০০৩ সালে বাংলা একাডেমি কর্তৃক পুর্নমুদ্রিত দুটি শব্দকোষ: বেঙ্গলি-ইংলিশ এবং ইংলিশ-বেঙ্গলি ডিকশনারিতে বিশেষণ শব্দ হিসেবে চার ধাপে খুঁজে পাওয়া যায়। এতে প্রায়োগিক দিক বিবেচনায় পর্যায়ক্রমিক লেখা হয়েছে, যথাক্রমে- morally corrupted – ‰bwZKfv‡e `yb©xwZcivqb; dissolute – Am”PwiÎ/PwiÎnxb; debauchee – PwiÎåó/bxwZåó/cvcvm³/bxwZweMwn©Z/e¨mbx/cvwcó/j¤úU; characterless – চরিত্রহীন/বিশিষ্টতাহীন/সাদামাটা।

লক্ষ্য করুন, সেখানে সুস্পষ্টভাবে ‘characterless’ শব্দের বহুল প্রচলিত ও সর্বসাধারণের বোধগম্য অর্থটি থাকা সত্ত্বেও ‘ফবনধঁপযবব’ হচ্ছে- চরিত্রভ্রষ্ট/নীতিভ্রষ্ট/পাপাসক্ত/নীতিবিগর্হিত/ব্যসনী/পাপিষ্ট/লম্পট। সে কারণে আমার আপত্তিটি উদ্ভূত। যেহেতু ওই ‘চরিত্রহীন’ শব্দটি ব্যবহারের পরিণতিতে মইনুল হোসেন-কে বিনা জামিনে কারান্তরীণ হতে হয়েছে, সেহেতু ‘ডিবওচি’ লেখার পরিণতিতে বিডিনিউজ২৪ ডটকমের কী হতে পারে?

বাস্তবিক অর্থে, উবভধসধঃরড়হ ধহফ ঝষধহফবৎ সম্পর্কিত আইনানুযায়ী সংবাদ বা সংবাদ বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে প্রশ্নসাপেক্ষ মানহানিকর ব্যবহৃত শব্দের পরিবর্তে ভিন্ন কোনো মানহানিকর শব্দ ব্যবহার, যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মানহানির উপযোগি, তা আরেকটি মানহানির মামলার সামিল। অর্থাৎ প্রকৃত শব্দের পরিবর্তে আরেকটি মানহানিপূর্ণ শব্দ সংযোজন বা প্রকাশ, নিঃসন্দেহে মানহানিরই ঘটনা। এক্ষেত্রে পশ্চিমা বিশ্বের কলিন্স ডিকশনারিতে ‘debaucheeÕ n‡”Q- a man who leads a life of reckless drinking, promiscuity, and self-indulgence. অর্থাৎ যে ব্যক্তি বেপরোয়া মদ্যপান, প্রকীর্ণতা/উচ্ছৃঙ্খল/সঙ্কীর্ণচারি এবং আত্মচরিতার্থে নিয়োজিত। পাশাপাশি ‘characterless’ হচ্ছে- describe by peculiar qualities. অর্থাৎ বিচিত্র বা অদ্ভুত গুণাবলি সম্পন্ন।

তাই চরিত্রহীনের অর্থ যে বিচিত্র বা অদ্ভুত গুণাবলি সম্পন্ন, সেটির একটি যথোপযুক্ত উদাহরণ কানাডার জাতীয় দৈনিক ন্যাশনাল পোস্টের অনলাইন চিঠি-পত্র কলামে রয়েছে, যার শিরোনাম- টুডেইজ লেটার্স: ‘এ ক্যারেক্টারলেস ইমেজ অব এ ট্রুলি বিউটিফুল’ ওম্যান, যার প্রকাশকাল ২০১৩ সালের ১৫ জানুয়ারি। সেখানে চিত্রকর পল এমসলি অঙ্কিত ডাচেস অব ক্যামব্রিজ ক্যাট মিডলটনের একটি প্রতিকৃতির প্রতি বিভিন্ন পাঠকের নানা মন্তব্য ছাপা হয়েছে। এতে উপ-শিরোনামে বলা হয়েছে- The Duchess of Cambridge has expressed approval of her portrait, but that does not exonerate the artistÕs dark, one-dimensional, characterless image of a truly beautiful human being. অর্থাৎ ডাচেস অব ক্যামব্রিজ তার প্রতিকৃতিটি অনুমোদন দিয়েছেন, কিন্তু সেটা একমাত্রিক ও বিচিত্র বা অদ্ভুত সুন্দরী মানবীর প্রতিচ্ছবি কালিমালিপ্ত করার দায় থেকে চিত্রকরকে মুক্তি দেয়নি।

ই-মেইল: [email protected]