প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পরাজয় নয়, যে বিজয় বাংলার

 – মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ –
১. জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করে বিজয়ের আনন্দে বাংলাদেশ আনন্দের বন্যায় যখন ভেসে যাচ্ছিল ঠিক তখনই টেষ্টে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বাংলার মাটিতে ‘বাজে খেলে’ হরিষে বিষাদ নিয়ে আসলো টাইগারেরা ।মানুষের জীবনের সাথে ক্রিকেট খেলার অদ্ভুত মিল আছে । মানুষের জীবনে সাফল্য যেমন রাতারাতি আসে না বরং নিরনন্তর প্রচেষ্টা ,সাধনা ,উত্থান – পতনের পর্যায়ক্রম ধারা পেরিয়ে এসেই মানুষকে সাফল্যের বরমাল্য পড়ায় । ক্রিকেটও তেমন। মাত্র তিন দশক আগে বাংলাদেশের ক্রিকেট শুধু অস্তিত্বের নূন্যতম ঠিকানা খুঁজে পেতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে হয়েছিল। অথচ ,আজ বিশ্বের সকল ক্রিকেট খেলুড়ে দেশকে অন্তত একবার করে হারানোর স্বাদ পেয়েছে বাংলা নামের এই জনপদটি। সেই বিবেচনায় বাংলাদেশের ক্রিকেটে মাত্র তিন দশকে বিশ্ব জয় করেছে।
২.টেস্ট খেলুড়ে হিসেবে জিম্বাবুইয়ের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে অনেক প্রাপ্তির ইতিহাসনামা লেখা আছে। এমন কি বাংলাদেশের সাথে টেস্ট খেলাতেও তাদের সাফল্যের পাল্লাও অনেক ভারী হলেও শুধু খতিয়ানের বিশাল ফিরিস্তিই নয়,নেপথ্যের অনেক জানা অজানা কারণেও বাংলারই জয় হয়েছে বলা যায় ।
৩.আজ থেকে প্রায় অর্ধদশক আগে ‘মুস্তাফিজ’ নামের বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক কিশোর বৃহত্তর পরিম-লে খেলবার ডাকে হরতালকে উপেক্ষা করে ভাইয়ের সাইকেলের আরোহী হয়ে শত কিলোমিটার পারি দিয়ে যখন ঢাকার মাটিতে পৌঁছাল তখনই বাংলার জয় হয়ে গেছে। হাতে তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে ,চিকিৎসকের নিষেধাজ্ঞা স্বত্বেও দেশ মাতৃকার সন্মানের কথা অগ্রগণ্যতায় নিয়ে সাকিব আল হাসান যখন ঊষর মরুতে খেলতে নামেন তখনও বাংলাদেশের ললাটে বিজয়টীকা লেখা হয়ে গেছে।
৪. বাংলাদেশ থেকে রাতারাতি উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া দুই খেলোয়ার ইমরুল কায়েস এবং সৌম্য সরকার জেট ল্যাগকে দাঁতে দাঁত চিপে মরূর আগুন গরম আবহাওয়ায় খেলে বিজয়কে ছিনিয়ে এনেছে তখনই বাংলার জয় হয়ে গেছে। সৌম্য সরকার ,লিটন দাশকে ‘সাব স্ট্যান্ডার্ড’ খেলোয়াড় হিসেবে তাদের দিকে শত শত দুয়োধ্বনি দিয়ে মনোবল ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল তখনই তাঁরা ঘুরে দাঁড়িয়েছেন আপন মহিমায়, প্রমাণ করেছেন বাংলার ক্রিকেট টিম হারেনি। বখতিয়ারের ঘোড়ার মত টগবগিয়ে বিজয় নিশান উড়িয়ে যাচ্ছিলেন ক্যাপ্টেন মাশরাফি। বন্ধুর পথে চলবার সময় ক্যাপ্টেনসির দু-একটি সিদ্ধান্ত নিয়ে সোশাল মিডিয়া নেতিবাচক কথাবার্তায় সয়লাব হয়ে গিয়েছিল । আমাদের ছুড়ির মত জিহবা থেকে উচ্চারিত উৎকট শব্দ থেকে মাশরাফির পরিবারের সদস্যরাও মুক্তি পায়নি। না, সবাই দেরিতে হলেও বুঝতে পেরেছে মাশরাফিই বখতিয়ারের ঘোড়ার সঠিক ঘোর সওয়ার। তাই ,জিম্বাবুইয়ের সাথে একটি খেলার ফলাফলে নয় বরং বোলিং – ফিল্ডিং – ব্যাটিং সর্বোপরি টিম ওয়ার্কে বাংলার পরাজয় নয় ,বিজয়ই হয়েছে। – মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ,
উপ অধিনায়ক, আর্মড ফোর্সেস ফুড এন্ড ড্রাগস ল্যাবরটরি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ