প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘নতুন কোনো চলচ্চিত্রে আর দেখা যাবে না প্রবীর মিত্রকে’

মহিব আল হাসান : বাংলা চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতার মধ্যে একজন অভিনেতা প্রবীর মিত্র। বাংলা চলচ্চিত্রে চার দশক অভিনয় করে দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। সেই স্কুল জীবনের প্রহরী চরিত্র থেকে আজকের প্রবীর মিত্র। জীবনের কোনো চরিত্রে অভিনয় করতে বাদ রাখেননি তিনি। তবে জীবনের ৭৮তম বছর এসে আর অভিনয় জীবনের সাথে নিজেকে নিয়ে কাজ করতে পারছেন না তিনি। তবে রূপালী পর্দায় হয়তো তিনি আর কোনো দিন নতুন কোনো সিনেমায় তাকে দেখতে পারবেন না দর্শকরা। বর্তমানে প্রবীণ এই অভিনেতার সময় কাটছে তার ঘরে। অসুস্থার কারণে ঘরের বাহিরে যেতে পারেন না তিনি।

প্রায় এক বছর যাবৎ ভাড়া বাসায় তার সময় কাটছে একাকী। দুই হাঁটুর ক্ষয় (আর্থোপেডিক্স) এর কারণে হাটতে পারেন না। লাঠিতে ভর করে খুড়ে খুড়ে এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাতায়াত করেন। চিকিৎসার মাধ্যমে এই সম্যার সমাধান হবে কী না জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘হাঁটুর টিস্যুগুলোও দুর্বল হয়ে গেছে। এ কারণে হাঁটতে পারি না। হাড়ের ক্ষয় কখনও ঠিক হয় না। এভাবেই বাকী জীবন চলতে হবে। কখনও এটি স্বাভাবিক হবে না। আর এ জন্য আমার আর কোনো নতুন ছবিতে কাজ করা হবে না। তবে চিকিৎসার মাধ্যেমে পায়ের ব্যথা নিরাময় হলেও কোনোদিনই আর স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে পারবেন না তিনি।

হাঁটুর ক্ষয় এর বিষয়ে প্রবীর মিত্র আমাদের সময় ডট কমকে বলেন, ‘মূলত বেশি পরিমাণ ক্রিকেট ফুটবল খেলার কারণে আমার এ হাড়ের ক্ষয় হয়েছে। এই কারণে আমার দুই পায়ে ব্যাথা আর ক্ষয়ের সৃষ্টি হয়েছে। শুটিং সম্পর্কে বলেন, শুটিং এখন আমার কাছে অতীত। আর কোনো দিন আমি শুটিং করতে পারব না। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেয়ে যাচ্ছি। এভাবেই হয়তো কাটবে আমার বাকি জীবন।’

কীভাবে দিন কাটছে জানতে চাইলে তিনি জানান, ‘সকাল ৬টায় ঘুম থেকে ওঠে ফ্রেস হয়ে ড্রোয়িংয়ে এসে বসে টেলিভিশন দেখি। দুপুরে বিশ্রাম করি। বিকেলে আবারও একাকিত্বর মতোন টেলিভিশন দেখি সময় কেটে যায়। এ ভাবে আমার প্রতিদিন কাটতে হচ্ছে।

শুটিংয়ের সময়গুলো মনে করতে চান না জানিয়ে প্রবীর মিত্র বলেন, ‘আসলে সেই সময়গুলো তো স্বপ্নের সময়। এখন আর সেগুলো নিয়ে চিন্তা করি না, মন খারাপ হবে। এ ছাড়া এখন আর তেমন কাজ হচ্ছে না যে কাজ করতে না পারার জন্য মন খারাপ হবে। আমার মতো চলচ্চিত্রও অসুস্থ। সময় নষ্ট ছাড়া কিছুই হচ্ছে না এখন।’

সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুলের একটি অনুষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প ‘ডাকঘর’ এ প্রহরীর চরিত্রে দিয়ে অভিনয় শুরু করেন প্রবীর মিত্র। এইচ আকবর পরিচালত ‘জলছবি’ ছবিতে চিকিৎসকের চরিত্রের মধ্যে দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে সূচনা হয় তাঁর। এরপর একই পরিচালকের ‘জীবন তৃষ্ণা’ ছবিতে মূল চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছেন ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘চাবুক’, ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’সহ বেশ কিছু চলচ্চিত্রে। প্রবীর মিত্রের স্ত্রী অজন্তা ২০০০ সালে মারা গেছেন। প্রবীর মিত্রের এক মে ও তিন ছেলে।