প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজধানীতে আনসার-আল-ইসলামের ৮ সদস্য গ্রেফতার

সুজন কৈরী: রাজধানীর পল্লবীর মিরপুর ডিওএইচএস থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন আনসার-আল-ইসলামের ৮ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. সাফ ওয়ানুর রহমান (৩৪), সুলতান মাহমুদ (২৫), মো. নজরুল ইসলাম (৩৮), মো. আবু তাহের (৩৬), মো. ইলিয়াস মৃধা (৩০), মো. আশরাফুল আলম (২৪), হাসনাইন (৩০) ও মো. কামরুল (২৮)। তাদের কাছ থেকে নগদ ১৪ লাখের বেশি টাকা, ল্যাপটপ, সিপিইউ, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই ও মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার দিবাগত রাতে মিরপুর ডিওএইচএসের ৯নম্বর রোডের ৬৪৪নম্বর বাড়ির ৫ম তলায় অবস্থিত স্মল কাইন্ডনেস বাংলাদেশ (এসকেবি) নামক একটি এনজিও অফিস থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

সিটিটিসি সূত্র জানায়, এসকেবি এনজিওটির অফিসের কার্যক্রম আনসার-আল-ইসলামের মতাদর্শের অনুসারীদের দিয়ে পরিচালিত হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে এনজিও ভিত্তিক হিউম্যানিটারিয়ান ওয়ার্কের ছদ্মবেশে এনজিওর সদস্যরা জঙ্গিবাদে অর্থায়ন ও রোহিঙ্গা শরনার্থীদের মধ্যে উগ্রবাদের প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে।

গত আগস্ট মাসে এনজিও ব্যুরো কর্তৃক জঙ্গিবাদে অর্থায়ন ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যপরিচালনার অপরাধে রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে এই এনজিওটির কর্মকান্ড নিষিদ্ধ করা হয়। এনজিওটি পাকিস্তান, তুরস্ক, ফিলিপাইন, কানাডা, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ইসলাম ভিত্তিক সংস্থা থেকে অনুদান সংগ্রহ করে থাকে।

এছাড়াও দেশে ও বিদেশে হিসাব বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদানের নামে অর্থ সংগ্রহ করে। সূত্র আরো জানায়, পাকিস্তান ভিত্তিক সংগঠন আল খিদমত ফাউন্ডেশন এনজিও এসকেবির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিবিরে নির্বিঘেœ জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড চালাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, আল খিদমত ফাউন্ডেশন জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা ও লস্কর-ই-তইয়েবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা ও এনজিওটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠনের সমর্থন পুষ্ট। তারা এনজিও’র কার্যক্রমের আড়ালে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিভিন্ন কৌশলে সরকার বিরোধী প্রচারণা, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন ও রোহিঙ্গাদের প্ররোচিত করে দেশের অভ্যন্তরে সক্রিয় আনসার-আল-ইসলামের বিভিন্ন কর্মকান্ডে অর্থায়ন করে।

এছাড়াও, তারা রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবির থেকে তাদের সংগঠনের জন্য সদস্য সংগ্রহের কাজ করত। সদস্য সংগ্রহ করে নাশকতামূলক কাজের মাধ্যমে সরকারকে অকার্যকর করা ও দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার পরিকল্পনা ছিল তাদের।