প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘নির্বাচন কমিশনের তাড়াহুড়া উদ্বেগজনক’

অনলাইন ডেস্ক : সরকার ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মধ্যকার সংলাপে কার্যকর কোনো অগ্রগতি না হওয়া এবং প্রধানমন্ত্রীর সাংবাদিক সন্মেলন বাতিলের পটভূমিকায় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের তাড়াহুড়া উদ্বেগজনক। অতীতে নির্বাচন কমিশন কখনোই এত দ্রুততার সঙ্গে তফসিল ঘোষণা করেনি এবং এই নিয়ে এতটা উৎসাহ দেখায় নি।

৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা শুরু হবার কমপক্ষে ২৫ দিন পরে তফসিল ঘোষনা করা হয়। ১৯৯৬ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বাধ্যবাধকতার সূচনা হয় ২১ মার্চ, কিন্ত তফসিল ঘোষনা করা হয় ১৭ এপ্রিল।

২০০১ সালে সময় নেয়া হয়েছিলো ৩৫ দিন। ২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা এবং বিরোধী দলের আন্দোলন স্বত্বেও ৯০ দিনের সময়সূচী শুরুর ৩০ দিন পরে তারিখ ঘোষনা করা হয়। এখন এমন কি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে নির্বাচন কমিশনের মনে হচ্ছে এখনই অর্থাৎ বাধ্যবাধকটা শুরুর এক সপ্তাহ না যেতেই তারিখ ঘোষণা করতে হবে? তদুপরি সারা দেশে বিরোধী কর্মীদের ধরপাকড় শুধু যে অব্যাহতই আছে তা নয়, তা আরো বেড়েছে বলেই সংবাদপত্রের সূত্রে জানা যাচ্ছে।

গায়েবি মামলাও বন্ধ হচ্ছে না। বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে নাজিম উদ্দিন রোদের পুরনো কারাগারে স্থাপিত আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখান থেকে তাঁকে হাসপাতালে ফেরত আনা হবেনা বলেও জানা গেছে। এই ঘটনা প্রবাহের মধ্যে রাজনৈতিক সংকট আরো ঘনীভূত হবারই ইঙ্গিত পাওয়া যায় এবং সকলের অংশগ্রহনমূলক, গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও অবাধ একটি নির্বাচন নিয়ে সংশয় আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তফসিল ঘোষনা পরিস্থিতিকে কেবল জটিলই করবে না, অনাকাঙ্ক্ষিত পথের দিকেই ঠেলে দেবে। আশা করি নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা বুঝতে পারবেন যে সেই পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তাঁর দায়-দায়িত্ব তাঁদের কাঁধেই পড়বে।

লেখক পরিচিতি : অধ্যাপক আলী রিয়াজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ