প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্যামেরুনে স্কুল থেকে অপহৃত শিশুরা মুক্ত

মাহাদী আহমেদ : ক্যামেরুনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি বোর্ডিং স্কুল থেকে অপহৃত শিশুরা মুক্তি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তবে স্কুলের প্রিন্সিপাল ও একজন শিক্ষকসহ তিনজন এখনো আটক আছে।

ওই অঞ্চলের রাজধানী বামেনদার প্রেসবিটেরিয়ান সেকেন্ডারি স্কুল থেকে সোমবার স্কুলটির অধ্যক্ষ এবং তিন শিক্ষকসহ ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী অন্তত ৭৯ শিশু অপহৃত হয়। এ ঘটনার জন্য  বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গিদের দায়ী করেন আঞ্চলিক গভর্নর।

সরকার ও বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এ ঘটনার জন্য একে অপরকে পাল্টা দোষারোপ করছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। স্কুলটির অপহৃত শিশুদের একটি ভিডিও অনলাইনে শেয়ার হওয়ার পর এটি নিয়ে ক্ষোভ সঞ্চার হয়েছে।

গত কয়েক বছরে ক্যামেরুনের নর্থ-ওয়েস্ট এবং সাউথ-ওয়েস্ট অঞ্চলে এঙ্গলোফোন বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গিদের তৎপরতা বেড়েছে। তারা ইংরেজি ভাষী ওই দুই অঞ্চলের স্বাধীনতা দাবি করে আসছে। সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে।

অপহৃত শিশুদেরকে কোন পরিস্থিতিতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে তা ষ্পষ্ট জানা যায়নি। তবে তাদেরকে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ক্যামেরুনের প্রেসবিটেরিয়ান চার্চ বলেছে, বামেন্দা থেকে ২৪ কিলোমিটার দূরের বাফুত শহরে তাদেরই একটি ভবনে স্কুলের ওই শিশুদেরকে ফেলে রাখা হয়েছিল। রোববার শিশুরা অপহৃত হয়।

এর এক সপ্তাহেরও কম সময় আগেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল বলে জানায় চার্চটি। সেবার ১১ জন শিশুকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর মুক্তি দেওয়া হয়। কারা অপহরণ করেছিল তা জানা যায়নি।

এবারের ঘটনায় ক্যামেরুনের যোগাযোগমন্ত্রী ইসা বাকারি অপহৃত ৭৯ জন স্কুল শিক্ষর্থীই মুক্তি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আর কিছু জনাননি তিনি।

অপহরণকারীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা চালিয়ে যাওয়া এক পুরোহিতও এ মুক্তির খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে স্কুলের প্রিন্সিপাল, একজন চালক এবং শিক্ষক এখনো মুক্তি পাননি বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন।

শিশুদের খুঁজে বের করতে সেনা মোতায়েন করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে বিবিসি।

ক্যামেরুনের বেশিরভাগ অঞ্চলের মানুষ ফরাসিতে কথা বলে। ফরাসি নিয়ম-কানুন অনুসরণ করা হয় এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফরাসি ভাষা প্রচলিত।

সরকারও ফরাসি ভাষাকে অধিক গুরুত্ব দেয় এবং সরকারি উচ্চপদে ফরাসি ভাষীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। ইংরেজি ভাষীরা সেখানে বৈষম্যের শিকার হয়।

এর বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে নর্থ-ওয়েস্ট ও সাউথ-ওয়েস্ট অঞ্চলের বাসিন্দারা গণআন্দোলন শুরু করে। তারা ‘আমবাজোনিয়া’ নামে একটি নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

দেশটির মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশ ইংরেজিতে কথা বলে। – রয়টার্স, বিডি নিউজ ২৪

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত