প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কূটনীতিকদের সতর্ক দৃষ্টি

সমকাল : সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সংলাপের বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াটে অবস্থায় রয়েছে কূটনৈতিক মহল। এর মধ্য দিয়ে নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক উত্তাপ আসলে বাড়বে না কমবে, সে সম্পর্কে স্পষ্ট হতে পারছেন না কূটনীতিকরা। এরই মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। এ অবস্থায় চলমান পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন তারা। এখন এক থেকে দুই সপ্তাহ সময়কেই রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে তাদের কাছে। তবে সার্বিকভাবে নির্বাচনী রাজনীতি ঘিরে আগেরবারের মতো সহিংস অবস্থার সৃষ্টি না হওয়াকে স্বস্তিদায়ক বলে মনে করছে প্রভাবশালী কূটনৈতিক পক্ষগুলো। সংশ্নিষ্ট একাধিক কূটনৈতিক সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এশিয়া-সংক্রান্ত একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ায় শ্রীলংকা, নেপাল ও মালদ্বীপের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে ভারত ও চীনের ছায়াযুদ্ধ লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সে ধরনের কোনো অবস্থা এখনও দেখা যায়নি; বরং এখনও বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে ‘কূটনৈতিক তৎপরতায়’ পশ্চিমা কূটনীতিকরাই বেশি সক্রিয়। সংশ্নিষ্ট আরেকটি সূত্র জানায়, কয়েকদিনের মধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে সংলাপসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কূটনীতিকদের আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করা হতে পারে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংলাপকে সব পক্ষের কূটনীতিকরাই ইতিবাচক হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু সর্বশেষ ৭ নভেম্বর সরকারের সঙ্গে ঐক্যফ্রন্টের সংলাপের পর উভয় পক্ষের বক্তব্য থেকে এর ফলাফল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। ফলে আগামী দিনগুলোতে নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনীতির উত্তাপ বাড়বে না কমবে, সে নিয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এক থেকে দেড় সপ্তাহ সময়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে কূটনৈতিক মহল। প্রভাবশালী কূটনৈতিক পক্ষগুলো সতর্কভাবে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

পশ্চিমা একটি সূত্র জানায়, সার্বিকভাবে আগেরবারের নির্বাচনের সময়ের মতো এবার সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টি না হওয়াটা স্বস্তিদায়ক। এ কারণে রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে জোরালো মতভেদ থাকলেও শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। এশিয়া-সংক্রান্ত আরেকটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনের ব্যাপারে ভারত ও চীনের অবস্থান নিয়ে ব্যাপক ঔৎসুক্য রয়েছে কূটনৈতিক মহলে। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার মালদ্বীপ, শ্রীলংকা ও নেপালের নির্বাচন ঘিরে ভারত-চীনের মধ্যে ছায়াযুদ্ধ লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু বাংলাদেশের নির্বাচনের ক্ষেত্রে সেই অবস্থা দেখা যাচ্ছে না; বরং ভারত ও চীন দু’পক্ষের সঙ্গেই বিপরীত মেরুর রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সমান সখ্য দেখা যাচ্ছে। আবার মালদ্বীপ কিংবা শ্রীলংকার মতো বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারত ও চীন কোনো একটি রাজনৈতিক পক্ষের প্রতি সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্টও করেনি। ফলে বাংলাদেশের নির্বাচন ঘিরে ভারত ও চীনের অবস্থান মালদ্বীপ, শ্রীলংকা কিংবা নেপালের চেয়ে ভিন্ন বলেই মনে করছে সূত্র।

অন্য একটি সূত্র জানায়, প্রভাবশালী একাধিক পশ্চিমা দেশের কূটনৈতিক মিশন থেকে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচন ঘিরে সহিংস পরিস্থিতি যেন সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করতে দু’পক্ষের প্রতিই চাপ রয়েছে বাংলাদেশকে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার দিক থেকে এগিয়ে থাকা দেশগুলোর। সূত্র আরও জানায়, এসব মিশন মনে করছে, এখন পর্যন্ত বিরোধী পক্ষ নির্বিঘ্নে সভা-সমাবেশ করতে পারছে না। এমনকি রাজনৈতিক সংলাপের মধ্য দিয়েও বিরোধী পক্ষের নির্বিঘ্ন সভা-সমাবেশের বিষয়টিতে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়নি। ফলে তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।

সংশ্নিষ্ট একটি সূত্র জানায়, বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোতে বাংলাদেশ মিশন থেকে নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তাদের পররাষ্ট্র দপ্তরকে নিয়মিত অবহিত করে রাখা হচ্ছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ