প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অবশেষে ঢাবিতে পড়ার স্বপ্নপূরণ প্রতিবন্ধী হৃদয়ের

ডেস্ক রিপোর্ট : মায়ের কোলে চড়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা শারীরিক প্রতিবন্ধী নেত্রকোনার হৃদয় সরকার অবশেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনস কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় উপস্থিত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাকসুদ কামাল এ তথ্য জানান।

কলা অনুষদভুক্ত ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয় ২১ সেপ্টেম্বর। মায়ের কোলে চড়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন হৃদয় সরকার। মায়ের কোলে চড়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে যাওয়ার একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি সবার নজরে আসে। সে সময় হৃদয় সরকার সম্পর্কে গণমাধ্যমে সংবাদও ছাপা হয়।

ভর্তি পরীক্ষায় হৃদয় সরকার তিন হাজার ৭৪০ মেধাক্রম অর্জন করেন। তবে এই অনুষদের আসন সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৩৭৮টি। ফলে তার ভর্তির বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। মেধায় সুযোগ না পেলেও কোটায় সুযোগ পাবেন বলে ধারণা করেন অনেকে।

তবে ভর্তির জন্য কলা অনুষদের ডিন অফিসে যোগাযোগ করলে ‘প্রতিবন্ধী কোটার নিয়ম’ দেখিয়ে কোটায় আবেদনের ফর্মই দেওয়া হয়নি তাকে। ডিন অফিস থেকে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির জন্য প্রতিবন্ধী কোটার নিয়মে শুধু ‘বাক, শ্রবণ ও দৃষ্টি’ প্রতিবন্ধীরা সুযোগ পাবেন। তিনি এ ক্যাটাগরিতে পড়েন না।

তবে এদিন ডিনস কমিটির সভায় ‘বাক, শ্রবণ ও দৃষ্টি’ প্রতিবন্ধীর সঙ্গে শারীরিক প্রতিবন্ধীর বিষয়টি যোগ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ভর্তির সুযোগ পাবেন হৃদয় সরকার।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান বলেন, মানবিক সমাজ নির্মাণের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবন্ধী কোটার নীতিমালায় সংস্কার আনা হয়েছে। সমাজে শারীরিক বা মানসিক প্রতিকূলতা পেরিয়ে যারা ভর্তি হতে আসে তারা যাতে কোনো বঞ্ছনার শিকার না হয়, সেজন্য আমরা ‘বাক, শ্রবণ ও দৃষ্টি’ প্রতিবন্ধীর সঙ্গে ‘শারীরিক প্রতিবন্ধীর’ বিষয়টি সংযোজন করেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘হৃদয়কে ভর্তি করানোর বিষয়ে ডিন কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

হৃদয় সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শারীরিকভাবে যারা অক্ষম এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তারা পড়ালেখায় আরও উৎসাহ পাবে। তিনি বলেন, আমার এ পর্যন্ত আসার পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি মা। তার অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাচ্ছি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ