প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইসলাম প্রচারে মিডিয়ার প্রয়োজনীয়তা

গাজী জাহাঙ্গীর আলম জাবির : গণমাধ্যম বলতে আমরা বুঝি এমন মাধ্যম যার সাহায্যে যে কোন তথ্য বক্তব্য ও সংবাদ জনমানসে পৌঁছে দেয়া যায়। জনগণের চিন্তা-চেতনাকে আন্দোলিত করতে যে মাধ্যম ব্যবহৃত হয় তাকেই আমরা গণমাধ্যম বলতে পারি। প্রযুক্তির এ যুগে, রেডিও, টেলিভিশন, ডিশ এন্টেনা, ইন্টারনেট, ফেইসবুক এবং সংবাদপত্র এসবই বর্তমান আধুনিক গণমাধ্যম হিসেবে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এসবের মধ্যে সংবাদপত্র সবচেয়ে সহজ লভ্য এবং এর গুরুত্ব ও প্রভাব সুদূর প্রসারী ও দীর্ঘস্থায়ী। অবাধ তথ্য প্রবাহের সুযোগে এসব গণমাধ্যমকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে মানব জাতির মঙ্গল যেমন হচ্ছে, তেমনি অমঙ্গলও কম হচ্ছে না। গণমাধ্যমের সম্পাদক সাংবাদিকদের চিন্তা চেতনা ও নীতি আদর্শ এবং সংগৃহিত তথ্যের জাদুকরী পরিবেশনায় জনমানস আলোড়িত হয়, আন্দোলিত হয়। সুতরাং তারা যদি সততা এবং নিষ্ঠার সঙ্গে, বিশ্বস্ততার সঙ্গে বস্তু নিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করে তাহলেই কেবল এসব গণমাধ্যম আমাদের কল্যাণে আসবে।

সংবাদ আদান-প্রদানের সুস্থ নিয়মনীতি ও মৌলিক তত্ত্ব মানুষ লাভ করেছে আল্লাহ কর্তৃক নবী রাসুলদের কাছে ওহী নাজিলের মাধমে। নবী-রাসুলদের ইতিহাস মানব সভ্যতার অতি পুরনো। ইসলামি পরিভাষায় অতি পরিচিত শব্দ নবী-রাসুল। যার আভিধানিক অর্থ-সংবাদ বহনকারী পবিত্র সত্তার অধিকারী নবী ও রাসুলগণ মানব জাতিকে বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছিল ভ্রান্ত জাতিগুলোর চরম পরিণতির খবর। কল্যাণ ও মঙ্গলের খবর মানুষকে জানিয়ে দিয়েছেন সততা ও বিশ্বস্ততার সাথে। আমরা দেখি হযরত নূহ (আ.) ঘোষণা করেছেন, আমি তোমাদের পয়গাম বার্তা পৌঁছাই এবং তোমাদের সদুপদেশ দেই। অন্য একজন নবী তাঁর সম্প্রদায়কে বলেন, আমি তোমাদের পয়গাম পেঁছাই এবং আমি তোমাদের হিতাকাঙ্খী ও বিশ্বস্ত।

নবীদের এই ঘোষণা যা উচ্চারিত হয়েছে মানব সভ্যতার সূচনালগ্নে এতেই নিহিত রয়েছে সৎ সাংবাদিকতার মৌলিক বৈশিষ্ট্য। সাংবাদিকতাকে নবুওয়াতি কাজের ছায়া হিসেবে মেনে নিলেই সাংবাদিকতার জগৎ উজ্জ্বল হতে পারে। নবী-রাসুলরা যেমন ছিলেন সত্যের বাহক ও জনগনের মঙ্গলকারী তেমনি সাংবাদিকরা ও যদি সৎ ও মানুষের কল্যাণকারী হয় তাহলে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে আসতে পারে পবিত্র ও উন্নত পরিবেশ। রাসুল (সা.) এর সাংবাদিকতা শুরু হয়েছিল। ‘ইকরা’ অর্থাৎ পড় আসমানী বাণীর মাধ্যমে। সুতরাং সাংবাদিকতার জন্য অপরিহার্য হলো পড়া। প্রচুর পরিমানে পড়া এবং পঠিত বিষয়বস্তু আত্মস্থ করা; এরপর তা পরিবেশন করা।

নৈতিক মূল্যবোধ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজন আদর্শবান শক্তিশালী সংবাদকর্মী। এই কর্মী বাহিনী সৃষ্টিতে সাংবাদিকতা পেশার প্রতি দরদি যোগ্য নেতৃত্বকে এগিয়ে আসতে হবে। সৎ সাহিত্য ও সৎ সাংবাদিকতার জন্য প্রয়োজন সততার মৌসুমী হাওয়া প্রবাহিত করা। তাহলেই সমাজের সাহিত্য, সংস্কৃতি, আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক সর্বাঙ্গে ফলবে কল্যাণের সোনালী ফসল। সুখ-শান্তিতে থাকবে দেশের মানুষ। এ জন্য প্রয়োজন নবুয়তী ধারার সিক্ত সাংবাদিকতা।

ইতিহাস বলছে, হযরত ইউসুফের পাঠানো সংবাদ দৃষ্টি ফিরে পেতে সাহায্য করেছিলো হযরত ইয়াকুবের। কুরআনের ভাষায় ‘ফারতাদ্দা বাছিরা’। দেশের মানুষ আজ এ ধরনের সংবাদ বাহকের অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে। যে সাংবাদিকতায় থাকবে মানুষের চির কল্যাণের পথ এবং থাকবে নবুয়তী আলোর দীপ্ত পরশ।