প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘এই ঐক্যফ্রন্ট লইয়া আমরা কী করিবো?’

বাপ্পী রহমান, চীন থেকে: শহরে ‘ঐক্যফ্রন্ট’ নামক নতুন এক বস্তু চাউড় হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. কামাল হোসেন। যদিও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. হারুন-অর-রশিদ ঐক্যফ্রন্টকে বিএনপির পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে অভিহিত করেছেন। গত কয়েক দিনের ঘটনা প্রবাহে তা প্রতীয়মানও হয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নামে বিএনপি ও তার দোসর খুনি ও সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসন কেন্দ্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. কামাল হোসেন। অথচ তিনি বলতেন ‘নষ্ট রাজনীতি দেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে’। আর এখন তিনি ওই নষ্ট রাজনীতির নব্য কান্ডারি হিসেবে ঐক্যফ্রন্ট করেছেন। ড. কামাল হোসেন বলেছেন, তিনি কোনো পদ-পদবি নেবেন না, তাহলে কে তাদের নেতা হবেন? ঐক্যফ্রন্টে বিএনপির লোকই বেশি। তাহলে তাদের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? কারান্তরীণ বেগম খালেদা জিয়াই কি তাদের নেতা হবেন? এসব প্রশ্নের উত্তর সময়ের কাছে ছেড়ে দিলাম। ড.কামাল হোসেন নিজেকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন অনুসারী দাবি করেন।

অথচ বিবিসির সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি ফারুক-রশিদ সুস্পষ্টভাবে বলেছে, মোশতাক ষড়যন্ত্র করে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছে। এই হত্যাকা-ের ষড়যন্ত্রের কথা তারা জিয়াকে জানিয়েছিলো। বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের ষড়যন্ত্রে জিয়ার পূর্ণ সমর্থন পাওয়ার কথা রশিদ-ফারুকরা বলেছে। জিয়া সেনাপ্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধু হত্যাকা-ের আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। বরং রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে বৈধতা দিয়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িত অপরাধীর দায়মুক্তি দিয়েছেন। ড. কামাল হোসেনের এখন ঐক্য জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপির সাথে।

১৫ আগস্টের পর এই দেশে ২১ আগস্ট এসেছিলো। উদ্দেশ্য ছিলো বঙ্গবন্ধুর রেখে যাওয়া পবিত্র আমানত শেখ হাসিনাকে হত্যা করা। স্রষ্টা সহায় ছিলেন। নেতা-কর্মীরা মানববর্ম তৈরি করে তাদের প্রিয় নেতাকে আগলে রেখেছিলেন। এমন ঘটনা ইতিহাসে বিরল। ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার মাস্টার মাইন্ড হলো বিএনপি। ড.কামাল হোসেনের ঐক্য সেই বিএনপির সাথে।

ঐক্যফ্রন্টে আছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। নানা ঘাটের জল খেয়ে যিনি এখন নিজেই এক ঘাটের মালিক। অবশ্য বাংলাদেশের কনটেক্সে ‘ঢাল নেই তলোয়ার নেই নিধিরাম সর্দার’। একসময় তিনি সাদেক হোসেন খোকাকে ফোন করে অভয় দিয়েছিলেন ‘ভেঙে পড়া যাবে না’। সাথে বলেছিলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়কে ধরতে হবে অ্যাট অ্যানি কস্ট’, ইউনিভার্সিটিতে ধরেন মারামারিতে গেলো দুই-তিনটা। কী করা যাবে? কিন্তু আপনারা গভর্মেন্টকে শেইক করে ফেলবেন’।

ড. কামাল হোসেনের এই ঐক্য হতাশাজনক। যারা অগ্নি সন্ত্রাস করে এবং মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করে, যারা মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত, যারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, এতিমের টাকা আত্মসাৎকারী তাদের সাথে ঐক্য করেছেন ‘আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী’। নাম দিয়েছেন ‘ঐক্যফ্রন্ট’। এখন প্রশ্ন ‘এই ঐক্যফ্রন্ট লইয়া আমরা কী করিবো?’

লেখক : গবেষক ও শিক্ষক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়