প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাগরের নীচে হাইড্রেলিক ভাল্ব অকেজো হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ

শাহীন চৌধুরী: এলএনজি সরবরাহ বন্ধ থাকায় সারা গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এর কারন অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাসমান টার্মিনাল ও সমুদ্র তলদেশের পাইপলাইনের মধ্যবর্তী সংযোগস্থলের হাইড্রোলিক ভাল্বটি অকার্যকর হয়ে গেছে। ফলে পাইপলাইনে গ্যাস আসছে না বলে জিটিসিএল সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে এই সমস্যার কারনে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের পাশাপাশি রাজধানীতেও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। রাজধানীর উত্তরা, আজিমপুর, পান্থপথ, রামপুরা, বনশ্রী, মিরপুরসহ পুরনো ঢাকায় দিনের বেলা গ্যাসের চাপ এত কম যে, রান্নাই করা যাচ্ছে না। জানা গেছে, মহেশখালীর ভাসমান টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ শুরু করতে আরও প্রায় ১০দিন সময় লাগতে পারে। এরফলে এই দশদিন রাজধানীতে আবাসিক ও শিল্পে গ্যাস সংকট থাকবে।এলএনজি সরবরাহ শুরু হলে ভোগান্তি কমে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এ বিষয়ে আরপিজিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, এলএনজি সরবরাহ ১৫ তারিখের দিকে ঠিক হয়ে যাবে। তিনি বলেন, অকার্যকর হয়ে যাওয়া হাইড্রোলিক ভাল্বটি ৪০ মিটার পানির নিচে পাইপলাইনের মধ্যে আছে। অভিজ্ঞ লোক ছাড়া মেরামত সম্ভব নয়। তাই এই কাজের জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সামিটের ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের জন্য যারা এখন মহেশখালীতে কাজ করছেন, তাদের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। তাদের ডুবুরি রয়েছে। এই কাজের জন্য বিশেষায়িত জাহাজ প্রয়োজন। সেটিও বর্তমানে মহেশখালীতে রয়েছে।

সূত্র জানায়, পাইপলাইনের ভেতরে খোলা-বন্ধের যে জায়গাটি, সেখানে হাইড্রোলিক ফ্লুয়িড থাকে। ফ্লুয়িড বের হয়ে গেছে। এ কারণেই ভাল্বটি কাজ করছে না। এমনিতে পাইপলাইনে কোনও সমস্যা নেই। কাজ খুব বেশি নয়। মাটির ওপরে থাকলে আধা ঘণ্টায়ই শেষ করা সম্ভব ছিল। কিন্তু সাগরের নিচে হওয়ায় সময় একটু বেশি লাগবে। এছাড়া আবহাওয়ার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যদি কোনও কারণে এই বিশেষজ্ঞ দলটি এই মেরামতের কাজ শেষ করতে না পারে, তাহলে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ দল আনতে হবে। ব্যাকআপ হিসেবে সিঙ্গাপুর থেকে একটা টিম আনার কথা হচ্ছে। তবে সেক্ষেত্রে সময় আরও বেশি লাগতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা করছেন।

গত ১৮ আগস্ট থেকে পাইপলাইনে এলএনজির বাণিজ্যিক সরবরাহ শুরু হয়। এর আড়াই মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো গত শনিবার পাইপলাইনের নতুন করে এই ত্রুটি দেখা দেয়। এতে জাতীয় গ্রিডে ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে।
এ বিষয়ে তিতাস-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, এলএনজির কারণে কিছুটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে তা খুব বেশি নয়। আমরা সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছি। বিদ্যুতে সরবরাহ কমিয়ে অন্য খাতগুলোয় সরবরাহ ঠিক রাখার চেষ্টা করছি।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে তিতাস দেশের মোট ১৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস সরবরাহ করে। এরমধ্যে বর্তমানে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ