প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পলিটিক্স ও পল্টিবাজ পলিটিশিয়ান

সৈয়দ জাহিদ হাসান : একজন পলিটিশিয়ান একটি জাতি তথা রাষ্ট্রের পরিচালক ও দিক-নির্দেশক। একটি জাতি কোন দিকে যাবে, কী হবে তার ভবিষ্যৎ-জীবন সেসব কিছু নির্ভুলভাবে পরিচালনা করাই পলিটিশিয়ানের একমাত্র কাজ। নেতৃত্বদানের সঙ্গে প্রজ্ঞা, মৌলিক-চিন্তা, আদর্শ-লালন, দেশপ্রেম, মানবপ্রেম এই শব্দগুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু বাংলাদেশের বেশিরভাগ পলিটিশিয়ানই প্রজ্ঞাহীন, আদর্শহীন, দেশদ্রোহী। বাংলাদেশের পলিটিক্সে পল্টিবাজি খেলা নিত্যকার ব্যাপার। একটি সুনির্দিষ্ট আদর্শকে ধারণ করে পলিটিক্স করেন এমন নেতা-নেত্রীর সংখ্যা এ দেশে একেবারেই নগণ্য। এদেশের অনেক প্রবীণ নেতার অতীতই কলঙ্কের কালিতে ঢাকা। অনেক নেতাই তার নিজ দলের সঙ্গে বেঈমানী করেছেন, নিজের দল ভাঙার চেষ্টা করেছেন, সুযোগ বুঝে নিজেই দলীয় প্রধান হতে চেয়েছেন অথবা তাতে ব্যর্থ হয়ে নিজেই তৈরি করেছেন নামসর্বস্ব নতুন দল। বাংলাদেশের ছোট ছোট দলগুলোতে এতো বড় বড় নেতা আছেন যে সেসব দলে কর্মীদের জায়গা হওয়া কঠিন। দাঁড়াবার স্থান না পেয়ে কর্মীরা অন্যখানে চলে যান। বড় নেতা একাই দল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। বৃক্ষহীন ধু ধু প্রান্তরে একটি মাত্র বটগাছ দাঁড়িয়ে থাকলে যেমন দেখায় বাংলাদেশের অনেক দলের দলীয় প্রধানের দশা ওই একাকী বটবৃক্ষের মতো। বাংলাদেশের পলিটিক্স ধ্বংসের জন্য পল্টিবাজ নেতারাই দায়ী বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ আছে। এ দেশের পলিটিক্স নষ্ট করার জন্য দুর্নীতিবাজ, স্বার্থলোভী, ক্ষমতাপ্রিয়-দাম্ভিক পলিটিশিয়ানরাই জড়িত। পল্টিবাজরা ছদ্মবেশী। এরা কখনো গণতন্ত্র, কখনো একনায়কতন্ত্র, কখনো সামরিকতন্ত্রের পূজারি অর্থাৎ যখন যেখানে গেলে সুবিধা পাওয়া যায় সেখানে গিয়েই ছাতা ধরার চেষ্টা করে। এদের দেখি আর ভাবি এরা এত কুৎসিত কেন? এতো আবর্জনা কেন এদের চোখে-মুখে, এরা এতো অস্বভাবী, সঙ্ঘহীন, সুযোগসন্ধানী কেন?

সামনেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই নির্বাচন ঘিরে প্রতিদিনই কোনো না কোনো কৌতুক, প্রহসন অভিনীত হচ্ছে রাজনৈতিক মঞ্চে। মানুষ খুবই আগ্রহ নিয়ে রাজনৈতিক কৌতুকাভিনয় উপভোগ করছেন। এই কৌতুকাভিনয় শেষ হওয়ার পর জনগণ বৃদ্ধাঙ্গুলের একটি করে ছাপ দেওয়ার সুযোগ পাবে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা-অভিনেত্রী নির্বাচন করার। বৃদ্ধাঙ্গুলের ছাপ খুবই মূল্যবান। বৃদ্ধাঙ্গুলের ছাপে হয় কিছু পাওয়া যায়, নয়তো সবকিছু খোয়া যায়। বাংলাদেশের মানুষ যদি ভুলক্রমে পল্টিবাজদের ছাপ দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তারা সর্বস্ব খোয়াবে বলেই মনে হয়। ‘আমার ভোট আমি দেবো, যাকে খুশি তাকে দেবো’ এই ফালতু স্লোগান মন থেকে মুছে ফেলতে হবে। সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক মানুষকে ভোট দিয়ে সুখী-সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ গড়তে আগামী নির্বাচনে সতর্কতার সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশের মানুষ সঠিক প্রার্থীকে ভোট দিতে জানে না। আশা করি আগামী নির্বাচনে অসাম্প্রদায়িক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনালালনকারী, শান্তি ও উন্নয়নকামী বাঙালি এই প্রচলিত কথা ভুল প্রমাণ করে দেখিয়ে দেবে।

লেখক : কবি ও কথাশিল্পী

ংুবফলধযরফযধংধহ২৯@মসধরষ.পড়স